১২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামে হিজাব পরা অপরিহার্য নয়: ভারতীয় হাইকোর্ট

ইসলামে হিজাব পরা অপরিহার্য নয় বলে মন্তব্য করেছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হেডস্কার্ফ বা হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন এক ছাত্রী। তার ওই আবেদন খারিজ করে আদালত এ মন্তব্য করেন।

আদালত বলেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী অতিরিক্ত কোনো পোশাক বা পোশাকের অংশ যোগ করার অধিকার শিক্ষার্থীর নেই।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির উত্তর প্রদেশ রাজ্যের প্রয়াগরাজের একটি বেসরকারি স্কুলের ওই ছাত্রী অপ্রাপ্তবয়স্ক। সে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল পরীক্ষা পাস করেছে এবং একই প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চায়। ছাত্রীটি তার মায়ের মাধ্যমে আদালতে আবেদন করে। আবেদনে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়, যাতে নির্ধারিত স্কুল ইউনিফর্মের সঙ্গে তাকে হেডস্কার্ফ পরার অনুমতি দেওয়া হয়।

আবেদনে বলা হয়, হিজাব পরা ইসলামের একটি অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন। একই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সে হিজাব পরে আসছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে বিচারপতি জেজে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

আদালত বলেছে, আমরা আবেদনকারীকে বিভিন্ন শ্রেণিতে দেখা যায়—এমন ছবিগুলো দেখেছি। আবেদনকারী ছাড়া অন্য কোনও ছাত্রীকে হিজাব পরতে দেখা যায়নি। এমনকি তার একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্য ছাত্রীরাও হিজাব পরে না। যেখানেই এই বিষয়টি উঠেছে, সেখানেই হাইকোর্টগুলো একমত হয়েছে যে নারীর হিজাব পরা ইসলামের এমন কোনও অপরিহার্য অংশ নয়, যা না পরলে তার ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

২১ আগস্ট দেওয়া রায়ে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বলেছে, রিট আবেদনে হিজাব পরাকে অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে কোনও সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই।

আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো স্কুলের ইউনিফর্ম নীতি যদি ন্যায্য, বৈষম্যহীন এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সমতা বজায় রাখার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধি কার্যকর করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনো অনুদানবিহীন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার ক্যাম্পাসে নিজস্ব নির্ধারিত ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করতে পারে। শিক্ষার্থীদের সেই নির্ধারিত ইউনিফর্ম মেনে চলতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে কেউ ইউনিফর্মের সঙ্গে হেডস্কার্ফ যুক্ত করার অনুমতি দাবি করতে পারে না।

আদালত আরও ব্যাখ্যা করেছে, কোনো স্কুলে যদি সব শিক্ষার্থীর জন্য একই ইউনিফর্ম প্রযোজ্য হয়, তাহলে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে একজন শিক্ষার্থীকে ইউনিফর্ম পরিবর্তন বা এড়িয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে ‘ইউনিফর্ম’-এর মূল ধারণাটিই নষ্ট হয়ে যাবে। এর ফলে স্কুলের শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধি নির্ধারণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত শিক্ষার্থীর হাতে চলে যাবে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে, এটি একটি বেসরকারি ও স্বনির্ভর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সেখানে সব শিক্ষার্থীর জন্য একই পোশাকবিধি রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের শিশুরা সেখানে পড়াশোনা করে। স্কুলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, একজন শিক্ষার্থীকে ইউনিফর্মের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পোশাকের একরূপতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই মামলায় রাজ্য সরকার এবং সিবিএসইও ওই ছাত্রীর আবেদনের বিরোধিতা করেছে। ফলে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে মূল অবস্থানটি হলো, সমানভাবে প্রযোজ্য এবং বৈষম্যহীন স্কুল ইউনিফর্ম নীতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে আলাদা পোশাক যুক্ত করার কোনো স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার শিক্ষার্থীর নেই।

ডিএস./

ট্যাগ :

