০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

গোখাদ্যের চড়া দাম, চড়া পাবনার কোরবানির পশুর বাজারও

কোরবানিকে কেন্দ্র করে পাবনায় এবার চাহিদার দ্বিগুণ পরিমাণে গবাদিপশু মোটাতাজা করেছেন খামারিরা। তবে অবৈধ পথে ভারত থেকে গরু আমদানি হলে ও গোখাদ্যের দাম চড়া থাকায় লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাবনার খামারিরা। ন্যায্যমূল্য পাবার প্রশ্নে এবার কোরবানির পশুর দাম বাড়তে পারে বলছেন খামারিরা। অন্যথায় তাদের লোকসান গুণতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।
স্থানীয় খামারি, গরু ব্যবসায়ী ও পালনকারীরা বলেন, এক বছর ধরে গোখাদ্যের দাম বাড়তে বাড়তে তা নাগালের বাইরে চলে গেছে। এর ওপর কোরবানির হাটকে সামনে রেখে এ দাম আরও বাড়তে শুরু করেছে। ভুসি, কাঁচা ঘাস, খড়, খৈল, চিটাগুড়, ধানের কুড়া, খুদসহ সব ধরনের গোখাদ্যের দাম আগের বছরের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে। এর কারণে এবার গরুর প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁরা।
পাবনার জালালপুর এলাকার খামারি রাজু জানান, দেশের আলোচিত গরু লালান পালনে আমি অধিক আগ্রহী। এবারও আমার  খামারে ৩২ টি গরু রয়েছে। এগুলোর ওজন প্রায় ২৫ থেকে ২৮ মণ। এর মধ্যে আমার খামারের ‘পাঠান’ নামের ষাঁড়টি প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে শাহিওয়াল ও ব্রাহামাসহ তিনটি জাতের মধ্যে দেশসেরা হয়েছে। ব্যাপারটি দারুণ সুখকর হলেও সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েই যায়। কম বেশি ক্রেতা সমাগম থাকলেও আশানারুপ দাম বলছেন না। যে হারে গোখাদ্যের দাম বেড়েছে তাতে লাভ নিয়ে কিছুটা চিন্তা করতেই হচ্ছে।
বেড়া পৌর এলাকার বনগ্রাম মহল্লার খামারি মাহফুজা খানম বলেন, শুনছি কোরবানির জন্য লালন পালন করা গরুর ছাগল এবার দ্বিগুণ। আবার ভারত থেকেও গরু ঢুকতে পারে। এদিকে চড়া দামে খাদ্য কিনে আমার খামারে চারটি ষাঁড় প্রস্তুত করেছি। একেকটির ওজন ২০ থেকে ২২ মণ। ১৬ লাখ টাকায় এগুলো বেচার ইচ্ছা আছে। কিন্তু সঠিক দাম পাবো কি না সেটা নিয়েই এখন চিন্তা। তাছাড়া অন্য বছরগুলোতে এ সময়ে খামারে এসে দরদাম করলেও এবার ব্যাপারীরা খুব কম আসছেন।
এদিকে পাবনার বিভিন্ন পশুর হাটগুলোতে কোরবানির আগেই তুলনামূলক চড়া দামে গরু বিক্রি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও গরুর ব্যাপারীরা। তাঁদের মধ্যে অনেক ব্যাপারী বাড়ি বাড়ি ঘুরে গরু কিনতে শুরু করেছেন। তারা পশুর হাটগুলো থেকেও গরু কিনছেন। মৌসুমি ব্যাপারীরা এসব গরু কিনছেন মূলত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের কোরবানির হাটে বেশি দামে বিক্রির আশায়।
বাড়ি ও খামারে ঘুরে গরু কেনা ব্যাপারী জানান, বেশি দামে গো খাদ্য কিনে খাওয়ানোর ফলে খামারিরা গরুর দাম বেশি চাচ্ছেন। এতে করে আগে তারা বেশি পশু ক্রয় করলেও এবার কম ক্রয় করতে হচ্ছে। কারণ দাম বেশি হওয়ায় গরুর বাজার আঁচ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে লোকসানের ভয়ও রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার কোরবানির  গবাদিপশুর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৪শত ১৪টি। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৯৩ হাজার ১শতটি। এ ছাড়া ছাগল ৩ লাখ ৬৬ হাজার ২শ, মহিষ ৮হাজার ৩৪ ও ভেড়া ৬৬ হাজার ৯শত ১৬টি। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এবার উপজেলাটিতে কোরবানি উপযোগী মোট গবাদিপশুর সংখ্যা ৮৬ হাজার ৬৩৯। এদিকে জেলায় এবার কোরবানিতে ৩ লাখ ১২ হাজার ৮২৬ টি পশুর চাহিদা রয়েছে। এদিক থেকে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৩ লাখেরও বেশি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গৌরাংগ কুমার তালুকদার জানান, চাহিদার তুলনায় জেলায় এবার দ্বিগুণ কোরবানি পশু প্রস্তুত রয়েছে। অতিরিক্ত পশুগুলো দিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদাও কিছুটা মেটানো সম্ভব হবে।
পশুপালনে ব্যয় ও দামের ব্যাপারে তিনি বলেন, শুরু থেকেই এবার গোখাদ্যের দাম কিছুটা বেশি। এর ফলে পশু পালনে খামারিদের ব্যয়ও বেড়েছে। সেদিক থেকে ন্যায্যমূল্য না পেলে তারা লোকসানে পড়বেন।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশি চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: স্কোলিওসিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত।

