রাজধানীর শাহবাগটানা ছুটির আমেজে রয়েছেন রাজধানীবাসী। একসঙ্গে বৌদ্ধ পূর্ণিমা, মে দিবস ও শবে বরাতের ছুটি পেয়ে কেউ কেউ ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গেছেন, আবার কেউবা বেড়াতে গেছেন পছন্দের জায়গায়। আবার অনেকে দেশের বাইরে গেছেন। এ কারণে নগরীর রাস্তাঘাট ও শপিংমলগুলো একেবারেই ফাঁকা। ভিড়ের রাজধানীতে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। কোথাও নেই কোনও যানজট। গণপরিবহনগুলোতেও মিলছে না যাত্রী। বুধবার (২ মে) নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সড়কে চলছে হাতে গোনা গাড়িএবারের ছুটি মূলত শুরু হয়েছে গত ২৭ এপ্রিল শুক্রবার থেকে। পরের দিন ২৮ এপ্রিল শনিবারও সরকারি ছুটি। ২৯ এপ্রিল রবিবার বৌদ্ধ পূর্ণিমা, এদিনও সরকারি ছুটি। কেবল ৩০ এপ্রিল (সোমবার) অফিস খোলা ছিল।
এরপর মঙ্গলবার (১ মে) মে দিবসের ছুটি। বুধবার (২ মে )শবে বরাত, এদিনও সরকারি ছুটি। ২৭ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ছয় দিনের মধ্যে শুধু ৩০ এপ্রিল অফিস খোলা ছিল। তবে এদিন অনেকেই ছুটি নিয়েছেন। পাশাপাশি কেউ কেউ বৃহস্পতিবারও (৩ মে) ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে নিয়েছেন। এরপর শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। ফলে টানা ৯দিনের ছুটির ফাঁদে পড়েছে রাজধানী। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নগরীর সড়ক, বিপণী কেন্দ্রসহ সর্বত্র। রাজধানীর সড়কে সুনসান নীরবতানগরীর অতি ব্যস্ততম সড়ক কাওরান বাজারে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে দেখা গেছে, সিগনালে কোনও ট্রাফিক পুলিশ নেই। দু-একটি যানবাহন থাকলেও সেগুলো নিজ নিজ দায়িত্বে সিগনালে থামছে, আবার চলে যাচ্ছে। ফার্মগেট-কাওরানবাজার সার্ক ফোয়ারা হয়ে বাংলামোটর-শাহবাগ-পল্টন মোড় পর্যন্ত ছিল একই চিত্র। যানবাহনের চাপ কম থাকায় অনেক কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন যাত্রীরা। সরেজমিন দেখা গেছে, নিত্য যানজটে আটকে থাকা বনশ্রী রোডের চিত্রও পাল্টে গেছে।
পল্টন, কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, রামপুরা, বাড্ডা, লিংক রোড ও নুতন বাজার হয়ে কুড়িল সড়কেও যানবাহনের চাপ চোখে পড়েনি। বিনা বাধায় চলাচল করছে পরিবহনগুলো। রাজধানীর ফাঁকা সড়কশাহবাগ মোড়েও অন্যান্য দিনের মতো গাড়ির চাপ ছিল না। বিনা সিগনালে ট্রাফিক মোড় পার হচ্ছে পরিবহনগুলো। মিরপুর-মহাখালী-মগবাজার সড়কেও গাড়ির চাপ একদম নেই বললেই চলে। নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও মিরপুর রোডে বলা যায় হাতে গোনা কিছু পরিবহন চলাচল করছে। তবে নগরীতে গাড়ি কম থাকায় যাত্রীদের কিছুটা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। যাত্রী কম বলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন বাসযাত্রীরা। সকাল সাড়ে ৯টায় দক্ষিণ বনশ্রীর মেরাদিয়া হাঁট থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে তরঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন মো. হোসেন। বিজনেস বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে আমাকে বাসে করে ঢাকা মেডিক্যালে আসতে হয়। অন্যদিন প্রায় দুই ঘণ্টা লেগে যেতো।
কিন্তু বুধবার মাত্র ৩০ মিনিটে শাহবাগে পৌঁছেছি। পুরো রাস্তা ফাঁকা। মীরপুর থেকে পল্টনে গেছেন মহিউদ্নি নামে একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়েই সকালে বের হন। তিনি জানান, অন্যদিন হলে প্রায় দুই ঘণ্টা লাগতো। বুধবার মাত্র ২০ মিনিটে চলে আসতে পেরেছি। রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা।














