নোমানগ্রুপ ও নোমানগ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান জাবের এন্ড জুবাইয়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড, নোমান ফ্যাশন ফেব্রিক্স লিমিটেড, নোমান টেরি টাওয়েল মিলস লিমিটেড, নাইস ডেনিম মিলস লিমিটেড, নাইস ডেনিম সলিড ডাইন মিলস লিমিটেড সহ আরো একাধিক প্রতিষ্ঠানের এবং দেশের আরো বিভিন্ন পোশাকশিল্প কারখানা থেকে রাত গভীর হলেই শুল্কমুক্ত আমদানি করা বন্ডের কাপড় ও সুতা সরাসরি ইসলামপুর, গুলশান আরা সিটি, সদরঘাট বিক্রমপুর গার্ডেন সিটি ও কালীগঞ্জ টকিও টাওয়ার সহ বিভিন্ন মার্কেটে চলে আসে। ইসলামপুরের গুলশান আরা সিটি, নূর ম্যানশন, সাউথ প্লাজা, মনসুর ক্যাসেল, ইসলাম প্লাজা, কে হাবিবুল্লাহ মার্কেট,এবং সদরঘাট বিক্রমপুর গার্ডেন সিটিতে বিক্রি হয় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বন্ডের সুতা ও কাপড়। এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত ইপিজেডগুলোর কর্মকর্তারা।
নোমানগ্রুপ সহ পোশাকশিল্পের মালিক নামধারী চোরাকারবারিরা এখান থেকেই কালোবাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পে উৎপাদিত কাপড় থাকছে অবিক্রীত। বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধাভোগী এই অশুভ চক্রের গভীর ষড়যন্ত্রে দেশীয় টেক্সটাইল শিল্প বন্ধের মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে। যাদের অনেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাপড় ও সুতা আমদানি করে খোলাবাজারে বিক্রির মাধ্যমে রাতা-রাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন।কেউ কেউ একেবারে ফুটপাত থেকে উঠে এসে এখন শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অঢেল টাকার জোরে সমাজের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে রয়েছে তাদের গভীর সখ্য। শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কমে বিক্রি করেও চোরাকারবারিরা বিপুল অঙ্কের লাভের মুখ দেখে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে যে, এখানে শত শত দোকান দেশি-বিদেশী কাপড়ে ঠাসা। কোনটা সাধারণ আর কোনটা চোরাই, তার পার্থক্য করা কেবল দুষ্করই নয়, অসম্ভবও বটে। কারণ, ইসলামপুরে ঢুকলেই চোরাই কাপড়ে বৈধতার সিল পড়ে। অর্থাৎ বৈধভাবে আমদানি করার জাল কাগজপত্র সব সময় প্রস্তুত করা থাকে। তবে এখানে চোরাকারবার চলছে অনেকটা ওপেন সিক্রেট স্টাইলে। সূত্র বলছে, রাত গভীর হলে নোমানগ্রুপ সহ আরো একাধিক চোরাকারবারিদের একের পর এক আসতে থাকে চোরাই কাপড় ভর্তি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি নিয়ে। টর্চের স্বল্প আলোয় লোড-আনলোডের কাজ শেষ হয়। এক বা দুদিন নয়, রীতিমতো বছরের পর বছর ধরে চলছে এ অনিয়ম ও দুর্নীতি।মনিটরিংয়ের দায়িত্ব যাদের-তারা বসে আছেন হাত গুটিয়ে। আবার মাসেহারায় ম্যানেজ হয়েছেন রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কাষ্টমস বন্ড কমিশনারেট সহ প্রশাসনের উপরের মহলের কর্তাবাবুরা। তাদের নেই কোন তৎপরতা। চোরকারবারি এ অসাধু ব্যাবসায়ীর মধ্যে অন্যতম হল নোমানগ্রুপ, নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম, উনার সহযোগী প্রতিষ্ঠান গাজীপুর জেলার টঙী পাগাড় মৌজায় অবস্থিত জাবের এন্ড জুবাইয়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড নোমান ফ্যাশন ফেব্রিক্স লিমিটেড, মির্জাপুর অবস্থিত নোমান টেরী টাওয়েল মিলস লিমিটেড, শ্রীপুর নোমান উইভিং মিলস লিমিটেড, নোমান কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড, ইসমাইল স্পিনিং মিলস লিমিটেড, জাবের স্পিনিং মিলস লিমিটেড, জোবাইয়ের স্পিনিং মিলস লিমিটেড, জারবা টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, ইয়াছমিন স্পিনিং মিলস লিমিটেড, এবং নাইস ডেনিম মিলস লিমিটেড, নাইস ডেনিম সলিড ডাইন মিলস লিমিটেড, সহ আরো একাধিক অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতিমাসে বিদেশ হইতে অনেক সময় হাজার হাজার কোটি অনেক সময় শত শত কোটি টাকার সুতা, তুলা ও কাপড় বন্ড সুবিধায় আমদানি করে থাকে। বিনা শুল্কে বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত সুতা, তুলা ও কাপড় অবৈধভাবে লোকাল ফ্যাক্টরী-টঈী ইসমাঈল আঞ্জুমান আরা ফেব্রিক্স লিমিটেড, সুফিয়া ফেব্রিক্স লিমিটেড, শ্রীপুর নাইস ফেব্রিক্স প্রসেসিং