গত ২৮ অক্টোবর বিরোধী দলের মহা সমাবেশের পর হরতাল এবং অবরোধ কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে নাশকতাকারীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মানুষের মনে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা করে আসছে। আইন শৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় র্যাব-৩ নাশকতাকারীদের গ্রেফতারে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সৃষ্ট নাশকতা দমনে গাড়িতে অগ্নিসংযোগকারী এবং ককটেল প্রস্তুতকারী গ্রেফতারে র্যাব-৩ ইতিপূর্বে উল্লেখযোগ্য অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৩ একটি চৌকস আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত রাতে রাজধানীর ফকিরাপুল কালভার্ট রোড এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে নাশকতাকারী মোঃ বাবুল মিয়া (৪০) ও মোঃ মাসুদ শেখ (৪৫)’কে উচ্চমাত্রার ৬ কেজি ১০০ গ্রাম বিস্ফোরক পাউডার, ১৫৭ বোতল ফেন্সিডিল, ০১টি ডিজিটাল পরিমাপক যন্ত্র, ১০টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ২২ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
দুপুরে কাওরানবাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেঃকর্ণেল আরিফ মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান,বাবুল মিয়া মুগদা থানাধীন ৭২ নং ওয়ার্ডের যুবদল নেতা। সে মুগদা থানার যুবদলের পদ প্রত্যাশী। দলের উচ্চ পর্যায় থেকে তাকে নাশকতামূলক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করলে উচ্চপদ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে,সে মুগদা থানার যুবদল নেতা জসীমউদ্দিন বাবু এবং মোঃ আল মামুন পান্না এর সহযোগিতায় উচ্চ বিস্ফোরণ ক্ষমতা সম্পন্ন বোমা তৈরীর বিপুল পরিমান বিস্ফোরক পাউডার সংগ্রহ করে নিজের কাছে মজুদ রাখে।
সে বিভিন্ন সময় দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশে বিভিন্ন নেতা কর্মীর কাছে এই বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহ করে আসছে। উক্ত বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে ককটেল সহ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা তৈরী করে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অবরোধ ও হরতালে জনমনে আতঙ্ক, জানমালের ক্ষতি সাধন ও প্রাণনাশের কারণ সৃষ্টি করে আসছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পরবর্তী সময় এবং ইলেকশনকালীন সময় বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টির জন্যই এই উচ্চ ক্ষমতার বিস্ফোরক সংগ্রহ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে। ইতিপূর্বে ২০১৮ সালে সংঘটিত নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে নাশকতা মূলক কর্মকান্ড করার সময় তাকে হাতে নাতে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
অফর আসামী মাসুদ শেখ ১৯৯৮ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে ২০০২ সালে ঢাকা আল-আমিন বিস্কুট কোম্পানীতে সেলস্ ম্যান হিসাবে ৬ বছর চাকুরি করে। চাকুরীর পাশাপাশি অধিক লাভের আশায় সে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ নিজেকে বিএনপির সমর্থক বলে পরিচয় দেয়। ধৃত বাবুল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এবং একই দলের সম্পৃক্ততার কারনে মাসুদ তার মাদক ব্যবসা বিস্তারের জন্য বিগত এক বছর ধরে তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। গ্রেফতারকৃত বাবুল মিয়া মুগদা এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকান্ড করার পর পালিয়ে গিয়ে ফকিরাপুলের কালভার্ট রোডে মাসুদের বাসায় আত্মগোপন করে। ধৃত মাসুদ, বাবুল মিয়াকে অর্থ দিয়ে সহায়তা করে এবং বিস্ফোরক দ্রব্য নিজ বাসায় অতি গোপনীয়ভাবে রাখতে সহায়তা করে।
মাসুদ দীর্ঘদিন যাবৎ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করে আসছে। ইতিপূর্বে সে মাদকসহ তার নিজ এলাকা খুলনাতে গ্রেফতার হয়। তার পরিবার বিগত ১৫ বছর ধরে বাসাবো এলাকায় বসবাস করে কিন্তু মাসুদ ফকিরাপুলের কালভার্ট রোডে বাসা ভাড়া নিয়ে মাদক দ্রব্য এবং বিস্ফোরকদ্রব্য মজুদ করে। অবরোধকে কেন্দ্র করে তার বাসায় ককটেলসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য তৈরী করা হতো এবং তার বাসায় বিরোধী দলের বিভিন্ন নেতা কর্মীর যাতায়াত ছিল।গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
বিজনেস বাংলাদেশ/একে























