সাম্প্রতিক সময়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১০ জানতে পারে যে, একটি প্রতারক চক্র প্রায় এক বছর যাবৎ জাল নোট তৈরি করে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছে। এই চক্রটি জাল নোটের ব্যবসা করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর ডেমরা,সবুজবাগ ও খিলগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জাল নোট তৈরী চক্রের অন্যতম হোতা মোহাম্মদ আমিনুল হক দুলাল (৪৩) ও তার অন্যতম সহযোগি আব্দুর রাজ্জাক দিদার (৩০) মোঃ সুজন আলী (৪০) এবং মোহাম্মদ সাকিবুল হাসান (২১)’দেরকে গ্রেফতার করে।
এসময় গ্রেফতারকৃত আসামিদের নিকট হতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মূল্যমানের জাল নোট (যার মধ্যে ১০০০, ৫০০ ও ১০০ টাকা সমমানের জাল নোট রয়েছে), ০১টি ল্যাপটপ, ০১টি প্রিন্টার, ১১টি টোনার ও কার্টিজ, ০১টি পেনড্রাইভসহ জালনোট তৈরির বিপুল পরিমান সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জাল নোট তৈরি ও বিক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে।
দুপুরে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গনমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান,গ্রেফতারকৃতরা পরষ্পর যোগসাজশে প্রায় ১ বছর যাবৎ জাল নোট তৈরি করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে জাল নোট বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়। গ্রেফতারকৃরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পেইজ ও গ্রুপ থেকে জাল নোট তৈরি ও ব্যবসার প্রতি আকৃষ্ট হয়। চক্রের মূল হোতা গ্রেফতারকৃত আমিনুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি গ্রুপের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত অপর সদস্যদের সাথে তার পরিচয় হয়।
গ্রেফতারকৃত সাকিবুল রাজধানীর একটি মাদরাসায় পড়ালেখা করতো। পাশাপাশি সে ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতো। এছাড়াও সে আমিনুল এর সাথে প্রিন্টিংসহ সকল কাজেই তাকে সহযোগিতা করত বলে জানা যায়।গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
বিজনেস বাংলাদেশ/একে




















