০১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অবৈধভাবে কিডনি কেনা বেচার চক্রের ৫ সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার

  • মাসুদ রানা
  • প্রকাশিত : ০৪:১১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ জুলাই ২০২২
  • 62

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অর্থের লোভ দেখিয়ে কিডনি ডোনারদের প্রথমে নিয়ে আসতেন ঢাকায়। কিডনি রোগীর আত্মীয় সাজিয়ে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের পাঠানো হতো ভারতে। সেখানে কিডনি প্রতিস্থাপন শেষে দেশে ফিরে টাকা চাইলেই দেওয়া হতো হুমকি। কিডনি পাচারকারী এ চক্রের প্রধান শহিদুল ইসলাম মিঠুকে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)। এ চক্রের আরও চার সদস্যকে রাজধানীর ভাটারা, বনশ্রী ও মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল মোমেন।

তিনি বলেন,প্রতারণার মাধ্যমে মানবদেহের কিডনিসহ নানাবিধ অঙ্গের অবৈধ ট্রান্সপ্লান্টেশনের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে কয়েকটি চক্র। এসব চক্রের ফাঁদে প্রলুব্ধ হয়ে অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ ক্ষেত্রবিশেষে গ্রাহকরাও প্রতারিত হচ্ছে। আইন বহির্ভূত,স্পর্শকাতর ও অবৈধ ট্রান্সপ্লান্টেশনের এহেন কার্যক্রমে চক্রের সদস্যরা অর্থের লোভে অমানবিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাব সাইবার মনিটরিং সেল ভার্চুয়াল জগত তথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধভাবে কিডনিসহ অন্যান্য মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আসছিল। এসব সিন্ডিকেটের সদস্যরা অনলাইনে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে গ্রাহক ও ডোনারদের আকৃষ্ট করে থাকে।

মোমেন বলেন, ইতোপূর্বে র‍্যাবের অভিযানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিডনি কেনা-বেচা চক্রের অন্যতম হোতা ও ফেসবুক পেজের অ্যাডমিনসহ চক্রের পাঁচ সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক কিডনি কেনা-বেচার অন্য চক্রগুলোকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সাইবার মনিটরিং ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব।

‘এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জুলাই রাত ৮টা হতে ২০ জুলাই ভোর ৫টা পর্যন্ত র‍্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১ এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর ভাটারা, বনশ্রী ও মিরপুর এলাকায় কিডনি ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা মো. শহিদুল ইসলাম মিঠু (৪৯)মো. মিজানুর রহমান (৪৪)মো. আল মামুন ওরফে মেহেদী (২৭)মো. সাইমন (২৮)মো. রাসেল হোসেন (২৪)কে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্রে ১৫-২০ জন সদস্য তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করে। প্রথম দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিডনি প্রয়োজন এমন বিত্তশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দ্বিতীয় দল প্রথম দলের চাহিদা অনুযায়ী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রলোভন দেখিয়ে গরিব ও অভাবী মানুষ যোগার করে ঢাকায় নিয়ে আসে। তৃতীয় দল ডোনারদের ল্যাব পরীক্ষা করিয়ে কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে ভারত পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এই চক্রের সঙ্গে ভারতের একটি চক্র পারস্পরিক যোগসাজশে ডোনারকে এয়ারপোর্ট অথবা স্থলবন্দরে রিসিভ করে। পরে তারা কিডনি নেওয়া এবং ডোনারদের দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, ইমরান ফেসবুকে ‘বাংলাদেশ কিডনি ও লিভার পেশেন্ট চিকিৎসা সেবা’ এবং ‘কিডনি লিভার চিকিৎসা সেবা’ নামে দুটি পেজের এডমিন। মান্নান ডোনারদের রাজি করায়। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে ৬ টির বেশি মামলা আছে। তাজুল মান্নানের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। সাইফুল ও মেহেদী ডোনারদের ভারতে পাঠানোর জন্য কাগজপত্র তৈরি করেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

অবৈধভাবে কিডনি কেনা বেচার চক্রের ৫ সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশিত : ০৪:১১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ জুলাই ২০২২

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অর্থের লোভ দেখিয়ে কিডনি ডোনারদের প্রথমে নিয়ে আসতেন ঢাকায়। কিডনি রোগীর আত্মীয় সাজিয়ে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের পাঠানো হতো ভারতে। সেখানে কিডনি প্রতিস্থাপন শেষে দেশে ফিরে টাকা চাইলেই দেওয়া হতো হুমকি। কিডনি পাচারকারী এ চক্রের প্রধান শহিদুল ইসলাম মিঠুকে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)। এ চক্রের আরও চার সদস্যকে রাজধানীর ভাটারা, বনশ্রী ও মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল মোমেন।

তিনি বলেন,প্রতারণার মাধ্যমে মানবদেহের কিডনিসহ নানাবিধ অঙ্গের অবৈধ ট্রান্সপ্লান্টেশনের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে কয়েকটি চক্র। এসব চক্রের ফাঁদে প্রলুব্ধ হয়ে অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ ক্ষেত্রবিশেষে গ্রাহকরাও প্রতারিত হচ্ছে। আইন বহির্ভূত,স্পর্শকাতর ও অবৈধ ট্রান্সপ্লান্টেশনের এহেন কার্যক্রমে চক্রের সদস্যরা অর্থের লোভে অমানবিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাব সাইবার মনিটরিং সেল ভার্চুয়াল জগত তথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধভাবে কিডনিসহ অন্যান্য মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আসছিল। এসব সিন্ডিকেটের সদস্যরা অনলাইনে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে গ্রাহক ও ডোনারদের আকৃষ্ট করে থাকে।

মোমেন বলেন, ইতোপূর্বে র‍্যাবের অভিযানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিডনি কেনা-বেচা চক্রের অন্যতম হোতা ও ফেসবুক পেজের অ্যাডমিনসহ চক্রের পাঁচ সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক কিডনি কেনা-বেচার অন্য চক্রগুলোকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সাইবার মনিটরিং ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব।

‘এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জুলাই রাত ৮টা হতে ২০ জুলাই ভোর ৫টা পর্যন্ত র‍্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১ এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর ভাটারা, বনশ্রী ও মিরপুর এলাকায় কিডনি ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা মো. শহিদুল ইসলাম মিঠু (৪৯)মো. মিজানুর রহমান (৪৪)মো. আল মামুন ওরফে মেহেদী (২৭)মো. সাইমন (২৮)মো. রাসেল হোসেন (২৪)কে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্রে ১৫-২০ জন সদস্য তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করে। প্রথম দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিডনি প্রয়োজন এমন বিত্তশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দ্বিতীয় দল প্রথম দলের চাহিদা অনুযায়ী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রলোভন দেখিয়ে গরিব ও অভাবী মানুষ যোগার করে ঢাকায় নিয়ে আসে। তৃতীয় দল ডোনারদের ল্যাব পরীক্ষা করিয়ে কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে ভারত পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এই চক্রের সঙ্গে ভারতের একটি চক্র পারস্পরিক যোগসাজশে ডোনারকে এয়ারপোর্ট অথবা স্থলবন্দরে রিসিভ করে। পরে তারা কিডনি নেওয়া এবং ডোনারদের দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, ইমরান ফেসবুকে ‘বাংলাদেশ কিডনি ও লিভার পেশেন্ট চিকিৎসা সেবা’ এবং ‘কিডনি লিভার চিকিৎসা সেবা’ নামে দুটি পেজের এডমিন। মান্নান ডোনারদের রাজি করায়। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে ৬ টির বেশি মামলা আছে। তাজুল মান্নানের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। সাইফুল ও মেহেদী ডোনারদের ভারতে পাঠানোর জন্য কাগজপত্র তৈরি করেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর