ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে রংপুর জেলা যুবদলের এক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে তার স্ত্রী ও সন্তানকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ায় নগরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (১ মার্চ) বিকেলে নগরীর রংপুর প্রেস ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ক্যাবল ওয়ান–এর কার্যালয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, রংপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু দলবল নিয়ে অফিসে প্রবেশ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মাহাদী হাসান কাফিকে মুঠোফোনে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আকিবুল রহমান মনু উত্তেজিত কণ্ঠে ফোনে বলেন-আজকের মধ্যে এর সমাধান না করলে তোর রুমে ঢুকে বৌ-বাচ্চাকে গুলি করবো।
এ সময় তিনি অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং অফিসে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভাঙচুর, সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও নগরী অচল।ঘটনার পরপরই ক্যাবল ওয়ান অফিস ও কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলাকারীরা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করে এবং ফাইবার অপটিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর ফলে রংপুর মহানগরীসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় ১০–১১ ঘণ্টা সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকে। এতে লক্ষাধিক গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
পরিস্থিতির প্রতিবাদে ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে টেলিভিশন সংযোগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে মধ্যরাতে সংযোগ স্বাভাবিক করা হয়।
সোমবার (০২ মাচ)দুপুরে এ ঘটনায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর কোতয়ালি থানায় দুটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়।
কোতয়ালি থানার ওসি শাহজাহান আলী জানান, ক্যাবল ওয়ান ও ইন্টারনেট বিভাগের দুই কর্মকর্তা পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদি হিসেবে নাম রয়েছে ক্যাবল ওয়ানের রায়হান হোসেন পরাগ এবং ইন্টারনেট বিভাগের কর্মকর্তা রাসেল হোসেনের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা এলাকায় ক্যাবল ওয়ানের একটি ফিড সংযোগ অন্য ব্যক্তিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ওই সংযোগ রংপুর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশীদ গালিবকে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছিলেন আকিবুল রহমান মনু। সেই দাবি পূরণ না হওয়াতেই এই হুমকি ও সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ।
ক্যাবল ওয়ানের জিএম মাহাদী হাসান কাফি বলেন,মনু তার সহযোগীদের নিয়ে অফিসে ঢুকে আমাকে না পেয়ে ফোনে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেয়। অফিসের অন্য কর্মকর্তাদেরও ভয় দেখানো হয়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
দলীয় ব্যবস্থা: যুবদল থেকে বহিষ্কার
ঘটনার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে রোববার রাতেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে আকিবুল রহমান মনু ও তামজিদুর রশীদ গালিবকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। ফলে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।ৎ
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসা দখলের এমন অভিযোগে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পক্ষ আরও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ডিএস./














