ভোলার চরফ্যাশনে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ও পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল (ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন) তৈরি করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন মো. রায়হান নামের এক তরুণ। তার তৈরি করা জ্বালানি তেলের মেশিন ও তেল দেখতে বাড়িতে ভিড় করছে এলাকাবাসী।
এ তরুণ উদ্যোক্তা রায়হান উপজেলার দক্ষিণ আইচা অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং চর-মানিকা ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ড চর-কচ্ছপিয়া গ্রামের মো. দ্বীন ইসলাম মুন্সীর ছেলে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রায়হান বাড়ির পাশে খালি জায়গায় একটি ড্রাম বসিয়ে জ্বালানি তেলের মেশিন বানিয়েছে। পরিত্যক্ত ও পরিবেশ বিনষ্টকারী পলিথিন কুড়িয়ে ওই মেশিনে বা ড্রামে দেয়। তারপর বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাপ দেয়। আগুনের তাপে ড্রাম থেকে নির্গত বায়োগ্যাস পাইপ দিয়ে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে রাখা পানিতে ঠান্ডা হয়। পরে ছোট চারটি কন্টেইনারে জমা হচ্ছে তরল পদার্থ বা জ্বালানি তেল। কন্টেইনারগুলোতে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও বায়োগ্যাস জমা হয়।
উদ্যোক্তা রায়হান জানান, ইউটিউবে ভিডিও দেখে হাটবাজার থেকে পরিত্যক্ত পলিথিন সংগ্রহ করে বাড়ির উঠানে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করে। যন্ত্রাংশ বলতে একটি তাপ সহনশীল ড্রাম, চারটি কন্টেইনার, একটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের পাইপ। শুরুতে ড্রামের মধ্যে পলিথিনের কুণ্ডলি বানিয়ে দেয়। পরে মুখ বন্ধ করে আগুনের তাপ দেয়। এতেই পলিথিন গলে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও বায়োগ্যাস উৎপাদন হয়। সেগুলো আগুনে জ্বালিয়ে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষাও করেছে রায়হান।
রায়হান আরও জানান, সরকারের সহযোগিতা পেলে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন করে অর্থনীতিতে অবদান রাখবো। তার স্বপ্ন আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে বড় কারখানা গড়ে তুলে এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
দক্ষিণ আইচা অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হাশেম মহাজন বলেন, তার কলেজের ছাত্র রায়হান প্রতিভাবান এক তরুণ। তার পাশে সরকার ও উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা দরকার।
চর-মানিকা ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন রাসেল বলেন, “রায়হানের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমরা তার এ কাজকে আরও বেগবান করতে পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করব”।










