০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি কালুরঘাট সেতু

চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে বোয়ালখালী ও পটিয়া উপজেলার একাংশের যোগাযোগের মাধ্যম এবং নগরীর সঙ্গে কক্সবাজারের রেল যোগাযোগেরও অন্যতম সংযোগ কালুরঘাট সেতু।হাজার বছরের সংস্কৃতি, আচার আচরনে সমৃদ্ধ এক জনপদ সাথে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নান্দনিক প্রবাহমান নদী, খালবিল, সবুজ পাহাড় টিলা মিলে মিশে নিভৃত এক সমতল আর শত মনিষী ও পীর আউলিয়া সাধু সন্ন্যাসীর স্মৃতিধন্য স্থান হল কর্ণফুলী বিধৌত বোয়ালখালী।তবে অহর্নিশি এক নাগরিক বিড়ম্বনা সমেত যাতায়াত কষ্টের সাথে নিত্য বসবাস এই জনপদের জনগণের।এই জনপদের মানুষ গুলো তাদের যাপিত জীবনের সবকিছুতেই এই সেতুর সাথে সমন্বয় আর নিশ্চিত একটা দূর্ভোগ বিড়ম্বনা কে হাতে-পাঁচে রেখেই চলে।চট্টগ্রাম-৮ আসনের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে কর্নফুলী নদী। চট্টগ্রাম শহর ও বোয়ালখালী উপজেলা মিলে এই আসন; মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৮। দুইপাড়ের বাসিন্দাদের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম কালুরঘাট সেতু। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ ঝুঁকি ও ভোগান্তি নিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ সেতু দিয়ে চলাচল করেন।নতুন সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে অনেকেই এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু সেতু হয়নি। নির্বাচনের আগে ভোট আদায়ের কৌশল হিসেবে কালুরঘাট সেতু নির্মাণের বিষয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন প্রার্থীরা।আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান মোসলেম উদ্দিন আহম্মেদের প্রতিশ্রুতি ছিলো নির্বাচিত হওয়ার  ১ বছরের মধ্যে সেতু নির্মাণকাজ দৃশমান করবেন তিনি। তিনি আরো বলেছিলেন  কালুরঘাটে সেতু নির্মণের যে সরকারী উদ্যেগ সেটা দ্রুত সময়ের  মধ্যে নির্মাণ কাজ দৃশ্যমান করা আমার প্রধান দায়িত্ব থাকবে।নতুন সেতু নির্মাণে নকশা আর বাড়তি ব্যয় জটিলতায়ও আটকে আছে দক্ষিণ  চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতু।১৯৩০ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ৭০০ গজ দীর্ঘ রেল সেতুটি ১৯৫৮ সালে সব ধরনের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ১৯৬২ সালে সড়ক সেতু যুক্ত করে রেল-কাম সড়ক সেতুতে রূপান্তরিত করা হয়।বর্তমানে সেতুটির অবস্থা জরাজীর্ণ। ৯০ বছর বয়সী সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলছে কয়েক হাজার যানবাহন ও কয়েক জোড়া ট্রেন।১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে দ্বিতীয় কর্ণফুলী সেতু ভেঙে গেলে কালুরঘাট সেতু হয়ে পড়ে নগরীর সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ছয়টি উপজেলা ও কক্সবাজার, বান্দরবান জেলার যোগাযোগের অন্যতম রাস্তা।স্থানীয়দের দাবি, ২০১০ সালে তৃতীয় শাহ আমানত সেতুর উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত কালুরঘাট সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচলের কারণে সেতুটি আরও নাজুক হয়ে পড়ে।
২০০১ সালে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করার পর ২০০৪ ও ২০১২ সালে দুই দফায় এ সেতুটি বন্ধ রেখে সংস্কার কাজ করেছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সেতুটিতে ছোটখাট সংস্কার কাজ করে যান চলাচলের উপযোগী করে রাখা হয়।
নতুন সেতুটি নির্মিত হলে নিরবচ্ছিন্ন রেল পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা যাবে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে রেল চলাচল সুগম হবে।পাশাপাশি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য বৃহত্তর করিডর তৈরি হবে, বাণিজ্যিক রাজধানীর যানজট হ্রাস পাবে, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশি চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: স্কোলিওসিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত।

দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি কালুরঘাট সেতু

প্রকাশিত : ০৮:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মে ২০২২
চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে বোয়ালখালী ও পটিয়া উপজেলার একাংশের যোগাযোগের মাধ্যম এবং নগরীর সঙ্গে কক্সবাজারের রেল যোগাযোগেরও অন্যতম সংযোগ কালুরঘাট সেতু।হাজার বছরের সংস্কৃতি, আচার আচরনে সমৃদ্ধ এক জনপদ সাথে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নান্দনিক প্রবাহমান নদী, খালবিল, সবুজ পাহাড় টিলা মিলে মিশে নিভৃত এক সমতল আর শত মনিষী ও পীর আউলিয়া সাধু সন্ন্যাসীর স্মৃতিধন্য স্থান হল কর্ণফুলী বিধৌত বোয়ালখালী।তবে অহর্নিশি এক নাগরিক বিড়ম্বনা সমেত যাতায়াত কষ্টের সাথে নিত্য বসবাস এই জনপদের জনগণের।এই জনপদের মানুষ গুলো তাদের যাপিত জীবনের সবকিছুতেই এই সেতুর সাথে সমন্বয় আর নিশ্চিত একটা দূর্ভোগ বিড়ম্বনা কে হাতে-পাঁচে রেখেই চলে।চট্টগ্রাম-৮ আসনের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে কর্নফুলী নদী। চট্টগ্রাম শহর ও বোয়ালখালী উপজেলা মিলে এই আসন; মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৮। দুইপাড়ের বাসিন্দাদের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম কালুরঘাট সেতু। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ ঝুঁকি ও ভোগান্তি নিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ সেতু দিয়ে চলাচল করেন।নতুন সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে অনেকেই এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু সেতু হয়নি। নির্বাচনের আগে ভোট আদায়ের কৌশল হিসেবে কালুরঘাট সেতু নির্মাণের বিষয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন প্রার্থীরা।আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান মোসলেম উদ্দিন আহম্মেদের প্রতিশ্রুতি ছিলো নির্বাচিত হওয়ার  ১ বছরের মধ্যে সেতু নির্মাণকাজ দৃশমান করবেন তিনি। তিনি আরো বলেছিলেন  কালুরঘাটে সেতু নির্মণের যে সরকারী উদ্যেগ সেটা দ্রুত সময়ের  মধ্যে নির্মাণ কাজ দৃশ্যমান করা আমার প্রধান দায়িত্ব থাকবে।নতুন সেতু নির্মাণে নকশা আর বাড়তি ব্যয় জটিলতায়ও আটকে আছে দক্ষিণ  চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতু।১৯৩০ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ৭০০ গজ দীর্ঘ রেল সেতুটি ১৯৫৮ সালে সব ধরনের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ১৯৬২ সালে সড়ক সেতু যুক্ত করে রেল-কাম সড়ক সেতুতে রূপান্তরিত করা হয়।বর্তমানে সেতুটির অবস্থা জরাজীর্ণ। ৯০ বছর বয়সী সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলছে কয়েক হাজার যানবাহন ও কয়েক জোড়া ট্রেন।১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে দ্বিতীয় কর্ণফুলী সেতু ভেঙে গেলে কালুরঘাট সেতু হয়ে পড়ে নগরীর সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ছয়টি উপজেলা ও কক্সবাজার, বান্দরবান জেলার যোগাযোগের অন্যতম রাস্তা।স্থানীয়দের দাবি, ২০১০ সালে তৃতীয় শাহ আমানত সেতুর উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত কালুরঘাট সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচলের কারণে সেতুটি আরও নাজুক হয়ে পড়ে।
২০০১ সালে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করার পর ২০০৪ ও ২০১২ সালে দুই দফায় এ সেতুটি বন্ধ রেখে সংস্কার কাজ করেছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সেতুটিতে ছোটখাট সংস্কার কাজ করে যান চলাচলের উপযোগী করে রাখা হয়।
নতুন সেতুটি নির্মিত হলে নিরবচ্ছিন্ন রেল পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা যাবে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে রেল চলাচল সুগম হবে।পাশাপাশি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য বৃহত্তর করিডর তৈরি হবে, বাণিজ্যিক রাজধানীর যানজট হ্রাস পাবে, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।