০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র ফাঁস

মাওবাদীরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র ফাঁস করেছে দেশটির পুলিশ বিভাগ। মহারাষ্ট্রের পুনে পুলিশের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মতো মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে ভারতে নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠনের সদস্যরা।

আদালতে তারা জানিয়েছে, মাওবাদী সন্দেহে ধৃত এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া চিঠিতে এই তথ্য জানা গেছে।

১৯৯১ তামিলনাড়ুতে এক প্রকাশ্য জনসভায় নিষিদ্ধ সংগঠন এলটিটিইর এক সদস্য টাইমবোমার মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হত্যা করেছিল রাজীব গান্ধীকে।

এদিকে মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দফতর থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসকে হুমকি দিয়ে দুটি চিঠি পাঠিয়েছে মাওবাদীরা। গত সপ্তাহে চিঠি দু’টি পৌঁছয় মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, সম্প্রতি গড়ছিরৌলিতে অভিযান চালানোয় ৩৯ জন মাওবাদী নিহত হয়। তার পরেই ওই চিঠি আসে।

ভীমা কোরেগাঁওয়ে গোষ্ঠী সংঘর্ষে উৎসাহ দেয়ার অভিযোগে বুধবার পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুনে পুলিশ। তারা সকলেই মাওবাদী নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে রোনা জ্যাকব উইলসন নামে একজনের ল্যাপটপ থেকে পুলিশ একটি চিঠি উদ্ধার করে। ওই চিঠিতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মতো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

চিঠির একাংশে কমরেড প্রকাশের উদ্দেশে বলা হয়েছে, হিন্দু ফ্যাসিবাদকে পরাস্ত করা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মোদির নেতৃত্বে, হিন্দু ফ্যাসিস্টরা দ্রুত এগিয়ে চলেছে, তাই তাদের থামানো জরুরি হয়ে উঠেছে।

আদালতকে পুলিশ জানিয়েছে, ওই চিঠিতে নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার জন্য আট কোটি রুপির অস্ত্র কেনার কথা বলা হয়েছে। অস্ত্রের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এম-৪ রাইফেলের নাম। এ ছাড়া চার লাখ গুলি কেনার প্রস্তাবও দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে ‘আরেকটি রাজীব গান্ধী ঘটনার’ কথা। সরকারি পিপি উজ্জ্বলা পাওয়ার আদালতকে বলেছেন, এই লাইনটি নিয়ে ভাবছি আমরা। মনে হচ্ছে, আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা হচ্ছিল এবং এতে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কাও ছিল।

এ প্রসঙ্গে শুক্রবার কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় নিরুপম বলেন, আমি এটা বলছি না যে এটা সম্পূর্ণ ভুল। কিন্তু এটা প্রধানমন্ত্রীর পুরোনো কৌশলও হতে পারে। যখন উনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং ওনার জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছিল, তখনও এ ধরণের কাহিনী রচনা করা হয়েছিল। এজন্য এতে কতটা সত্যি তা তদন্ত হওয়া উচিত। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা ও পার্সটুডে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র ফাঁস

প্রকাশিত : ১০:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ জুন ২০১৮

মাওবাদীরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র ফাঁস করেছে দেশটির পুলিশ বিভাগ। মহারাষ্ট্রের পুনে পুলিশের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মতো মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে ভারতে নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠনের সদস্যরা।

আদালতে তারা জানিয়েছে, মাওবাদী সন্দেহে ধৃত এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া চিঠিতে এই তথ্য জানা গেছে।

১৯৯১ তামিলনাড়ুতে এক প্রকাশ্য জনসভায় নিষিদ্ধ সংগঠন এলটিটিইর এক সদস্য টাইমবোমার মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হত্যা করেছিল রাজীব গান্ধীকে।

এদিকে মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দফতর থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসকে হুমকি দিয়ে দুটি চিঠি পাঠিয়েছে মাওবাদীরা। গত সপ্তাহে চিঠি দু’টি পৌঁছয় মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, সম্প্রতি গড়ছিরৌলিতে অভিযান চালানোয় ৩৯ জন মাওবাদী নিহত হয়। তার পরেই ওই চিঠি আসে।

ভীমা কোরেগাঁওয়ে গোষ্ঠী সংঘর্ষে উৎসাহ দেয়ার অভিযোগে বুধবার পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুনে পুলিশ। তারা সকলেই মাওবাদী নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে রোনা জ্যাকব উইলসন নামে একজনের ল্যাপটপ থেকে পুলিশ একটি চিঠি উদ্ধার করে। ওই চিঠিতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মতো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

চিঠির একাংশে কমরেড প্রকাশের উদ্দেশে বলা হয়েছে, হিন্দু ফ্যাসিবাদকে পরাস্ত করা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মোদির নেতৃত্বে, হিন্দু ফ্যাসিস্টরা দ্রুত এগিয়ে চলেছে, তাই তাদের থামানো জরুরি হয়ে উঠেছে।

আদালতকে পুলিশ জানিয়েছে, ওই চিঠিতে নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার জন্য আট কোটি রুপির অস্ত্র কেনার কথা বলা হয়েছে। অস্ত্রের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এম-৪ রাইফেলের নাম। এ ছাড়া চার লাখ গুলি কেনার প্রস্তাবও দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে ‘আরেকটি রাজীব গান্ধী ঘটনার’ কথা। সরকারি পিপি উজ্জ্বলা পাওয়ার আদালতকে বলেছেন, এই লাইনটি নিয়ে ভাবছি আমরা। মনে হচ্ছে, আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা হচ্ছিল এবং এতে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কাও ছিল।

এ প্রসঙ্গে শুক্রবার কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় নিরুপম বলেন, আমি এটা বলছি না যে এটা সম্পূর্ণ ভুল। কিন্তু এটা প্রধানমন্ত্রীর পুরোনো কৌশলও হতে পারে। যখন উনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং ওনার জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছিল, তখনও এ ধরণের কাহিনী রচনা করা হয়েছিল। এজন্য এতে কতটা সত্যি তা তদন্ত হওয়া উচিত। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা ও পার্সটুডে