লিমিটেড, সাদ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড এর নামে নোমানগ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নিজে ও পুত্র রফিকুল ইসলাম নোমান,মুহাম্মদ আবদুল্লাহ জাবের, আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তালহা, কন্যা নূরে ইয়াছমিন ফাতেমা ও নাতি আবদুল্লাহ মুহাম্মদ সাদ হোসাইন এর মাধ্যমে নিজ ভাগিনা নামিরা ফ্যাশন ও জিহান ফেব্রিক্সের মালিক আবু হানিফ, কালিগঞ্জের রিয়াদ ফ্যাশনের মালিক আনোয়ার হাজী, ইসলামপুরের গুলশান আরা সিটির জাহাঙ্গীর এন্ড ব্রাদার্স এর মালিক জাহাঙ্গীর, ইসলামীয়া ফেব্রিক্সে এর মালিক মুহাম্মদ হান্নান, মুহাম্মদ হালিম, নিকটাত্মীয় চিত্র নায়িকা সুচন্দার ছেলে তপু রায়হান, শরিফুল্লাহ বাবু সহ আরো বিভিন্ন ব্যক্তিদের কে অবৈধভাবে বিক্রি করিয়া আসিতেছে, উক্ত আবু হানিফ, আনোয়ার হাজী, জাহাংগীর, হান্নান, হালিম,তপু রায়হান, শরিফুল্লাহ বাবু, নোমানগ্রুপ থেকে বন্ডের কাপড়, সুতা ও তুলা ক্রয় করে লোকাল বাজারে বিক্রী করে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গিয়ে রাতা-রাতি আংগুলফুলে কলাগাছ হয়ে অনেক গাড়ী, বাড়ী, জায়গা-জমিসহ এবং অনেক দোখান মার্কেটের মালিক হয়ে যায়।
এবিষয়ে ইসলামপুরের গুলশান আরা সিটি ও সদরঘাট বিক্রমপুর গার্ডেন সিটি মার্কেটের একাধিক কাপড়ের ব্যবসায়ীরা জানান,নোমানগ্রুপের বন্ডের কাপড় ও সুতা গুলশান আরা সিটির জাহাংগীর, হান্নান, হালিম ও সদরঘাট বিক্রমপুর গার্ডেন সিটি এবং কালীগঞ্জে অনেক ব্যবসায়ীকে সরাসরি বিক্রী করে, আর এসব বন্ডের তুলা, সুতা ও কাপড় বিক্রির সময় জাল-জালিয়তির মাধ্যমে লোকাল ফ্যাক্টরীর নামে লোক দেখানো ভুয়া চালান ইস্যু করে। উপরোক্ত ভাবে বন্ডের তুলা, সুতা ও কাপড় খোলাবাজারে অবৈধভাবে বিক্রির সংবাদ জাতীয় ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন তারিখে প্রকাশিত হইলেও রাজস্ব বোর্ড, এনবিআর, কাস্টমস বন্ড কমিশানারেট কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা না নিলে নোমানগ্রুপ তাহাদের অবৈধ কর্মকান্ড অব্যাহত রাখিয়াছে।
নোমান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল্লাহ্ চৌধুরী নোমান গ্রুপের উপরোক্ত অনিয়ম ও দূর্নীতির এবং সরকারী মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকির ব্যপারে প্রশাসনের উপরের মহলের বিভিন্ন দপ্তরের নাম ভাংগিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্বসাৎ করেন বলে আরেক সুত্রে জানাযায়। নোমানগ্রুপ বন্ডের তুলা, সুতা ও কাপড় দেশীয় বাজারে বিক্রী করার কারণে একদিকে যেমন সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান ধংসের মুখে। অনুসন্ধানে আরো জানাযায়, নোমানগ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সরকার ও লোক মুখে ধোয়াসা দিতে নোমানগ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাদ গ্রুপ সৃষ্টি করেছেন কিন্ত নোমান ও সাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান তিনি নিজেই! অন্যদিকে নোমানগ্রুপ উপরোক্ত দূর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকি আড়াল করে প্রতি বছর শিল্প খাতে অবদানের স্বীকৃতি স্বরপ শিল্প মন্ত্রনালয় সহ আরো অনেক দপ্তর থেকে একাধিক পুরষ্কার গ্রহন করে এবং নোমানগ্রুপের উপরোক্ত সকল দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির মুল কারিগর নোমানগ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও পুত্র মুহাম্মদ আবদুল্লাহ জাবের।
এ প্রসঙ্গে বিটিএমএ সভাপতি বলেছেন,অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো কার্যত বন্ধ, কিন্তু তাদের বন্ড লাইসেন্সগুলো বিভিন্ন পন্থায় কার্যকর রেখে সুবিধা নিচ্ছে। বন্ডেড ওয়্যার হাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা চিহ্নিত এবং তাদের মধ্যে কতটি চালু আছে, তা নির্ধারণ করে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ড লাইসেন্স বাতিল করা দরকার। বন্ধ কারখানার বন্ড লাইসেন্স অপব্যবহার বন্ধ হলে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা পাবে।
এই বিষয়ে জানতে নোমানগ্রুপের ডিএমডি আবদুল্লাহ জাবের এর সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সবকিছু এড়িয়ে গিয়ে প্রতিবেদনটি না করার প্রস্তাব দিয়ে অফিসে গিয়ে দেখা করতে বলেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ















