০১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

আরেক দফা বাড়ল পেঁয়াজের দাম

দেশের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ সরবরাহ শুরু হলেই সাধারণত দেশি পেঁয়াজের দাম কমে যায়। প্রতি বছর এমনই চিত্র দেখা যায়। কিন্তু এবার ঠিক তার উলটো। ভারতীয় পেঁয়াজ স্থলবন্দরে এলেও কমছে না দেশি পেঁয়াজের দাম। এমনকি ভারতীয় পেঁয়াজ দেশের বাজারগুলো সরবরাহ না হওয়ায় তা ক্রেতা অবধি পৌঁছাচ্ছেও না। অপরদিকে, আবার আগামী ৬ জুন বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।সর্বোপরি এবার দেখা যাচ্ছে, বাজেট ঘোষণার আগেই আরেক দফা বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। বাজারের চিত্র বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম আরেক দফায় সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেশি পাবনার পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে খুচরা ৮০ ও পাইকারি ৭৪ টাকায়। আর দেশি ফরিদপুরের পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে খুচরা ৭৫ ও পাইকারি ৭২ টাকায়।

এর আগে গত ২৪ মে একই বাজারে দেশি পাবনা পেঁয়াজ প্রতি কেজি খুচরা ৭০ ও পাইকারি ৬৮ টাকা ছিল। আর দেশি ফরিদপুরের পেঁয়াজ প্রতি কেজির দাম ছিল খুচরা ৬৮ ও পাইকারি ৬৬ টাকা।

দেশে এই মুহূর্তে দেশি পেঁয়াজের সংকট নেই। তবু পেঁয়াজের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না ক্রেতারা। বিক্রেতার কাছেও নেই সদুত্তর।

ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজের দাম না কমলে কোরবানির ঈদকে ঘিরে পোহাতে হবে সীমাহীন দুর্ভোগ। এছাড়াও অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, বাজেটের পর আরও লাগামহীন হবে পেঁয়াজের বাজার। যদিও বিক্রেতা ও আমদানি কারকদের দাবি, ভারত সরকার শুল্ক ছাড় দিলেই কমবে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম। তা না হলে আরও বাড়বে দেশি পেঁয়াজের দাম।

কারওয়ান বাজারে বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে পেঁয়াজ কিনেছেন আবুল কালাম। কথা হলে এই ক্রেতা বলেন, “গত সপ্তাহের চেয়ে পেঁয়াজের দাম বেশি। দাম যেভাবে বাড়ছে, এতে ক্রয় করার ক্ষমতা ক্রেতাদের বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকার যদি কোরবানির আগে বাজার নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে আমাদের মতো মানুষদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

পেঁয়াজ কিনতে আসা ফরহাত নামের আরেক ক্রেতা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “বাজেটের আগে পেঁয়াজ দাম বাড়ছে। বাজেটের পরে তো আরও বাড়বে। খুচরা এখনই ৮০ টাকা কেজি কিনতে হচ্ছে। বাজারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার যদি না দেখে সাধারণ মানুষ না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। বাজারে তো কোনো জিনিসের (পণ্য) অভাব নেই। পর্যাপ্ত পেঁয়াজ দেখছি বাজারে। তবু কেন দাম কমছে না? এগুলো খতিয়ে কেউ দেখে না।”

ইব্রাহিম খলিল নামের আরেক ক্রেতা বলেন, “ত্রিশ কেজি পেঁয়াজ ৭২ টাকা করে কিনলাম। তারা ৭৪ টাকা দাম চেয়েছে। গত কয়েকদিনের তুলনায় দাম বাড়ছে। দাম বাড়লেও কি, কমলেও কি! সরকার যেভাবে খাওয়াচ্ছে হতাশ হয়ে তাই খেতে হচ্ছে।”

খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, “গত সপ্তাহে খুচরা পেঁয়াজ ৭০ টাকা বিক্রি করছি। আজকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ আমি জানি না। ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে অল্প স্বল্প আসছে, ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য বছরগুলোতে ভারতীয় পেঁয়াজ ও দেশি পেঁয়াজের দামের পার্থক্য ৫-১০ টাকা থাকে থাকে। এবার বেশি। কেন জানি না।”

পাইকারি বিক্রেতা সেলিম বলেন, “এবারের আমদানি শুল্ক বেশি। তাই পেঁয়াজের দাম বেশি পড়ছে। বাজারে বিক্রিও হচ্ছে দেশি পেঁয়াজের দামে। তাই ভারতীয় পেঁয়াজ কেউ দেশি পেঁয়াজের দামে খেতে চায় না। তাছাড়া দেশি পেঁয়াজ শেষ হয়ে আসছে। ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক না কমলে ওই পেঁয়াজের দাম কমবে না। আর দেশি পেঁয়াজ যেহেতু শেষ হয়ে আসছে তখন এটার দামও বেড়ে যাবে। যেহেতু ভারতে ভোট চলছে, ভোট শেষ হোক তারপরে হয়ত কমলেও কমতে পারে।”

গত ১৪ মে হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরএসবি এন্টারপ্রাইজ ৩০ মেট্রিক টন ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি করে। কিন্তু সেই পেঁয়াজ তাদের গুদামেই পচছে। কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির ক্লিয়ারিং এজেন্ট আহম্মেদ সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, “গত বছর পেঁয়াজ আমদানিতে ভারত সরকারের শুল্ক ছিল না। এবার ৪০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে পেঁয়াজ আনতে হয়েছে। এরপর দেশের শুল্ক ১০ শতাংশ দিতে হয়েছে। ফলে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আমাদের পেঁয়াজ গুদামেই আছে কেউ কিনছে না। যা পুরোটাই লোকসান। শুল্ক যদি ভারত সরকার ছাড় দেয় তবে দাম কমে আসবে। এখন দেখা যাক। কি হয়?”

বিজনেস বাংলাদেশ/BH

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আরেক দফা বাড়ল পেঁয়াজের দাম

প্রকাশিত : ০৬:৪২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

দেশের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ সরবরাহ শুরু হলেই সাধারণত দেশি পেঁয়াজের দাম কমে যায়। প্রতি বছর এমনই চিত্র দেখা যায়। কিন্তু এবার ঠিক তার উলটো। ভারতীয় পেঁয়াজ স্থলবন্দরে এলেও কমছে না দেশি পেঁয়াজের দাম। এমনকি ভারতীয় পেঁয়াজ দেশের বাজারগুলো সরবরাহ না হওয়ায় তা ক্রেতা অবধি পৌঁছাচ্ছেও না। অপরদিকে, আবার আগামী ৬ জুন বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।সর্বোপরি এবার দেখা যাচ্ছে, বাজেট ঘোষণার আগেই আরেক দফা বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। বাজারের চিত্র বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম আরেক দফায় সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেশি পাবনার পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে খুচরা ৮০ ও পাইকারি ৭৪ টাকায়। আর দেশি ফরিদপুরের পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে খুচরা ৭৫ ও পাইকারি ৭২ টাকায়।

এর আগে গত ২৪ মে একই বাজারে দেশি পাবনা পেঁয়াজ প্রতি কেজি খুচরা ৭০ ও পাইকারি ৬৮ টাকা ছিল। আর দেশি ফরিদপুরের পেঁয়াজ প্রতি কেজির দাম ছিল খুচরা ৬৮ ও পাইকারি ৬৬ টাকা।

দেশে এই মুহূর্তে দেশি পেঁয়াজের সংকট নেই। তবু পেঁয়াজের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না ক্রেতারা। বিক্রেতার কাছেও নেই সদুত্তর।

ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজের দাম না কমলে কোরবানির ঈদকে ঘিরে পোহাতে হবে সীমাহীন দুর্ভোগ। এছাড়াও অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, বাজেটের পর আরও লাগামহীন হবে পেঁয়াজের বাজার। যদিও বিক্রেতা ও আমদানি কারকদের দাবি, ভারত সরকার শুল্ক ছাড় দিলেই কমবে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম। তা না হলে আরও বাড়বে দেশি পেঁয়াজের দাম।

