চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার উত্তর পাইকপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব ভাওয়াল তালুকদার বাড়ি এলাকায় একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ১৫ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে। সেতু নির্মাণ না হওয়ায় এতে বেশি করে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ শিশু ও বয়স্কদের। শুধু তাই নয়, ওই সাঁকো ভেঙে শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী পানিতে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তাছাড়া পাইকপাড়া থেকে পূর্ব ভাওয়াল তালুকদার বাড়ির সড়কটির বেহাল দশা। জানা গেছে, উত্তর পাইকপাড়া ইউপির পূর্ব ভাওয়াল তালুকদার বাড়ি গ্রামে খালের ওপর ভেঙে যাওয়া সাঁকোটি স্বেচ্ছাশ্রমে স্থানীয় মানুষ সাঁকো নির্মাণ করলেও তা কিছুদিনের মধ্যেই আবার ভেঙে পড়ে। তারপর থেকে ওই স্থানে প্রতিবছর বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন স্থানীয়রা। তবে ওই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় সর্বস্তরের মানুষকে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলেও সেতু নির্মাণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। একটি সেতুই পারে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের ভোগান্তি দূর করতে। তাছাড়া ওই রাস্তাটিরও বেহাল দশা। রাস্তা নির্মাণে নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। স্থানীয়রা রাস্তা নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামের মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি পার হয়েই উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যেতে হয়। সেতু না থাকায় গ্রামের মানুষকে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে ভীষণ বেগ পোহাতে হয়। এছাড়া পাটারিবাজার, শাহীবাজার, শোল্লাবাজার ও মুন্সীরহাট বড় বাজারে যেতে হয় এ সাঁকো দিয়ে। সেখানেও কৃষি পণ্য নিয়ে যেতে কৃষকদের কষ্টের শেষ থাকে না। এদিকে ওই এলাকার শত শত শিক্ষার্থীকে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতে হয়।
স্থানীয় পূর্ব ভাওয়াল তালুকদার বাড়ি গ্রামের আবুল কালাম তালুকদার জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এখানে কোনো সেতু নেই। এলাকাবাসীর সহায়তায় স্বেচ্ছাশ্রমে কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। কাঠের ব্রিজের ওপর দিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যাতায়াত করার কারণে অল্প দিনেই ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়।
এদিকে গত কিছু দিন আগে একটি অটোরিকশা সেতু ভেঙে পড়ে গিয়ে দুজন আহত হন। এভাবে আর কতদিন? আমরা কৃষি পণ্য হাট-বাজারে নিয়ে যেতে পারি না। নিয়ে গেলেও খরচ বেশি হয়। আমাদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই সেতুটি হলে এই গ্রামসহ বেশ কয়েক গ্রামের সমস্যার সমাধান হবে।
সোল্লা বাজার হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া জাহান বিথি, ইভা তালুকদার, জেরিন তালুকদার প্রীতি তালুকদার বলে, আমরা ঝুঁকি নিয়ে ওই সাঁকো পার হই। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছে। এদিকে বর্ষা মৌসুম এলে আমাদের কষ্টের শেষ থাকে না। পাইকপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শামীম বেপারী বলেন, বাঁশের সাঁকো স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে বার বার নির্মাণ করা হয়। তবে কিছু দিন পর পর তা ভেঙে পড়ে। ব্রিজটি নির্মাণে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
নবনির্বাচিত উত্তর পাইকপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু পাওয়ারী বলেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। ইতোমধ্যেই স্থানীয় এলজিইডি উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন সেতুটি নির্মাণের জন্য এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলেই দ্রুত সেখানে সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।