গোখাদ্যের চড়া দাম, চড়া পাবনার কোরবানির পশুর বাজারও

প্রকাশিত : ০৯:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ জুন ২০২৪
কোরবানিকে কেন্দ্র করে পাবনায় এবার চাহিদার দ্বিগুণ পরিমাণে গবাদিপশু মোটাতাজা করেছেন খামারিরা। তবে অবৈধ পথে ভারত থেকে গরু আমদানি হলে ও গোখাদ্যের দাম চড়া থাকায় লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাবনার খামারিরা। ন্যায্যমূল্য পাবার প্রশ্নে এবার কোরবানির পশুর দাম বাড়তে পারে বলছেন খামারিরা। অন্যথায় তাদের লোকসান গুণতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।
স্থানীয় খামারি, গরু ব্যবসায়ী ও পালনকারীরা বলেন, এক বছর ধরে গোখাদ্যের দাম বাড়তে বাড়তে তা নাগালের বাইরে চলে গেছে। এর ওপর কোরবানির হাটকে সামনে রেখে এ দাম আরও বাড়তে শুরু করেছে। ভুসি, কাঁচা ঘাস, খড়, খৈল, চিটাগুড়, ধানের কুড়া, খুদসহ সব ধরনের গোখাদ্যের দাম আগের বছরের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে। এর কারণে এবার গরুর প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁরা।
পাবনার জালালপুর এলাকার খামারি রাজু জানান, দেশের আলোচিত গরু লালান পালনে আমি অধিক আগ্রহী। এবারও আমার  খামারে ৩২ টি গরু রয়েছে। এগুলোর ওজন প্রায় ২৫ থেকে ২৮ মণ। এর মধ্যে আমার খামারের ‘পাঠান’ নামের ষাঁড়টি প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে শাহিওয়াল ও ব্রাহামাসহ তিনটি জাতের মধ্যে দেশসেরা হয়েছে। ব্যাপারটি দারুণ সুখকর হলেও সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েই যায়। কম বেশি ক্রেতা সমাগম থাকলেও আশানারুপ দাম বলছেন না। যে হারে গোখাদ্যের দাম বেড়েছে তাতে লাভ নিয়ে কিছুটা চিন্তা করতেই হচ্ছে।
বেড়া পৌর এলাকার বনগ্রাম মহল্লার খামারি মাহফুজা খানম বলেন, শুনছি কোরবানির জন্য লালন পালন করা গরুর ছাগল এবার দ্বিগুণ। আবার ভারত থেকেও গরু ঢুকতে পারে। এদিকে চড়া দামে খাদ্য কিনে আমার খামারে চারটি ষাঁড় প্রস্তুত করেছি। একেকটির ওজন ২০ থেকে ২২ মণ। ১৬ লাখ টাকায় এগুলো বেচার ইচ্ছা আছে। কিন্তু সঠিক দাম পাবো কি না সেটা নিয়েই এখন চিন্তা। তাছাড়া অন্য বছরগুলোতে এ সময়ে খামারে এসে দরদাম করলেও এবার ব্যাপারীরা খুব কম আসছেন।
এদিকে পাবনার বিভিন্ন পশুর হাটগুলোতে কোরবানির আগেই তুলনামূলক চড়া দামে গরু বিক্রি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও গরুর ব্যাপারীরা। তাঁদের মধ্যে অনেক ব্যাপারী বাড়ি বাড়ি ঘুরে গরু কিনতে শুরু করেছেন। তারা পশুর হাটগুলো থেকেও গরু কিনছেন। মৌসুমি ব্যাপারীরা এসব গরু কিনছেন মূলত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের কোরবানির হাটে বেশি দামে বিক্রির আশায়।
বাড়ি ও খামারে ঘুরে গরু কেনা ব্যাপারী জানান, বেশি দামে গো খাদ্য কিনে খাওয়ানোর ফলে খামারিরা গরুর দাম বেশি চাচ্ছেন। এতে করে আগে তারা বেশি পশু ক্রয় করলেও এবার কম ক্রয় করতে হচ্ছে। কারণ দাম বেশি হওয়ায় গরুর বাজার আঁচ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে লোকসানের ভয়ও রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার কোরবানির  গবাদিপশুর সংখ্যা ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৪শত ১৪টি। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৯৩ হাজার ১শতটি। এ ছাড়া ছাগল ৩ লাখ ৬৬ হাজার ২শ, মহিষ ৮হাজার ৩৪ ও ভেড়া ৬৬ হাজার ৯শত ১৬টি। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এবার উপজেলাটিতে কোরবানি উপযোগী মোট গবাদিপশুর সংখ্যা ৮৬ হাজার ৬৩৯। এদিকে জেলায় এবার কোরবানিতে ৩ লাখ ১২ হাজার ৮২৬ টি পশুর চাহিদা রয়েছে। এদিক থেকে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৩ লাখেরও বেশি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গৌরাংগ কুমার তালুকদার জানান, চাহিদার তুলনায় জেলায় এবার দ্বিগুণ কোরবানি পশু প্রস্তুত রয়েছে। অতিরিক্ত পশুগুলো দিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদাও কিছুটা মেটানো সম্ভব হবে।
পশুপালনে ব্যয় ও দামের ব্যাপারে তিনি বলেন, শুরু থেকেই এবার গোখাদ্যের দাম কিছুটা বেশি। এর ফলে পশু পালনে খামারিদের ব্যয়ও বেড়েছে। সেদিক থেকে ন্যায্যমূল্য না পেলে তারা লোকসানে পড়বেন।