চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে(চবির) শাটল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর বটতলী রেলওয়ে স্টেশন থেকে রোববার বেলা ২টা ৫০ মিনিটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
১০ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জাফর আলম। বৈঠকে রেলওয়ের কর্মচারীদের ৬ শর্তে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ বেলা ২টা ৫০ মিনিটের সময়সূচি থেকে শাটল ট্রেন নিয়মিত চলাচল করবে।
রেলওয়ের কর্মচারীদের দেওয়া ছয়টি শর্ত হলো, পাহাড়তলী থেকে প্রতিটি ইঞ্জিনের সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশের (জিআরবি) কমপক্ষে চারজন সদস্য দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ে কর্মচারীদের প্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন মিলে বৈঠক করতে হবে। ওই বৈঠকে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা, ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে শিক্ষার্থী উঠলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে, ছাত্রদের সচেতনতা বাড়াতে শ্রেণিকক্ষে কাউনসেলিং করতে হবে এবং গত বৃহস্পতিবার লোকোমাস্টারদের লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো. আবিদুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর শাটল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কর্মচারীদের প্রতিনিধিরা যুক্তি দেখিয়ে ছয়টি শর্ত দিয়েছেন। বিকেল থেকে শাটল ট্রেন চলা শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রোকন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা রেলওয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছি, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। লোকোমাস্টাররা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।’
প্রক্টর আরও বলেন, ‘লোকোমাস্টাররা বলছে তাদের মারধর করা হচ্ছে, কিন্তু এর কোনো প্রতিবিধান হচ্ছে না। তারা বিচার দাবি করছে। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি। তারা উপাচার্যের সঙ্গে এ বিষয়ে বসবেন বলেছেন।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার শাটল ট্রেন দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রেনের লোকোমাস্টারদের মারধর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ট্রেন স্টেশনে রেখেই দুই লোকোমাস্টার ও গার্ড পালিয়ে যান। এরপর থেকে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শাটল ট্রেন না চালানোর সিদ্ধান্ত নেন লোকোমাস্টাররা।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