ইসলামে হিজাব পরা অপরিহার্য নয়: ভারতীয় হাইকোর্ট

প্রকাশিত : ১২:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামে হিজাব পরা অপরিহার্য নয় বলে মন্তব্য করেছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হেডস্কার্ফ বা হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন এক ছাত্রী। তার ওই আবেদন খারিজ করে আদালত এ মন্তব্য করেন।

আদালত বলেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী অতিরিক্ত কোনো পোশাক বা পোশাকের অংশ যোগ করার অধিকার শিক্ষার্থীর নেই।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির উত্তর প্রদেশ রাজ্যের প্রয়াগরাজের একটি বেসরকারি স্কুলের ওই ছাত্রী অপ্রাপ্তবয়স্ক। সে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল পরীক্ষা পাস করেছে এবং একই প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চায়। ছাত্রীটি তার মায়ের মাধ্যমে আদালতে আবেদন করে। আবেদনে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়, যাতে নির্ধারিত স্কুল ইউনিফর্মের সঙ্গে তাকে হেডস্কার্ফ পরার অনুমতি দেওয়া হয়।

আবেদনে বলা হয়, হিজাব পরা ইসলামের একটি অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন। একই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সে হিজাব পরে আসছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে বিচারপতি জেজে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

আদালত বলেছে, আমরা আবেদনকারীকে বিভিন্ন শ্রেণিতে দেখা যায়—এমন ছবিগুলো দেখেছি। আবেদনকারী ছাড়া অন্য কোনও ছাত্রীকে হিজাব পরতে দেখা যায়নি। এমনকি তার একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্য ছাত্রীরাও হিজাব পরে না। যেখানেই এই বিষয়টি উঠেছে, সেখানেই হাইকোর্টগুলো একমত হয়েছে যে নারীর হিজাব পরা ইসলামের এমন কোনও অপরিহার্য অংশ নয়, যা না পরলে তার ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

২১ আগস্ট দেওয়া রায়ে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বলেছে, রিট আবেদনে হিজাব পরাকে অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে কোনও সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই।

আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো স্কুলের ইউনিফর্ম নীতি যদি ন্যায্য, বৈষম্যহীন এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সমতা বজায় রাখার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধি কার্যকর করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনো অনুদানবিহীন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার ক্যাম্পাসে নিজস্ব নির্ধারিত ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করতে পারে। শিক্ষার্থীদের সেই নির্ধারিত ইউনিফর্ম মেনে চলতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে কেউ ইউনিফর্মের সঙ্গে হেডস্কার্ফ যুক্ত করার অনুমতি দাবি করতে পারে না।

আদালত আরও ব্যাখ্যা করেছে, কোনো স্কুলে যদি সব শিক্ষার্থীর জন্য একই ইউনিফর্ম প্রযোজ্য হয়, তাহলে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে একজন শিক্ষার্থীকে ইউনিফর্ম পরিবর্তন বা এড়িয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে ‘ইউনিফর্ম’-এর মূল ধারণাটিই নষ্ট হয়ে যাবে। এর ফলে স্কুলের শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধি নির্ধারণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত শিক্ষার্থীর হাতে চলে যাবে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে, এটি একটি বেসরকারি ও স্বনির্ভর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সেখানে সব শিক্ষার্থীর জন্য একই পোশাকবিধি রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের শিশুরা সেখানে পড়াশোনা করে। স্কুলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, একজন শিক্ষার্থীকে ইউনিফর্মের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পোশাকের একরূপতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই মামলায় রাজ্য সরকার এবং সিবিএসইও ওই ছাত্রীর আবেদনের বিরোধিতা করেছে। ফলে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে মূল অবস্থানটি হলো, সমানভাবে প্রযোজ্য এবং বৈষম্যহীন স্কুল ইউনিফর্ম নীতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে আলাদা পোশাক যুক্ত করার কোনো স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার শিক্ষার্থীর নেই।

ডিএস./