১২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

বাড়ছেই পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা, কী লাভ দেশের

বাংলাদেশের নতুন আরও একটি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা পরিবেশবান্ধব সনদ পেয়েছে। এ নিয়ে দেশে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২১৮। যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। গ্রিন ফ্যাক্টরির সনদ পেতে আরও ৫৫০টি আবেদন এখনো জমা পড়ে আছে। কিন্তু, আমরা কী জানি গ্রিন ফ্যাক্টরি আসলে কি? এই সনদ পেয়ে বাংলাদেশের লাভ কী? আর কীভাবে আসে এই গ্রিন ফ্যাক্টরির সনদ?

পরিবেশ রক্ষার জন্যই এ ধরনের কারখানা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে বের হয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করেই সবুজ কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমিয়ে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব কারখানা তৈরির কোনো বিকল্প নেই।

সবুজ কারখানায় বাংলাদেশের কি লাভ:

সারাবিশ্বই এখন পরিবেশ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা সবাই জানি, বস্ত্র বা পোশাক খাত বিশ্বে অন্যতম পরিবেশ দূষণকারী শিল্প। এ ক্ষেত্রে ক্রেতার সবসময়ই আগ্রহ থাকে যতটুকু সম্ভব সাসটেইনেবল সোর্সিং করার। তাই সাধারণ মানের কারখানার চেয়ে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া বা পণ্যের প্রতি তাদের আগ্রহ একটু বেশিই থাকে। কিন্তু ক্রেতারা তাদের ওপর সামাজিক দায়বদ্ধতা বা চাপের কারণে পরিবেশবান্ধব পোশাক সোর্সিং করতে যতটা আগ্রহ দেখায়, ন্যায্য দাম দেওয়ার ক্ষেত্রে ঠিক ততটাই অনাগ্রহ দেখায়। এর ভেতরেও সাধারণ কারখানার তুলনায় দর-কষাকষিতে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা যায়।

যে ভাবে পাওয়া যাবে গ্রীণ সার্টিফিকেট:

কোনো উদ্যোক্তা লিড মানের কারখানা করতে চাইলে প্রথমে ইউএসজিবিতে নিবন্ধন নিতে হয়। তারপর ইউএসজিবি একটি নির্মাণ কোড দেয়। এই কোডেই স্থাপত্য, প্রকৌশলসহ সব নকশা থাকে। নির্মাণসামগ্রীর তালিকা, মান এবং কোন উৎস থেকে কোন সামগ্রী সংগ্রহ করতে হবে- সেটিও থাকে। ইউএসজিবির নিবন্ধিত উপদেষ্টার নিবিড় তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ এগোতে থাকে। সময়ে সময়ে তদারকি করে ইউএসজিবি পরিদর্শক দল। অর্থাৎ অনেক ব্যয় এবং কাঠখড় পুড়িয়েই অবশেষে মেলে লিড সনদ। ইউএসজিবিসির ওয়েবসাইট ঘেঁটে জানা যায়, সাধারণ একটি কারখানার তুলনায় লিড সনদ পাওয়া কারখানার জ্বালানি সাশ্রয় ২৪ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ। পানির ব্যবহার কম হয় ৪০ শতাংশ। বর্জ্য উৎপাদন কম হয় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কম হয় ১৩ শতাংশ। একটি রেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে কারখানার নকশা, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর লিড সনদ দেওয়া হয়। ছোট বিষয়কেও গুরুত্ব দিয়ে বিশ্নেষণ করা হয়। যেমন, শুধু কারখানার অবস্থান সূচকেই ২৬ রেটিং পয়েন্ট বিবেচনা করা হয়। স্থানীয়দের সহজ যাতায়াত, পরিবহন ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও পয়েন্ট রয়েছে। এরকম ১১০ পয়েন্টের মধ্যে ৮০ পয়েন্টের ওপরের কারখানাকে প্লাটিনাম সনদ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে প্লাটিনাম সনদ পাওয়া কারখানা ৪৩টি। ১০০ পয়েন্টও পেয়েছে একটি কারখানা। তবে ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে কারখানাটির নাম প্রকাশ করা হয়নি। রেটিং পয়েন্ট ৬০ হলে গোল্ড ক্যাটাগরির সনদ দেয় ইউএসজিবি। এ ক্যাটাগরিতে ৭৮ পয়েন্ট পেয়েছে দেশের একটি কারখানা। তবে কারখানাটির নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। দেশে গোল্ড ক্যাটাগরির কারখানার সংখ্যা ৯২টি। সিলভার ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে রেটিং পয়েন্ট ৫০ থেকে ৫৯ এর মধ্যে। দেশে এই মানের কারখানা ৯টি। এ ছাড়া শুধু লিড সনদ পাওয়া কারখানার সংখ্যা চারটি।

