০১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪

আশ্রয়ণের ঘর বদলে দিয়েছে সগীরদের জীবন

ভূমিহীন মো. সগীর হাওলাদারের পৈত্রিক ভিটেমাটি বলতে কিছুই ছিল না। পরের কৃষিজমিতে শ্রম দিয়ে জীবিকা চলছিল তাঁর। স্ত্রী আর দুই সন্তান মিলে চার সদস্যের পরিবারের কোনো স্থায়ী বসতি ছিল না। বাস করতেন খুপড়ি ঘর তুলে। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের দুই শতাংশ জমির ওপর স্বপ্নের পাকা ঘর পেয়ে যান ভূমিহীন সগীর। পাঁচ মাস আগে পরিবার নিয়ে আশ্রয়ণের ঘরে ওঠেন তিনি। এরপর তার বিপন্ন জীবন বদলে যেতে শুরু করে। আশ্রিত এ দিনমজুর সংসারের স্বচ্ছলতার জন্য বাঁশের হস্তশিল্পের কাজ শুরু করেন। সেই সাথে বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ।

স্ত্রী মহিমা আক্তার সেলাইয়ের কাজ শুরু করে বাড়তি উপার্জন করেন। হাঁস-মুরগি পালন করে অভাবি সংসারে আয় বাড়তে থাকেন। আশ্রয়ণের ঘরে উঠে এ দুই শিশু স্কুলে ভর্তির সুবিধা পায়। মাত্র পাঁচ মাসে পরের জমিতে খুপড়ি ঘরের জীবনে মেলে পরিবর্তনের ছোঁয়া।

শুধু ভূমিহীন সগীর মিয়া নন, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার তুষখালী গ্রামে গড়ে তোলা মুজিব শতবর্ষে ক শ্রেণিভূক্ত গৃহহীন, ভূমিহীন ২২ পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে গড়ে তোলা আবাসনের পরিবারগুলোর জীবন জীবিকায় আসছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। সেই সাথে উপজেলার ১১ ইউনিয়নে গড়ে তোলা ক শ্রেণিভূক্ত ৮৩০ ভূমিহীন পরিবারের মাঝে সমাজভিত্তিক আশ্রয়ণ গড়ে তোলা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার তুষখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখে গেছে, এখানে ৪৬ শতাংশ জমিজুড়ে ২২টি ভূমিহীন পরিবারের মাঝে সমাজভিত্তিক আশ্রয়ণ গড়ে তোলা হয়েছে। গত পাঁচ মাস আগে ২২টি পরিবার বসবাস শুরু করে। ভূমিহীন গৃহহীন এ পরিবারগুলো দুই শতাংশ জমিতে সেমি পাকা ঘর পেয়ে তাদের জীবনযাত্রা বদলে যেতে শুরু করেছে। কৃষিকাজ, হস্তশিল্প, সেলাই কাজ, হাঁস-মুরগি প্রতিপালন করে এ পরিবারগুলোর সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরতে শুরু করেছে। আশ্রিত শিশুরা স্কুলে লেখাপড়ার সুবিধা পেয়েছে। সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সুবিধাও মিলেছে তাদের।

আবাসনে আশ্রিত মো. সগীর মিয়া জানান, একসময় পরের জমিতে শ্রম দিয়ে কোনো মতে সংসার চালাতেন। ভূমিহীন জীবনে পরের জমিতে খুপড়ি ঘরে বসতি ছিল তার। এখন আশ্রয়ণে তার নিজের ঘর। নতুন ঘরে উঠে তিনি বাঁশের হস্তশিল্পের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় হাট-বাজারে বাঁশের সামগ্রী বিক্রয় করেন। এতে তার মাসে ৭/৮ হাজার টাকা রোজগার হয়। এ ছাড়া তার স্ত্রী মহিমা আক্তার সেলাই মেশিনে কাজ করেও মাসে অন্তত তিন হাজার টাকা আয় করেন।

আশ্রিত সগীর মিয়া বলেন, মোর কোনো ভিটেমাটি ছিল না। শেখ হাসিনা পাকা ঘর দিছেন। এরপর বাঁশের নানা জিনিস বানাইয়া বাজারে বিক্রির কাজ করে আয়-রোজগার করছি। স্ত্রীও সেলইয়ের কাজ করে রোজগার করছে। দুই মাইয়া পোলারে স্কুলের ভর্তি কইরা দিছি। অনেক ভালো আছি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুজিব শতবর্ষে মঠবাড়িয়ার ১১ ইউনিয়নে গৃহহীন, ভূমিহীন পরিবারের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এ যাবৎ ৮৩০টি পরিবারের গৃহ নির্মাণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ক শ্রেণিভূক্ত পরিবার গুলো নতুন ঘরে বসতি শুরু করেছেন। আগামী ২১ মার্চ মঠবাড়িয়াকে ক শ্রেণিভূক্ত ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার মুক্ত ঘোষণার প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মী ভৌমিক বলেন, যেসব পরিবারে বসতির জমি আছে তাদের পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। যারা সম্পূর্ণ ভূমিহীন তাদের জমি দিয়ে গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এ ঘর নির্মাণ প্রকল্প চলমান কর্মসূচি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আশ্রয়ণের ঘর বদলে দিয়েছে সগীরদের জীবন

