১২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

রোহিঙ্গাদের ভারত থেকে বাংলাদেশে বিতাড়নের অভিযোগ, যা বলছে জাতিসংঘ

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ তুলেছে আইনী প্রতিষ্ঠান গুয়ের্নিকা থার্টিসেভেন। আর এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাছে তদন্তের দাবিও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই অলাভজনক সংস্থাটি।

আর এই প্রসঙ্গটি জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে উঠে এসেছে। এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ বলেছে, শরণার্থীদের জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়।

একইসঙ্গে শরণার্থীদের কেবল স্বেচ্ছায় তাদের নিজ দেশে নিরাপত্তা এবং সম্মানের সঙ্গে ফেরত পাঠানোর সুযোগ দিতে হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ মে) জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এসব মন্তব্য করেন।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, তারা আর কোনো রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেবে না। দেশটির সরকার কী নতুন করে শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে সম্মত হয়েছে? এছাড়া ভারত জোরপূর্বক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে বিতাড়নের বিষয়ে জাতিসংঘের মন্তব্য কী? সম্প্রতি গুয়ের্নিকা থার্টিসেভেন এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছে।

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলব- আমি এই রিপোর্টগুলোর কোনোটিই দেখিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এ আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি।

তিনি আরও বলেন, স্পষ্টতই, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে থাকার জায়গা করে দিয়ে বাংলাদেশ খুব উদারতার পরিচয় দিয়েছে। এবং আমি মনে করি বাংলাদেশের বিভিন্ন কমিউনিটিও এই বিষয়ে উদারতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেখানে আমাদের মানবিক কার্যক্রমে সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে আমি আশাবাদী।

স্টিফেন ডুজারিক বলেন, আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নে বলব, আমি এই বিষয়ে কিছুই দেখিনি। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি, নিরাপদ নয় এমন জায়গায় শরণার্থীদের জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়।

শরণার্থীদের কেবল নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে স্বেচ্ছায় তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের এই মুখপাত্র।

উল্লেখ্য, গুয়ের্নিকা থার্টিসেভেন চেম্বারস নামে একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ভারত থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক বিতাড়নের ঘটনা তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) প্রসিকিউটরের অফিসে (ওটিপি) অভিযোগ জমা দিয়েছে।

বুধবার দাখিল করা এই অভিযোগে গুয়ের্নিকা থার্টিসেভেন বলেছে, ভারতীয় কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে যা তদন্ত করা আইসিসির কার্যক্ষমতার আওতায় পড়ে। আইসিসি বর্তমানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধের তদন্ত করছে।

২০১৬ সাল থেকে বার্মিজ সামরিক বাহিনী জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এই অপরাধকে গণহত্যা বলে মনে করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

জনপ্রিয়

ঈদে অনুরূপ আইচের ভেজাল বিরোধী গান : গেয়েছেন ভেজাল নিজাম

রোহিঙ্গাদের ভারত থেকে বাংলাদেশে বিতাড়নের অভিযোগ, যা বলছে জাতিসংঘ

প্রকাশিত : ০২:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ তুলেছে আইনী প্রতিষ্ঠান গুয়ের্নিকা থার্টিসেভেন। আর এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাছে তদন্তের দাবিও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই অলাভজনক সংস্থাটি।

আর এই প্রসঙ্গটি জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে উঠে এসেছে। এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ বলেছে, শরণার্থীদের জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়।

একইসঙ্গে শরণার্থীদের কেবল স্বেচ্ছায় তাদের নিজ দেশে নিরাপত্তা এবং সম্মানের সঙ্গে ফেরত পাঠানোর সুযোগ দিতে হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ মে) জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এসব মন্তব্য করেন।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, তারা আর কোনো রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেবে না। দেশটির সরকার কী নতুন করে শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে সম্মত হয়েছে? এছাড়া ভারত জোরপূর্বক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে বিতাড়নের বিষয়ে জাতিসংঘের মন্তব্য কী? সম্প্রতি গুয়ের্নিকা থার্টিসেভেন এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছে।

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলব- আমি এই রিপোর্টগুলোর কোনোটিই দেখিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এ আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি।

তিনি আরও বলেন, স্পষ্টতই, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে থাকার জায়গা করে দিয়ে বাংলাদেশ খুব উদারতার পরিচয় দিয়েছে। এবং আমি মনে করি বাংলাদেশের বিভিন্ন কমিউনিটিও এই বিষয়ে উদারতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেখানে আমাদের মানবিক কার্যক্রমে সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে আমি আশাবাদী।

স্টিফেন ডুজারিক বলেন, আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নে বলব, আমি এই বিষয়ে কিছুই দেখিনি। তবে আমি আপনাকে বলতে পারি, নিরাপদ নয় এমন জায়গায় শরণার্থীদের জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়।

শরণার্থীদের কেবল নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে স্বেচ্ছায় তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের এই মুখপাত্র।

উল্লেখ্য, গুয়ের্নিকা থার্টিসেভেন চেম্বারস নামে একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ভারত থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক বিতাড়নের ঘটনা তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) প্রসিকিউটরের অফিসে (ওটিপি) অভিযোগ জমা দিয়েছে।

বুধবার দাখিল করা এই অভিযোগে গুয়ের্নিকা থার্টিসেভেন বলেছে, ভারতীয় কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে যা তদন্ত করা আইসিসির কার্যক্ষমতার আওতায় পড়ে। আইসিসি বর্তমানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধের তদন্ত করছে।

২০১৬ সাল থেকে বার্মিজ সামরিক বাহিনী জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এই অপরাধকে গণহত্যা বলে মনে করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে