১০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২৮ অক্টোবর উদ্ধোধন হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু টানেল

২৮ অক্টোবর উদ্ধোধন হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু টানেল। উদ্বোধনের অপেক্ষায় সরকারের মেগা প্রকল্প বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষে বা আগামী মাসের শুরুতে টানেল দিয়ে শুরু হবে যানবাহনের ট্রায়াল রান। কর্ণফুলি নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত এ টানেলের উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরই মধ্যে মূল টানেলের কাজ শতভাগ কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের সার্বিক অগ্রগতি ৯৮ শতাংশ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।

১২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম সর্কিট হাউজে উদ্ধোধন সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভায় এই তথ্য জানান সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন। সভায় টানেলের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা টানেলে মোটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলার চলাচল ও টানেল কার্যক্রম পরিচালনায় লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।

টানেলে মোটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলার চলাচলে জনপ্রতিনিধিদের দাবির প্রেক্ষিতে সেতু বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন বলেন, টানেলে কোন কোন গাড়ি চলবে তা সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।

টানেলে টোলও নির্ধারণ করা হয়েছে। আমাদের ডিজাইন অনুযায়ী, টানেলের ভিতর ৮০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চলবে। যেহেতু টানেল কনসেপ্ট আমাদের জন্য নতুন, সেজন্য কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। টানেল অন্য যেকোনো ব্রিজ বা সড়কের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হচ্ছে। সেই ধারণা থেকে এই মূহুর্তে বাইক ও থ্রি-হুইলার চালানো টানেলের জন্য নিরাপদ হবে না। এতে টানেলও নিরাপদ থাকবে এবং যারা টানেল ব্যবহার করবেন তারাও নিরাপদ থাকবেন।

প্রকল্প পরিচালক বঙ্গবন্ধু টানেল, হারুন উর রশিদ বলেন, টানেলের ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল কাজ শেষে হওয়ার পর প্রি কমিশনিং ও কমিশনিং দেখা হয়েছে। এছাড়া সবগুলো সিস্টেম কাজ করছে কিনা কয়েকবার করে দেখা হয়েছে। মূল টানেলের কাজ শতভাগ শেষ। তবে পুরো প্রকল্পের কথা বললে অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ। যে ১ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে তা চলাচলে জন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না। এপ্রোচ রোড, সার্ভিস এরিয়া, পুলিশের ফাঁড়ি নির্মাণ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের কার্যক্রম চলছে।

তিনি আরও বলেন, টানেলের নিরাপত্তা, যান ও মানুষের বিচরণ নিয়ন্ত্রনে কাজ শুরু করেছে পুলিশও। উদ্ধোধনের আগে বেশ কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষন রয়েছে তাঁদের। পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী একশন প্ল্যান তৈরির পরামর্শও দিয়েছে তাঁরা।

সভায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে টানেলে জরুরি মুহুর্তে সেবা দেওয়ার জন্য পুলিশের গাড়ি টোল ফ্রি চলাচলে অনুমতি চাওয়া হয়।

বিভাগীয় কমিশন তোফায়েল ইসলাম বলেন, টানেল নিয়ে কোন মিথ্যা –নেতিবাচক খবর রটালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, ডিআইজি নুরে আলম মিনা, জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, আনোয়ারা উপজেলা চেয়রাম্যান মো. নজরুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ৩ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এ টানেলটির নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। চট্টগ্রাম শহরপ্রান্তের বাংলাদেশ নেভাল অ্যাকাডেমির পাশ দিয়ে শুরু হওয়া এই টানেল নদীর দক্ষিণ পাড়ের আনোয়ারা প্রান্তের চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড এবং কর্ণফুলি ফার্টিলাইজার কারখানার মাঝামাঝি স্থান দিয়ে নদীর দক্ষিণ প্রান্তে পৌঁছাবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ

ট্যাগ :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সিআইডি প্রধানের জরুরী ব্রিফিং

