বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ঐতিহ্যবাহী গ্রাম বাংলার নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শক্রবার দুপুরে উপজেলার বাসুলিয়া খ্যাত চাপড়া বিলে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উপজেলার আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মালেক মিঞা স্মৃতি নৌকা বাইচের আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় টাঙ্গাইল ছাড়াও আশেপাশের সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ আশের পাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার অর্ধশতাধিক নৌকা অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলাম। এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সমন্বয়ক আখতার হোসেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ওলিউজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত নৌকা বাইচে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আমিন শরিফ সুপন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কিডনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এম. এ সামাদ, বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া আক্তার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিয়ার রহমান গাউস, সাধারণ সম্পাদক মির্জা রাজিক এবং নৌকা বাইচ কমিটির সদস্য সচিব সোহানুর রহমান সোহেল।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চারিদিকে থৈ থৈ পানি। ঢাক-ঢোলের তালে তালে গ্রাম বাংলার গান আর মাঝি-মাল্লার বইঠার ছন্দ মাতিয়ে তুলেছে বাসুলিয়ার চাপড়া বিলের শান্ত জলের ঢেউকে। আর সেই তালে তাল মেলাতে নৌকা বাইচ দেখতে চাপড়া বিলের বুকে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিযোগিতায় আল্লাহ ভরসা, মায়ের দোয়া, সোনার তরী, ফুলের তরী, হীরার তরী, আদর্শ তরী, ময়ূর পঙ্খী, পঙ্খীরাজ ও জলপরীসহ বাহারী নাম ও রঙের ডিঙি, কুশা, সিপাই, খেলনা, অলংগাসহ কয়েক ক্যাটাগরির প্রায় অর্ধশতাধিক নৌকা অংশ গ্রহণ করে। ছোট, বড় ও মাঝারি নৌকা নিয়ে পৃথক পৃথক কয়েকটি রাউন্ডে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
সখীপুরের বেড়বাড়ী থেকে আসা গৃহবধু রোজিনা বেগম বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছি। নৌকা বাইচ দেখতে ভাল লাগছে। প্রতি বছর এধরনের আয়োজন করলে আমরা আরও আনন্দ উপভোগ করতে পারবো।
বাসাইল সদরের ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান বলেন, এই নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে আমাদের এলাকায় উৎসবের আয়োজন চলছে। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই আত্মীয় স্বজন এসেছে। ঈদের ছুটিতেও এতো আত্মীয় স্বজন আসে না।
সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের বলেন, ‘নৌকা আমার অস্তিত্ব, বাংলাদেশ আমার অস্তিত্ব, বঙ্গবন্ধু আমার অস্তিত্ব। এরই আলোকে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ ধারাবাহিতা ভবিষ্যতেও অব্যহত থাকবে।’
প্রতিযোগিতায় মা-বাবার দোয়া নামের নৌকাটি চ্যাম্পিয়ন হয়। এ নৌকার মালিক প্রথম পুরস্কার হিসেবে মোটরসাইকেল লাভ করে। আর চাচা-ভাতিজা নামের নৌকাটি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। এ নৌকার মালিককে ফ্রিজ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়াও অংশ গ্রহণকারী প্রত্যেকটি নৌকাকেই আকর্ষনীয় পুরষ্কার দেওয়া হয়।




