সবশেষ গ্রীণ সনদ পাওয়া এ কারখানাটি হচ্ছে ঢাকার উত্তরখান এলাকার কেসি জ্যাকেটওয়্যার কোম্পানি। কারখানাটি লিড প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। । তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১২টি তৈরি পোশাক কারখানা পরিবেশবান্ধব সনদ পেয়েছে; এর মধ্যে আটটি প্লাটিনাম ও চারটি গোল্ড ক্যাটাগরির। কারখানাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) থেকে পরিবেশবান্ধব সনদ পেয়েছে। এই সনদ পাওয়ার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কয়েকটি শর্ত পরিপালন করতে হয়। মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে কোনো কারখানা ৮০-এর বেশি পেলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ পেলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ নম্বর পেলে ‘লিড সিলভার’ ও ৪০-৪৯ নম্বর পেলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ দেওয়া হয়। বিজিএমইএ জানায়, নতুন সনদ পাওয়া কেসি জ্যাকেটওয়্যার কোম্পানি ৮৪ নম্বর পেয়েছে। বিশ্বের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএসজিবিসি যে সনদ দেয়, তার নাম ‘লিড’। লিডের পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো, লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন। এ সনদ পেতে প্রতিটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে স্থাপনা নির্মাণের কাজ থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে মান রক্ষা করতে হয়।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০টি পরিবেশবান্ধব কারখানার ৯টিই এখন বাংলাদেশে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশবান্ধব কারখানার স্বীকৃতি পেয়েছে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর এসএম সোর্সিং। ১১০ নম্বরের মধ্যে কারখানাটি ১০৬ পেয়েছে। দেশের অন্য শীর্ষস্থানীয় পরিবেশবান্ধব কারখানাগুলো হচ্ছে ময়মনসিংহের গ্রিন টেক্সটাইল, গাজীপুরের নিট এশিয়া ও ইন্টিগ্রা ড্রেসেস, নারায়ণগঞ্জের রেমি হোল্ডিংস ও ফতুল্লা অ্যাপারেলস, গাজীপুরের লিডা টেক্সটাইল অ্যান্ড ডাইং ও লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মানিকগঞ্জের তারাসিমা অ্যাপারেলস। বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, পরিবেশবান্ধব ২১৮ কারখানার মধ্যে লিড প্লাটিনাম ৮৪টি, লিড গোল্ড ১২০, লিড সিলভার ১০ ও সার্টিফায়েড ৪টি। অর্থাৎ ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কারখানা লিড প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/BH

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাড়ছেই পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা, কী লাভ দেশের

প্রকাশিত : ০৮:১২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪

বাংলাদেশের নতুন আরও একটি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা পরিবেশবান্ধব সনদ পেয়েছে। এ নিয়ে দেশে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২১৮। যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। গ্রিন ফ্যাক্টরির সনদ পেতে আরও ৫৫০টি আবেদন এখনো জমা পড়ে আছে। কিন্তু, আমরা কী জানি গ্রিন ফ্যাক্টরি আসলে কি? এই সনদ পেয়ে বাংলাদেশের লাভ কী? আর কীভাবে আসে এই গ্রিন ফ্যাক্টরির সনদ?

পরিবেশ রক্ষার জন্যই এ ধরনের কারখানা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। মুনাফাভিত্তিক ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে বের হয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করেই সবুজ কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমিয়ে বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব কারখানা তৈরির কোনো বিকল্প নেই।

সবুজ কারখানায় বাংলাদেশের কি লাভ:

সারাবিশ্বই এখন পরিবেশ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা সবাই জানি, বস্ত্র বা পোশাক খাত বিশ্বে অন্যতম পরিবেশ দূষণকারী শিল্প। এ ক্ষেত্রে ক্রেতার সবসময়ই আগ্রহ থাকে যতটুকু সম্ভব সাসটেইনেবল সোর্সিং করার। তাই সাধারণ মানের কারখানার চেয়ে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া বা পণ্যের প্রতি তাদের আগ্রহ একটু বেশিই থাকে। কিন্তু ক্রেতারা তাদের ওপর সামাজিক দায়বদ্ধতা বা চাপের কারণে পরিবেশবান্ধব পোশাক সোর্সিং করতে যতটা আগ্রহ দেখায়, ন্যায্য দাম দেওয়ার ক্ষেত্রে ঠিক ততটাই অনাগ্রহ দেখায়। এর ভেতরেও সাধারণ কারখানার তুলনায় দর-কষাকষিতে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা যায়।

যে ভাবে পাওয়া যাবে গ্রীণ সার্টিফিকেট:

