০৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে নৃশংসভাবে পিটিয়ে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ৬ আসামী’কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব

সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারে টেকনাফ এলাকায় বার্মিজ মার্কেটের ব্যবসায়ির দ্বন্ধে হত্যার রহস্য উদঘাটনে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩ ।

র‍্যাব-৩ এবং র‍্যাব-১৫ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল গত ২৯ এপ্রিল ২০২৪ ইং ৬ ঘটিকার সময় রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সম্প্রতি টেকনাফের বার্মিজ মার্কেটে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর সাবের হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি মোঃ ইয়াছিন (৩৫)এবং মোঃ সালমান (২৭)আব্দুল্লাহ (৪৩)সোহাগ (৩২)বাবলু (২৮) ও আব্দুল জব্বার (৩১)কক্সবাজারথেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ভিকটিম সাবের টেকনাফ থানাধীন বার্মিজ মার্কেটে জুতার ব্যবসা করতো। তার দোকানের সামনে গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি ইয়াছিনের একটি বন্ধ দোকান রয়েছে। গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন পূর্বশত্রুতার জেরে সাবেরের ব্যবসা শুরুর পর হতেই তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে অহেতুক হয়রানি করে বেচা-বিক্রিতে ক্ষতিসাধন করতো। উক্ত বিষয়ে ভিকটিম সাবের মার্কেটের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের জানালে গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন ও অন্যান্য আসামিরা সাবেরকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।

গত ২ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ ৫, ঘটিকায় ভিকটিম সাবের নিজ দোকানের জায়গা সংকটের কারণে গ্রেফতারকৃত ইয়াছিনের বন্ধ থাকা দোকানটির সামনে একটি জুতার বস্তাসহ কয়েক জোড়া জুতা ঝুলিয়ে রাখে। এ নিয়ে গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন ভিকটিমকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকলে ভিকটিম প্রতিবাদ করায় তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন, সালমান, আব্দুল্লাহ, সোহাগ, বাবলু, জব্বার এবং পলাতক আসামি নুর হোছন, এমরান ও কেফায়েতসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন মিলে ধারালো টিপ ছুরি, রামদা, হাতুড়ি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভিকটিম সাবেরকে দোকান থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে তার উপর নৃশংস হামলা চালায়। গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন তার হাতে থাকা হাতুড়ি দিয়ে ভিকটিম সাবেরের মাথায় আঘাত করলে সাবের মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

এরপরও আসামিরা লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাথাড়িভাবে উপুর্যপরি আঘাত করতে থাকলে ভিকটিম সাবের অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মার্কেটের লোকজন এবং ভিকটিমের ভাই ঘটনাস্থলে এসে হাজির হলে সকল আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।ভিকটিমকে উদ্ধারপূর্বক চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে গত ১০ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ ১১ ঘটিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম সাবের মৃত্যুবরণ করে।

উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের বড় ভাই সাদেক বাদী হয়ে ১৩ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। মামলাটি রুজু হওয়ার পরপরই আসামিরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে নিজ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। এপ্রেক্ষিতে উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করলে গত ২৯ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ র‍্যাব-৩ এবং র‍্যাব-১৫ এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর পল্টন এলাকা হতে হত্যা মামলার ৬ জন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পলাতক অপরাপর আসামিদের গ্রেফতারে র‌্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রাসেলস ভাইপার সাপ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহবান: গোপালগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগ

ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে নৃশংসভাবে পিটিয়ে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ৬ আসামী’কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব

প্রকাশিত : ০৫:৪০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৪

সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারে টেকনাফ এলাকায় বার্মিজ মার্কেটের ব্যবসায়ির দ্বন্ধে হত্যার রহস্য উদঘাটনে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩ ।

র‍্যাব-৩ এবং র‍্যাব-১৫ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল গত ২৯ এপ্রিল ২০২৪ ইং ৬ ঘটিকার সময় রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সম্প্রতি টেকনাফের বার্মিজ মার্কেটে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর সাবের হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি মোঃ ইয়াছিন (৩৫)এবং মোঃ সালমান (২৭)আব্দুল্লাহ (৪৩)সোহাগ (৩২)বাবলু (২৮) ও আব্দুল জব্বার (৩১)কক্সবাজারথেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ভিকটিম সাবের টেকনাফ থানাধীন বার্মিজ মার্কেটে জুতার ব্যবসা করতো। তার দোকানের সামনে গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি ইয়াছিনের একটি বন্ধ দোকান রয়েছে। গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন পূর্বশত্রুতার জেরে সাবেরের ব্যবসা শুরুর পর হতেই তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে অহেতুক হয়রানি করে বেচা-বিক্রিতে ক্ষতিসাধন করতো। উক্ত বিষয়ে ভিকটিম সাবের মার্কেটের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের জানালে গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন ও অন্যান্য আসামিরা সাবেরকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।

গত ২ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ ৫, ঘটিকায় ভিকটিম সাবের নিজ দোকানের জায়গা সংকটের কারণে গ্রেফতারকৃত ইয়াছিনের বন্ধ থাকা দোকানটির সামনে একটি জুতার বস্তাসহ কয়েক জোড়া জুতা ঝুলিয়ে রাখে। এ নিয়ে গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন ভিকটিমকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকলে ভিকটিম প্রতিবাদ করায় তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন, সালমান, আব্দুল্লাহ, সোহাগ, বাবলু, জব্বার এবং পলাতক আসামি নুর হোছন, এমরান ও কেফায়েতসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন মিলে ধারালো টিপ ছুরি, রামদা, হাতুড়ি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভিকটিম সাবেরকে দোকান থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে তার উপর নৃশংস হামলা চালায়। গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন তার হাতে থাকা হাতুড়ি দিয়ে ভিকটিম সাবেরের মাথায় আঘাত করলে সাবের মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

এরপরও আসামিরা লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাথাড়িভাবে উপুর্যপরি আঘাত করতে থাকলে ভিকটিম সাবের অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মার্কেটের লোকজন এবং ভিকটিমের ভাই ঘটনাস্থলে এসে হাজির হলে সকল আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।ভিকটিমকে উদ্ধারপূর্বক চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে গত ১০ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ ১১ ঘটিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম সাবের মৃত্যুবরণ করে।

উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের বড় ভাই সাদেক বাদী হয়ে ১৩ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। মামলাটি রুজু হওয়ার পরপরই আসামিরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে নিজ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। এপ্রেক্ষিতে উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করলে গত ২৯ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ র‍্যাব-৩ এবং র‍্যাব-১৫ এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর পল্টন এলাকা হতে হত্যা মামলার ৬ জন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পলাতক অপরাপর আসামিদের গ্রেফতারে র‌্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।