কারওয়ান বাজারে বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে পেঁয়াজ কিনেছেন আবুল কালাম। কথা হলে এই ক্রেতা বলেন, “গত সপ্তাহের চেয়ে পেঁয়াজের দাম বেশি। দাম যেভাবে বাড়ছে, এতে ক্রয় করার ক্ষমতা ক্রেতাদের বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকার যদি কোরবানির আগে বাজার নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে আমাদের মতো মানুষদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

পেঁয়াজ কিনতে আসা ফরহাত নামের আরেক ক্রেতা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “বাজেটের আগে পেঁয়াজ দাম বাড়ছে। বাজেটের পরে তো আরও বাড়বে। খুচরা এখনই ৮০ টাকা কেজি কিনতে হচ্ছে। বাজারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার যদি না দেখে সাধারণ মানুষ না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। বাজারে তো কোনো জিনিসের (পণ্য) অভাব নেই। পর্যাপ্ত পেঁয়াজ দেখছি বাজারে। তবু কেন দাম কমছে না? এগুলো খতিয়ে কেউ দেখে না।”

ইব্রাহিম খলিল নামের আরেক ক্রেতা বলেন, “ত্রিশ কেজি পেঁয়াজ ৭২ টাকা করে কিনলাম। তারা ৭৪ টাকা দাম চেয়েছে। গত কয়েকদিনের তুলনায় দাম বাড়ছে। দাম বাড়লেও কি, কমলেও কি! সরকার যেভাবে খাওয়াচ্ছে হতাশ হয়ে তাই খেতে হচ্ছে।”

খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, “গত সপ্তাহে খুচরা পেঁয়াজ ৭০ টাকা বিক্রি করছি। আজকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ আমি জানি না। ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে অল্প স্বল্প আসছে, ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য বছরগুলোতে ভারতীয় পেঁয়াজ ও দেশি পেঁয়াজের দামের পার্থক্য ৫-১০ টাকা থাকে থাকে। এবার বেশি। কেন জানি না।”

পাইকারি বিক্রেতা সেলিম বলেন, “এবারের আমদানি শুল্ক বেশি। তাই পেঁয়াজের দাম বেশি পড়ছে। বাজারে বিক্রিও হচ্ছে দেশি পেঁয়াজের দামে। তাই ভারতীয় পেঁয়াজ কেউ দেশি পেঁয়াজের দামে খেতে চায় না। তাছাড়া দেশি পেঁয়াজ শেষ হয়ে আসছে। ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক না কমলে ওই পেঁয়াজের দাম কমবে না। আর দেশি পেঁয়াজ যেহেতু শেষ হয়ে আসছে তখন এটার দামও বেড়ে যাবে। যেহেতু ভারতে ভোট চলছে, ভোট শেষ হোক তারপরে হয়ত কমলেও কমতে পারে।”

গত ১৪ মে হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরএসবি এন্টারপ্রাইজ ৩০ মেট্রিক টন ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি করে। কিন্তু সেই পেঁয়াজ তাদের গুদামেই পচছে। কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির ক্লিয়ারিং এজেন্ট আহম্মেদ সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, “গত বছর পেঁয়াজ আমদানিতে ভারত সরকারের শুল্ক ছিল না। এবার ৪০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে পেঁয়াজ আনতে হয়েছে। এরপর দেশের শুল্ক ১০ শতাংশ দিতে হয়েছে। ফলে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আমাদের পেঁয়াজ গুদামেই আছে কেউ কিনছে না। যা পুরোটাই লোকসান। শুল্ক যদি ভারত সরকার ছাড় দেয় তবে দাম কমে আসবে। এখন দেখা যাক। কি হয়?”

বিজনেস বাংলাদেশ/BH