কোনো উদ্যোক্তা লিড মানের কারখানা করতে চাইলে প্রথমে ইউএসজিবিতে নিবন্ধন নিতে হয়। তারপর ইউএসজিবি একটি নির্মাণ কোড দেয়। এই কোডেই স্থাপত্য, প্রকৌশলসহ সব নকশা থাকে। নির্মাণসামগ্রীর তালিকা, মান এবং কোন উৎস থেকে কোন সামগ্রী সংগ্রহ করতে হবে- সেটিও থাকে। ইউএসজিবির নিবন্ধিত উপদেষ্টার নিবিড় তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ এগোতে থাকে। সময়ে সময়ে তদারকি করে ইউএসজিবি পরিদর্শক দল। অর্থাৎ অনেক ব্যয় এবং কাঠখড় পুড়িয়েই অবশেষে মেলে লিড সনদ। ইউএসজিবিসির ওয়েবসাইট ঘেঁটে জানা যায়, সাধারণ একটি কারখানার তুলনায় লিড সনদ পাওয়া কারখানার জ্বালানি সাশ্রয় ২৪ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ। পানির ব্যবহার কম হয় ৪০ শতাংশ। বর্জ্য উৎপাদন কম হয় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কম হয় ১৩ শতাংশ। একটি রেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে কারখানার নকশা, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর লিড সনদ দেওয়া হয়। ছোট বিষয়কেও গুরুত্ব দিয়ে বিশ্নেষণ করা হয়। যেমন, শুধু কারখানার অবস্থান সূচকেই ২৬ রেটিং পয়েন্ট বিবেচনা করা হয়। স্থানীয়দের সহজ যাতায়াত, পরিবহন ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও পয়েন্ট রয়েছে। এরকম ১১০ পয়েন্টের মধ্যে ৮০ পয়েন্টের ওপরের কারখানাকে প্লাটিনাম সনদ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে প্লাটিনাম সনদ পাওয়া কারখানা ৪৩টি। ১০০ পয়েন্টও পেয়েছে একটি কারখানা। তবে ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে কারখানাটির নাম প্রকাশ করা হয়নি। রেটিং পয়েন্ট ৬০ হলে গোল্ড ক্যাটাগরির সনদ দেয় ইউএসজিবি। এ ক্যাটাগরিতে ৭৮ পয়েন্ট পেয়েছে দেশের একটি কারখানা। তবে কারখানাটির নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। দেশে গোল্ড ক্যাটাগরির কারখানার সংখ্যা ৯২টি। সিলভার ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে রেটিং পয়েন্ট ৫০ থেকে ৫৯ এর মধ্যে। দেশে এই মানের কারখানা ৯টি। এ ছাড়া শুধু লিড সনদ পাওয়া কারখানার সংখ্যা চারটি।

সবশেষ গ্রীণ সনদ পাওয়া এ কারখানাটি হচ্ছে ঢাকার উত্তরখান এলাকার কেসি জ্যাকেটওয়্যার কোম্পানি। কারখানাটি লিড প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। । তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১২টি তৈরি পোশাক কারখানা পরিবেশবান্ধব সনদ পেয়েছে; এর মধ্যে আটটি প্লাটিনাম ও চারটি গোল্ড ক্যাটাগরির। কারখানাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) থেকে পরিবেশবান্ধব সনদ পেয়েছে। এই সনদ পাওয়ার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কয়েকটি শর্ত পরিপালন করতে হয়। মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে কোনো কারখানা ৮০-এর বেশি পেলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ পেলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ নম্বর পেলে ‘লিড সিলভার’ ও ৪০-৪৯ নম্বর পেলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ দেওয়া হয়। বিজিএমইএ জানায়, নতুন সনদ পাওয়া কেসি জ্যাকেটওয়্যার কোম্পানি ৮৪ নম্বর পেয়েছে। বিশ্বের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএসজিবিসি যে সনদ দেয়, তার নাম ‘লিড’। লিডের পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো, লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন। এ সনদ পেতে প্রতিটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে স্থাপনা নির্মাণের কাজ থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে মান রক্ষা করতে হয়।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১০টি পরিবেশবান্ধব কারখানার ৯টিই এখন বাংলাদেশে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশবান্ধব কারখানার স্বীকৃতি পেয়েছে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর এসএম সোর্সিং। ১১০ নম্বরের মধ্যে কারখানাটি ১০৬ পেয়েছে। দেশের অন্য শীর্ষস্থানীয় পরিবেশবান্ধব কারখানাগুলো হচ্ছে ময়মনসিংহের গ্রিন টেক্সটাইল, গাজীপুরের নিট এশিয়া ও ইন্টিগ্রা ড্রেসেস, নারায়ণগঞ্জের রেমি হোল্ডিংস ও ফতুল্লা অ্যাপারেলস, গাজীপুরের লিডা টেক্সটাইল অ্যান্ড ডাইং ও লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মানিকগঞ্জের তারাসিমা অ্যাপারেলস। বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, পরিবেশবান্ধব ২১৮ কারখানার মধ্যে লিড প্লাটিনাম ৮৪টি, লিড গোল্ড ১২০, লিড সিলভার ১০ ও সার্টিফায়েড ৪টি। অর্থাৎ ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কারখানা লিড প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/BH