ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার প্রধান সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তপের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পৌরবাসি। দীর্ঘদিন যাবত নবীনগর সদরের প্রবেশ মুখে আবর্জনার কারণে এলাকাবাসির যেন দুর্ভোগের শেষ নেই। আবর্জনার বিষাক্ত বর্জ দূষিত করছে তিতাস নদীর পানিকে। দীর্ঘদিন যাবত ৫ নং ওয়ার্ডের পৌর কর্তৃপক্ষ এ ভাবে প্রকাশ্যে আবর্জনা ফেলে আসছে। এর জন্য পৌর প্রশাসনের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতাকে দোষারূপ করছে পৌরবাসি। বৃষ্টির সময় আবর্জনার পঁচা পানি পথচারীদের ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দেয়। এতে দুগন্ধের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এখানে বাজারের মাছ, মুরগির পঁচা নাড়িভুড়ি, নষ্ট সবজি, বাসাবাড়ির সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে যাত্রী সাধারণ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পথ চলা দায়। নবীনগর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত নবীনগর পৌরসভা খ শ্রেণি থেকে বর্তমানে ক শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এখনও যথাযথ উন্নয়নে পৌঁছতে পারেনি নবীনগর পৌর কর্তৃপক্ষ। ২০১৬ সালে নবীনগর পৌর এলাকার কনিকাড়া ব্রিজ সংলগ্ন ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ৩৬৫ শতক জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নবীনগর খাদ্য গুদামের কর্তৃপক্ষ বলেন, “আবর্জনার স্তপের জন্য আমারা নদীর ঘাটে নৌকা থেকে গুদামে মালামাল উঠানামা করার সময় দুর্গন্ধে শ্রমিকরা কাজ করতে পারে না। আমারা এ বিষয়টি আমাদের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি”। এ ব্যাপারে মাঝিকাড়া বাজারের ফার্ণিচার ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, “পৌরসভার ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে দোকানে বসে ব্যবসা করতে পারতেছি না, খুব বাজে দুর্গন্ধ। আমার মত সকল ব্যবসায়ীদের একই সমস্যা। পৌর মেয়র যদি অচিরেই তা স্থানান্তর করে এ দুর্গন্ধে বিভিন্ন রোগ-জীবাণু বাড়বে।”এ ব্যাপারে মাঝিকাড়া গ্রামের অটোরিক্সা চালক রমজান মিয়া বলেন, “ময়লার খারাপ গন্ধে আমরা অটো চালাইতে পারি না। আমরা গরিব মানুষ, মুখ খুইল্লা মেয়র, কমিশনারের বিরুদ্ধে কোন কথা কইবার পারি না, এই ময়লা সড়ানো খুবই দরকার। এখানের ময়লা পানি নদীতে যাওয়ায় যারা ঘাটলায় গোসল করে অনেকেরই বিভিন্ন ধরনের রোগ-জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হইতাছে।”এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নবীনগর পৌরসভার মেয়র বলেন,“পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ইতিমধ্যে ১৩ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং ডাম্পিং প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে, অচিরেই পৌর এলাকাবাসি এই দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর










