০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কাঁটাতারের বেড়ায় অকার্যকর ঝুলন্ত সেতু

  • চবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত : ০৪:২১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • 58

প্রবেশমুখে কাঁটাতার বেড়া। ভেতরে জমে গেছে শ্যাওলা। কোথাও কোথাও ভেঙে গেছে পাটাতন৷ জংলি লতায় তৈরি হয়েছে ঝোপঝাড়। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ঝুলন্ত সেতু৷ একসময় যেখানে ভীড় করতো শিক্ষার্থীরা, জমতো ছবি তোলার হিড়িক।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের পাশের খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল এই ঝুলন্ত সেতুটি। সেতুটি নির্মাণের পর যেমন সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছিল, তেমনি সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সহজে পৌঁছে যেতে পারছিল প্রশাসনিক ভবনে। রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুর আদলে তৈরি করা এই সেতুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আকর্ষণ।

কিন্তু বর্তমানে অযত্ন, অবহেলা ও সংস্কারহীন অবস্থার কারণে ভেঙেচুরে বেহাল অবস্থা চবির এই নান্দনিক ঝুলন্ত সেতুর। প্রায় চার বছরেও এটি পুনঃসংস্কার/মেরামত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের চলাচল রোধ করতে ২০১৮ সালের শেষের দিকে কাঁটাতার দিয়ে বন্ধ করে রেখে দেওয়া হয়েছে সেতুটি।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ও শিক্ষার্থীদের দাবি, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সময়মতো মেরামত না করার কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে এটি।

ঝুলন্ত সেতুর বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এস এম মাহফুজ বলেন, সেতুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আকর্ষণ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এর রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। এতোদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় সেতুটি পড়ে আছে। এটি খুবই দুঃখজনক। এছাড়া শিক্ষার্থীদেরও ক্যাম্পাসের সম্পদ ব্যবহারে আরও সচেতন হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিছুর করিম দ্রুত সেতু মেরামতের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেইসঙ্গে সারাবছরই যেন সেতুটি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় তারও দাবি জানান।

সেতুটির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল বলেন, সেতুটি সংস্করণের জন্য বাজেট নেই, বাজেট না থাকায় কিছু করা যাচ্ছে না। বাজেট পেলে আবারো সংস্করণ করা হবে।

প্রয়াত উপাচার্য অধ্যাপক আবু ইউসুফের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এটি নির্মিত হয়। এতে অর্থায়ন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। চমৎকার ও দৃষ্টিনন্দন সেতুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পছন্দের স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম।

চবির প্রয়াত উপার্চায অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতুর আদলে এই সেতুটি নির্মাণ করান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক কৃতি শিক্ষার্থী এটি নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সেতুটি।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh

 

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সিআইডি প্রধানের জরুরী ব্রিফিং

কাঁটাতারের বেড়ায় অকার্যকর ঝুলন্ত সেতু

প্রকাশিত : ০৪:২১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

প্রবেশমুখে কাঁটাতার বেড়া। ভেতরে জমে গেছে শ্যাওলা। কোথাও কোথাও ভেঙে গেছে পাটাতন৷ জংলি লতায় তৈরি হয়েছে ঝোপঝাড়। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ঝুলন্ত সেতু৷ একসময় যেখানে ভীড় করতো শিক্ষার্থীরা, জমতো ছবি তোলার হিড়িক।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের পাশের খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল এই ঝুলন্ত সেতুটি। সেতুটি নির্মাণের পর যেমন সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছিল, তেমনি সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সহজে পৌঁছে যেতে পারছিল প্রশাসনিক ভবনে। রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুর আদলে তৈরি করা এই সেতুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আকর্ষণ।

কিন্তু বর্তমানে অযত্ন, অবহেলা ও সংস্কারহীন অবস্থার কারণে ভেঙেচুরে বেহাল অবস্থা চবির এই নান্দনিক ঝুলন্ত সেতুর। প্রায় চার বছরেও এটি পুনঃসংস্কার/মেরামত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের চলাচল রোধ করতে ২০১৮ সালের শেষের দিকে কাঁটাতার দিয়ে বন্ধ করে রেখে দেওয়া হয়েছে সেতুটি।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ও শিক্ষার্থীদের দাবি, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সময়মতো মেরামত না করার কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে এটি।

ঝুলন্ত সেতুর বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এস এম মাহফুজ বলেন, সেতুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আকর্ষণ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এর রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। এতোদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় সেতুটি পড়ে আছে। এটি খুবই দুঃখজনক। এছাড়া শিক্ষার্থীদেরও ক্যাম্পাসের সম্পদ ব্যবহারে আরও সচেতন হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিছুর করিম দ্রুত সেতু মেরামতের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেইসঙ্গে সারাবছরই যেন সেতুটি যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় তারও দাবি জানান।

সেতুটির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল বলেন, সেতুটি সংস্করণের জন্য বাজেট নেই, বাজেট না থাকায় কিছু করা যাচ্ছে না। বাজেট পেলে আবারো সংস্করণ করা হবে।

প্রয়াত উপাচার্য অধ্যাপক আবু ইউসুফের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এটি নির্মিত হয়। এতে অর্থায়ন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। চমৎকার ও দৃষ্টিনন্দন সেতুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পছন্দের স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম।

চবির প্রয়াত উপার্চায অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতুর আদলে এই সেতুটি নির্মাণ করান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক কৃতি শিক্ষার্থী এটি নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সেতুটি।

বিজনেস বাংলাদেশ/bh