০১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি টাইগারদের

শারজায় সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। নাইম শেখ আর মুশফিকুর রহিমের জোড়া ফিফটিতে ভর করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪ উইকেটে ১৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে টাইগাররা।

নাইম ৫২ বলে ৬২ করে আউট হলেও মুশফিক ৩৭ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।

ম্যাচের শুরুতে টস ভাগ্য কথা বলেনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হয়ে। লঙ্কানদের নেওয়া সিদ্ধান্তে আগে ব্যাট করতে হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। কন্ডিশন বিবেচনায় তাসকিন আহমেদের পরিবর্তে একাদশে ফেরেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ।

লঙ্কানদের বিপক্ষে ইনিংস শুরু করতে নেমে দেখেশুনে খেলতে থাকেন লিটন দাস ও নাঈম শেখ। ব্যাট হাতে ভালোই এগোচ্ছিলেন দুজন। যখন মনে হচ্ছিল পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারে কোন উইকেট হারাচ্ছে না টাইগাররা, তখনই বাধে বিপত্তি। কুমারার করা ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের পাঁচ নম্বর বলটি মিড অফ দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে শানাকার হাতে ধরা পড়েন লিটন।

১৬ বলে ১৬ রান করে যখন লিটন মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসছিলেন, তখনই তার কাছে গিয়ে কিছু একটা বলে বসলেন কুমারা। জবাব এলো লিটনের পক্ষ থেকেও। এরপর লেগে গেলো ধাক্কাধাক্কি। নাঈম শেখ পেছন থেকে এসে কুমারাকে ধাক্কা দিয়ে সরালেন লিটনের কাছ থেকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দেখে শেষমেশ আম্পায়ারই ছুটে এসে থামালেন তিন জনকে। দুই দলের মাঠের লড়াইয়ে এমন চিত্র যেন ইদানিংকালের নিয়মিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে।

লিটনের আউটের ব্যাট হাতে নেমেই আগ্রাসী সাকিব আল হাসান। তবে মরুর দেশে সে ঝড় চললো না বেশিক্ষণ। ইনিংসের অষ্টম ওভারে করুণারত্নের লেগ স্টাম্প লাইনের উপর করা বলের লাইন মিস করেন সাকিব। বল সরাসরি আঘাত হানে স্টাম্পে। এই বাহাতি ব্যাটসম্যান ফেরেন ৭ বলে ১০ রান করে।

দুই উইকেট হারানোর পর ব্যাট হাতে স্বরূপে নাঈম, সঙ্গে যোগ দেন মুশফিকুর রহিম। দীর্ঘদিন রান খরায় ভোগা মুশফিক যেখানে বিধ্বংসী রূপ নেন, অপরপ্রান্তে দেখে খেলে রানের চাকা সচল রাখেন নাঈম। তাতে স্কোর বোর্ডে রান উঠতে থাকে টি-টোয়েন্টির গতিতেই। নিজের মতো খেলে, নিজের গতিতে ব্যাট করে চলতি বিশ্বকাপে আরেকটি ফিফটির দেখা পান নাঈম। কুমারাকে মাথার ওপর দিয়ে চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন ৪৪ বলে, ৪টি চারে। টি-টোয়েন্টিতে ২৫ ম্যাচে তার চতুর্থ ফিফটি এটি।

তবে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংটি বেশিদূর আর টানতে পারেননি নাঈম। বিনুরা ফার্নান্দোকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৬২ রানে। ৫২ বলের ইনিংসটি সাজান ৬টি চারের মারে। নাঈমের আউটে তৃতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে ৭৩ রানের পার্টনারশিপ। নাঈম সাজঘরে ফেরার পর আফিফ হোসেনকে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন মুশফিক। দুজনের চতুর্থ উইকেট পার্টনারশিপের মধ্যে ব্যক্তিগত ফিফটির স্বাদ মুশফিক। মাত্র ৩২ বলে আসে তার এই অর্ধশতক। ১১ ইনিংস ও প্রায় ২ বছর পর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পঞ্চাশ ছুঁলেন।

টি-টোয়েন্টিতে মুশফিকের ষষ্ঠ ফিফটির উদযাপনের পরেই রান আউটে কাটা পড়েন আফিফ হোসেন। সতীর্থরা যেখানে ব্যাট হাতে রানে ফেরার বার্তা দিয়েছেন, সেখানে ব্যর্থই বলতে হবে আফিফকে। ৬ বলে ৭ রান করে আউট হন এই তরুণ। মুশফিক অবশ্য পরে পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংসটি আরো বড় করতে পারেননি বলের অভাবে। ৩৭ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। যেখানে ৫টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান মুশফিক। সঙ্গে শেষদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৫ বলে ১০ রানের ইনিংসের কল্যাণে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রানের পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ দল। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ১৭২ রান।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেশে এসেছে ৪ লাখ ২২ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট

১৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি টাইগারদের

প্রকাশিত : ০৫:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১

শারজায় সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। নাইম শেখ আর মুশফিকুর রহিমের জোড়া ফিফটিতে ভর করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪ উইকেটে ১৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে টাইগাররা।

নাইম ৫২ বলে ৬২ করে আউট হলেও মুশফিক ৩৭ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।

ম্যাচের শুরুতে টস ভাগ্য কথা বলেনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হয়ে। লঙ্কানদের নেওয়া সিদ্ধান্তে আগে ব্যাট করতে হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। কন্ডিশন বিবেচনায় তাসকিন আহমেদের পরিবর্তে একাদশে ফেরেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ।

লঙ্কানদের বিপক্ষে ইনিংস শুরু করতে নেমে দেখেশুনে খেলতে থাকেন লিটন দাস ও নাঈম শেখ। ব্যাট হাতে ভালোই এগোচ্ছিলেন দুজন। যখন মনে হচ্ছিল পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারে কোন উইকেট হারাচ্ছে না টাইগাররা, তখনই বাধে বিপত্তি। কুমারার করা ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের পাঁচ নম্বর বলটি মিড অফ দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে শানাকার হাতে ধরা পড়েন লিটন।

১৬ বলে ১৬ রান করে যখন লিটন মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসছিলেন, তখনই তার কাছে গিয়ে কিছু একটা বলে বসলেন কুমারা। জবাব এলো লিটনের পক্ষ থেকেও। এরপর লেগে গেলো ধাক্কাধাক্কি। নাঈম শেখ পেছন থেকে এসে কুমারাকে ধাক্কা দিয়ে সরালেন লিটনের কাছ থেকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দেখে শেষমেশ আম্পায়ারই ছুটে এসে থামালেন তিন জনকে। দুই দলের মাঠের লড়াইয়ে এমন চিত্র যেন ইদানিংকালের নিয়মিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে।

লিটনের আউটের ব্যাট হাতে নেমেই আগ্রাসী সাকিব আল হাসান। তবে মরুর দেশে সে ঝড় চললো না বেশিক্ষণ। ইনিংসের অষ্টম ওভারে করুণারত্নের লেগ স্টাম্প লাইনের উপর করা বলের লাইন মিস করেন সাকিব। বল সরাসরি আঘাত হানে স্টাম্পে। এই বাহাতি ব্যাটসম্যান ফেরেন ৭ বলে ১০ রান করে।

দুই উইকেট হারানোর পর ব্যাট হাতে স্বরূপে নাঈম, সঙ্গে যোগ দেন মুশফিকুর রহিম। দীর্ঘদিন রান খরায় ভোগা মুশফিক যেখানে বিধ্বংসী রূপ নেন, অপরপ্রান্তে দেখে খেলে রানের চাকা সচল রাখেন নাঈম। তাতে স্কোর বোর্ডে রান উঠতে থাকে টি-টোয়েন্টির গতিতেই। নিজের মতো খেলে, নিজের গতিতে ব্যাট করে চলতি বিশ্বকাপে আরেকটি ফিফটির দেখা পান নাঈম। কুমারাকে মাথার ওপর দিয়ে চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন ৪৪ বলে, ৪টি চারে। টি-টোয়েন্টিতে ২৫ ম্যাচে তার চতুর্থ ফিফটি এটি।

তবে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংটি বেশিদূর আর টানতে পারেননি নাঈম। বিনুরা ফার্নান্দোকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৬২ রানে। ৫২ বলের ইনিংসটি সাজান ৬টি চারের মারে। নাঈমের আউটে তৃতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে ৭৩ রানের পার্টনারশিপ। নাঈম সাজঘরে ফেরার পর আফিফ হোসেনকে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন মুশফিক। দুজনের চতুর্থ উইকেট পার্টনারশিপের মধ্যে ব্যক্তিগত ফিফটির স্বাদ মুশফিক। মাত্র ৩২ বলে আসে তার এই অর্ধশতক। ১১ ইনিংস ও প্রায় ২ বছর পর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পঞ্চাশ ছুঁলেন।

টি-টোয়েন্টিতে মুশফিকের ষষ্ঠ ফিফটির উদযাপনের পরেই রান আউটে কাটা পড়েন আফিফ হোসেন। সতীর্থরা যেখানে ব্যাট হাতে রানে ফেরার বার্তা দিয়েছেন, সেখানে ব্যর্থই বলতে হবে আফিফকে। ৬ বলে ৭ রান করে আউট হন এই তরুণ। মুশফিক অবশ্য পরে পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংসটি আরো বড় করতে পারেননি বলের অভাবে। ৩৭ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। যেখানে ৫টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান মুশফিক। সঙ্গে শেষদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৫ বলে ১০ রানের ইনিংসের কল্যাণে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রানের পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ দল। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ১৭২ রান।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর