আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনের প্রার্থী ও তাদের কর্মী–সমর্থকরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে প্রচারণায় উৎসবের চেয়ে উত্তাপ বেশি ছড়িয়ে পড়ছে।
কর্মী–সমর্থকরা জড়িয়ে পড়ছেন সহিংসতায়। মনোনয়নপত্র জমাদানের পর থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেবের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে দুই প্রার্থীর নেতাকর্মীরা সহিংসতায় লিপ্ত হন। চলছে পরস্পর কাদা ছোড়াছুড়ি। একে অপরকে দিচ্ছেন গডফাদারের তকমা।
কর্মী–সমর্থকদের বাড়িতে গুলিবর্ষণ, গাড়ি, নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর, প্রচারণায় হামলা, মাইকিং, ব্যানার ও পোস্টার লাগাতে বাধা প্রদানসহ প্রতিদিনই ঘটছে কোনো না কোনো ঘটনা। অনলাইনেও চলছে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ। সাধারণ ভোটাররা এটাকে বলছেন, মাঠ গরম। এই উত্তাপে কোথাও কোথাও আতংকও আছে। তবে সহিংসতা ঠেকাতে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। সহিংসতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
চট্টগ্রাম ১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। নিজের এবং স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট আবেদন করেছেন চট্টগ্রাম–১৫ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের মাধ্যমে ২৭ ডিসেম্বর বুধবার আবু রেজা নদভী এ আবেদন করেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, আমাকে এবং আমার স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরীকে প্রতিনিয়ত নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে হচ্ছে। প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে ইতোমধ্যে একাধিকবার স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেবের সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছি। চরতিতে আমার স্ত্রীর নেতৃত্বে নৌকার প্রচারণাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সন্ত্রাসীদের হামলায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ২০ জন আহত হয়েছে। এওচিয়ায় নৌকার পক্ষে উঠান বৈঠক চলাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতিতে গুলি বর্ষণ করেছে। সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নে প্রচারণায় যাওয়ার সময় চিব্বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় আমার উপর হামলার চেষ্টা করেছে। এর আগে আমার সমর্থক ব্যবসায়ী রিয়াজ উদ্দিন রিয়াদের বাড়িতে গুলি বর্ষণ করেছে। নৌকার পক্ষে গণজোয়ার দেখে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোতালেব সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মোতালেবের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এখন এলাকায় অবস্থান করছে। তিনি বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে কেন্দ্র দখল করার ষড়যন্ত্র করছে। বর্তমানে আমার সাথে কোন গানম্যান নাই। ফলে আমি এবং আমার স্ত্রী নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। এজন্য আমার এবং আমার স্ত্রী কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য রিজিয়া রেজা চৌধুরীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানাচ্ছি।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু রেজা নদভীর নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার অভিযোগের বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেব জানান, আমরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা আমার সমর্থক পশ্চিম ঢেমশা ইউপি চেয়ারম্যান রিদুয়ানুল ইসলাম সুমনের বাড়িতে গুলি বর্ষণ করেছে। মাইক কেড়ে নিচ্ছে, পোস্টার লাগাতে বাধা দিচ্ছে। আমার কোন লোক তাদের উপর হামলা করেনি। এগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ।
বিজনেস বাংলাদেশ/একে




