প্রকাশিত : ০৮:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মার্চ ২০২৩

ভূমিহীন মো. সগীর হাওলাদারের পৈত্রিক ভিটেমাটি বলতে কিছুই ছিল না। পরের কৃষিজমিতে শ্রম দিয়ে জীবিকা চলছিল তাঁর। স্ত্রী আর দুই সন্তান মিলে চার সদস্যের পরিবারের কোনো স্থায়ী বসতি ছিল না। বাস করতেন খুপড়ি ঘর তুলে। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের দুই শতাংশ জমির ওপর স্বপ্নের পাকা ঘর পেয়ে যান ভূমিহীন সগীর। পাঁচ মাস আগে পরিবার নিয়ে আশ্রয়ণের ঘরে ওঠেন তিনি। এরপর তার বিপন্ন জীবন বদলে যেতে শুরু করে। আশ্রিত এ দিনমজুর সংসারের স্বচ্ছলতার জন্য বাঁশের হস্তশিল্পের কাজ শুরু করেন। সেই সাথে বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ।

স্ত্রী মহিমা আক্তার সেলাইয়ের কাজ শুরু করে বাড়তি উপার্জন করেন। হাঁস-মুরগি পালন করে অভাবি সংসারে আয় বাড়তে থাকেন। আশ্রয়ণের ঘরে উঠে এ দুই শিশু স্কুলে ভর্তির সুবিধা পায়। মাত্র পাঁচ মাসে পরের জমিতে খুপড়ি ঘরের জীবনে মেলে পরিবর্তনের ছোঁয়া।

শুধু ভূমিহীন সগীর মিয়া নন, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার তুষখালী গ্রামে গড়ে তোলা মুজিব শতবর্ষে ক শ্রেণিভূক্ত গৃহহীন, ভূমিহীন ২২ পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে গড়ে তোলা আবাসনের পরিবারগুলোর জীবন জীবিকায় আসছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। সেই সাথে উপজেলার ১১ ইউনিয়নে গড়ে তোলা ক শ্রেণিভূক্ত ৮৩০ ভূমিহীন পরিবারের মাঝে সমাজভিত্তিক আশ্রয়ণ গড়ে তোলা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার তুষখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখে গেছে, এখানে ৪৬ শতাংশ জমিজুড়ে ২২টি ভূমিহীন পরিবারের মাঝে সমাজভিত্তিক আশ্রয়ণ গড়ে তোলা হয়েছে। গত পাঁচ মাস আগে ২২টি পরিবার বসবাস শুরু করে। ভূমিহীন গৃহহীন এ পরিবারগুলো দুই শতাংশ জমিতে সেমি পাকা ঘর পেয়ে তাদের জীবনযাত্রা বদলে যেতে শুরু করেছে। কৃষিকাজ, হস্তশিল্প, সেলাই কাজ, হাঁস-মুরগি প্রতিপালন করে এ পরিবারগুলোর সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরতে শুরু করেছে। আশ্রিত শিশুরা স্কুলে লেখাপড়ার সুবিধা পেয়েছে। সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সুবিধাও মিলেছে তাদের।

আবাসনে আশ্রিত মো. সগীর মিয়া জানান, একসময় পরের জমিতে শ্রম দিয়ে কোনো মতে সংসার চালাতেন। ভূমিহীন জীবনে পরের জমিতে খুপড়ি ঘরে বসতি ছিল তার। এখন আশ্রয়ণে তার নিজের ঘর। নতুন ঘরে উঠে তিনি বাঁশের হস্তশিল্পের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় হাট-বাজারে বাঁশের সামগ্রী বিক্রয় করেন। এতে তার মাসে ৭/৮ হাজার টাকা রোজগার হয়। এ ছাড়া তার স্ত্রী মহিমা আক্তার সেলাই মেশিনে কাজ করেও মাসে অন্তত তিন হাজার টাকা আয় করেন।

আশ্রিত সগীর মিয়া বলেন, মোর কোনো ভিটেমাটি ছিল না। শেখ হাসিনা পাকা ঘর দিছেন। এরপর বাঁশের নানা জিনিস বানাইয়া বাজারে বিক্রির কাজ করে আয়-রোজগার করছি। স্ত্রীও সেলইয়ের কাজ করে রোজগার করছে। দুই মাইয়া পোলারে স্কুলের ভর্তি কইরা দিছি। অনেক ভালো আছি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুজিব শতবর্ষে মঠবাড়িয়ার ১১ ইউনিয়নে গৃহহীন, ভূমিহীন পরিবারের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এ যাবৎ ৮৩০টি পরিবারের গৃহ নির্মাণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ক শ্রেণিভূক্ত পরিবার গুলো নতুন ঘরে বসতি শুরু করেছেন। আগামী ২১ মার্চ মঠবাড়িয়াকে ক শ্রেণিভূক্ত ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার মুক্ত ঘোষণার প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মী ভৌমিক বলেন, যেসব পরিবারে বসতির জমি আছে তাদের পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। যারা সম্পূর্ণ ভূমিহীন তাদের জমি দিয়ে গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এ ঘর নির্মাণ প্রকল্প চলমান কর্মসূচি।