২৮ অক্টোবর উদ্ধোধন হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু টানেল

প্রকাশিত : ০৬:২০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

২৮ অক্টোবর উদ্ধোধন হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু টানেল। উদ্বোধনের অপেক্ষায় সরকারের মেগা প্রকল্প বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষে বা আগামী মাসের শুরুতে টানেল দিয়ে শুরু হবে যানবাহনের ট্রায়াল রান। কর্ণফুলি নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত এ টানেলের উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরই মধ্যে মূল টানেলের কাজ শতভাগ কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের সার্বিক অগ্রগতি ৯৮ শতাংশ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।

১২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম সর্কিট হাউজে উদ্ধোধন সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভায় এই তথ্য জানান সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন। সভায় টানেলের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা টানেলে মোটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলার চলাচল ও টানেল কার্যক্রম পরিচালনায় লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।

টানেলে মোটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলার চলাচলে জনপ্রতিনিধিদের দাবির প্রেক্ষিতে সেতু বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন বলেন, টানেলে কোন কোন গাড়ি চলবে তা সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।

টানেলে টোলও নির্ধারণ করা হয়েছে। আমাদের ডিজাইন অনুযায়ী, টানেলের ভিতর ৮০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চলবে। যেহেতু টানেল কনসেপ্ট আমাদের জন্য নতুন, সেজন্য কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। টানেল অন্য যেকোনো ব্রিজ বা সড়কের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হচ্ছে। সেই ধারণা থেকে এই মূহুর্তে বাইক ও থ্রি-হুইলার চালানো টানেলের জন্য নিরাপদ হবে না। এতে টানেলও নিরাপদ থাকবে এবং যারা টানেল ব্যবহার করবেন তারাও নিরাপদ থাকবেন।

প্রকল্প পরিচালক বঙ্গবন্ধু টানেল, হারুন উর রশিদ বলেন, টানেলের ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল কাজ শেষে হওয়ার পর প্রি কমিশনিং ও কমিশনিং দেখা হয়েছে। এছাড়া সবগুলো সিস্টেম কাজ করছে কিনা কয়েকবার করে দেখা হয়েছে। মূল টানেলের কাজ শতভাগ শেষ। তবে পুরো প্রকল্পের কথা বললে অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ। যে ১ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে তা চলাচলে জন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না। এপ্রোচ রোড, সার্ভিস এরিয়া, পুলিশের ফাঁড়ি নির্মাণ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের কার্যক্রম চলছে।

তিনি আরও বলেন, টানেলের নিরাপত্তা, যান ও মানুষের বিচরণ নিয়ন্ত্রনে কাজ শুরু করেছে পুলিশও। উদ্ধোধনের আগে বেশ কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষন রয়েছে তাঁদের। পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী একশন প্ল্যান তৈরির পরামর্শও দিয়েছে তাঁরা।

সভায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে টানেলে জরুরি মুহুর্তে সেবা দেওয়ার জন্য পুলিশের গাড়ি টোল ফ্রি চলাচলে অনুমতি চাওয়া হয়।

বিভাগীয় কমিশন তোফায়েল ইসলাম বলেন, টানেল নিয়ে কোন মিথ্যা –নেতিবাচক খবর রটালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, ডিআইজি নুরে আলম মিনা, জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, আনোয়ারা উপজেলা চেয়রাম্যান মো. নজরুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ৩ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এ টানেলটির নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। চট্টগ্রাম শহরপ্রান্তের বাংলাদেশ নেভাল অ্যাকাডেমির পাশ দিয়ে শুরু হওয়া এই টানেল নদীর দক্ষিণ পাড়ের আনোয়ারা প্রান্তের চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড এবং কর্ণফুলি ফার্টিলাইজার কারখানার মাঝামাঝি স্থান দিয়ে নদীর দক্ষিণ প্রান্তে পৌঁছাবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