০২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

পরিবেশ দিবসে সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৫ জুন) দুপুর দেড়টায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

দশ দিন ধরে শিক্ষাসফরের অংশ হিসেবে শেকৃবি এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ৫ জুন কক্সবাজার সমূদ্রসৈকতে অবস্থান করেন। এসময় তারা সমূদ্রসৈকত ও এর আশপাশে পড়ে থাকা পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেটসহ অপচনশীল বিভিন্ন বর্জ্য কুড়িয়ে অপসারণ করেন। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী। এ সময় সৈকত পর্যটন পুলিশ তাদের এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

সৈকতে উপস্থিত পর্যটকরাও শিক্ষার্থীদের এমন কার্যক্রমকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, এরকম একটি সুন্দর ও মনোরম জায়গায় কিছু মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেলে নোংরা করে, যেখানে সেখানে পলিথিন ও পানির বোতল ফেলে। সচেতন মানুষের আচরণ কখনোই এমন হওয়া উচিত নয়। সৈকতপাড়ের ফল বিক্রেতা আমির মিয়া বলেন, এখানে যারা ঘুরতে আসেন তারা সবাই শিক্ষিত না। তাই তাদের অনেকেই বিভিন্ন ময়লা, প্লাস্টিক, পলিথিন এখানে ফেলে যায়। তাদের জন্যই জায়গাটির সৌন্দর্য নষ্ট হয়।

সুগন্ধা সৈকত পয়েন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এএসআই নজরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজনকে অবশ্যই আমরা স্বাগতম জানাই। বীচে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাস্টবিন দেয়া আছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও নিয়মিত পরিষ্কার করছেন। কিন্তু অসচেতন কিছু মানুষের জন্য জায়গাটা নোংরা হয়ে থাকে৷ এটা কোনভাবেই আমাদের কাম্য নয়।

শিক্ষার্থীদের দলটির গাইড হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ ও অধ্যাপক ড. শাহ জহির রায়হান। শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের এমন ইতিবাচক সকল উদ্যোগই আশা জাগানিয়া। পরিবেশ দিবস উপলক্ষে তারা যে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে তা সাধারণ মানুষদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করার প্রবণতা কমিয়ে আনতে তরূণদের এ ধরণের উদ্যোগ খুবই দরকারি। সকলেরই এ ধরণের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসা উচিত।

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ জুন ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানান কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘করবো ভূমি পুনরুদ্ধার, রুখবো মরুময়তা।’

বিজনেস বাংলাদেশ/DS

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশি চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: স্কোলিওসিস চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত।

পরিবেশ দিবসে সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত : ০৫:১৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুন ২০২৪

‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৫ জুন) দুপুর দেড়টায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

দশ দিন ধরে শিক্ষাসফরের অংশ হিসেবে শেকৃবি এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ৫ জুন কক্সবাজার সমূদ্রসৈকতে অবস্থান করেন। এসময় তারা সমূদ্রসৈকত ও এর আশপাশে পড়ে থাকা পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেটসহ অপচনশীল বিভিন্ন বর্জ্য কুড়িয়ে অপসারণ করেন। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী। এ সময় সৈকত পর্যটন পুলিশ তাদের এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

সৈকতে উপস্থিত পর্যটকরাও শিক্ষার্থীদের এমন কার্যক্রমকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, এরকম একটি সুন্দর ও মনোরম জায়গায় কিছু মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেলে নোংরা করে, যেখানে সেখানে পলিথিন ও পানির বোতল ফেলে। সচেতন মানুষের আচরণ কখনোই এমন হওয়া উচিত নয়। সৈকতপাড়ের ফল বিক্রেতা আমির মিয়া বলেন, এখানে যারা ঘুরতে আসেন তারা সবাই শিক্ষিত না। তাই তাদের অনেকেই বিভিন্ন ময়লা, প্লাস্টিক, পলিথিন এখানে ফেলে যায়। তাদের জন্যই জায়গাটির সৌন্দর্য নষ্ট হয়।

সুগন্ধা সৈকত পয়েন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এএসআই নজরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজনকে অবশ্যই আমরা স্বাগতম জানাই। বীচে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাস্টবিন দেয়া আছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও নিয়মিত পরিষ্কার করছেন। কিন্তু অসচেতন কিছু মানুষের জন্য জায়গাটা নোংরা হয়ে থাকে৷ এটা কোনভাবেই আমাদের কাম্য নয়।

শিক্ষার্থীদের দলটির গাইড হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ ও অধ্যাপক ড. শাহ জহির রায়হান। শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের এমন ইতিবাচক সকল উদ্যোগই আশা জাগানিয়া। পরিবেশ দিবস উপলক্ষে তারা যে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে তা সাধারণ মানুষদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করার প্রবণতা কমিয়ে আনতে তরূণদের এ ধরণের উদ্যোগ খুবই দরকারি। সকলেরই এ ধরণের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসা উচিত।

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ জুন ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানান কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘করবো ভূমি পুনরুদ্ধার, রুখবো মরুময়তা।’

বিজনেস বাংলাদেশ/DS