১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

ফ্ল্যাট ক্রয়ে সিঙ্গেল ডিজিটে গৃহঋণের দাবি রিহ্যাবের

মধ্যবিত্তদের ফ্ল্যাট ক্রয় সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এক অংকের সুদের হারে গৃহঋণ প্রদানের দাবি জানান, রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এর প্রেসিডেন্ট মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

এছাড়া ফ্ল্যাট রেজিস্টেশন ব্যয় ৭ শতাংশ ও আবাসন ব্যবসায়ীদের আয়কর কমানো ও নির্মাণসামগ্রীর দাম কমানোর অনুরোধ জানানো হয়।রবিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় বাজেট ২০২৪-২০২৫ সম্পর্কিত রিহ্যাব এর সংবাদ সম্মেলনে এ সব দাবি জানানো হয়।  ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যদি ৫ বছরের পুরোনো ফ্ল্যাট ৪ শতাংশ হারে রেজিস্ট্রেশন ব্যয় সংক্রান্ত নিয়ম চালু করা হয়, তাহলে একদিকে যেমন স্বল্পবিত্তবানেরা ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন, তেমনি অনেক নাগরিকের কর্মসংস্থান হবে। সেকেন্ডারি বাজার গতিশলী হলে অর্থনীতিও গতিশীল হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়াকে বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন রিহ্যাব এর প্রেসিডেন্ট। এ সিদ্ধান্তের ফলে আবাসন খাতে বিনিয়োগ আসবে, সরকারের রাজস্ব বাড়বে। প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রাখায় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান রিহ্যাব নেতৃবৃন্দ।

অর্থনীতিতে আবাসন সেক্টরের বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশের গৃহায়ন শিল্প প্রতি বৎসর প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিকট হতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। রিহ্যাব সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্ল্যাট তৈরির মাধ্যমে আবাসনের মালিকানা সহজলভ্য করে মানুষের মনে আত্মনির্ভরতা সৃষ্টি করছে। এছাড়া সরকারের রাজস্ব আয়, কর্মসংস্থান, লিংকেজ শিল্প প্রসারের মাধ্যমে সমগ্র নির্মাণ খাত জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।

তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে এই আবাসন শিল্প নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার সম্মূখীন হয়েছে। অতিমাত্রায় কর আরোপ ও সরকারের নীতি সহায়তার অভাবে ক্রমে দেশের আবাসন খাত মারাত্মক সংকটে পতিত হয়েছে। কোভিড মহামারিকালীন পরিস্থিতিসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ডলার সংকট, নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এই শিল্পে নানা সংকট তৈরি করেছে ফলে ফ্ল্যাটের সরবরাহ কমে গেছে এবং ফ্ল্যাটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই খাতে পর্যাপ্ত আর্থিক ঋণ প্রবাহ না থাকা এবং পর্যাপ্ত নীতি সহায়তার অভাবে অনেকের বাসস্থানের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। নতুন করে যুক্ত হয়েছে ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি এবং বৃহৎ আবাসিক এলাকার প্রজ্ঞাপনকৃত ড্যাপ এ ফার-এর মান হ্রাস করার কারণে ভবনের উচ্চতা এবং আয়তন কমে যাওয়ায় এই সেক্টরে সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট লিখিত বক্তব্যে বলেন, সব নাগরিকের সামর্থ এক রকম নয় কিন্তু সবার স্বপ্ন একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই, শহরের নাগরিকদের স্বপ্ন একটা ফ্ল্যাট। চাহিদার কারণে অনেক ফ্ল্যাট মালিক পুরাতন ফ্ল্যাট বিক্রি করে নতুন ফ্ল্যাট কিনতে চায়, কেউ বা সেটা অন্য কোন খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। কিন্তু এই পুরাতন ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ব্যয় নতুন ফ্ল্যাটের সমান হওয়ায় অনেকের স্বপ্ন পুরণ হচ্ছে না। বাজেট চূড়ান্তভাবে পাশ করার আগে ৫ বছরের পুরানো ফ্ল্যাট ৪ শতাংশ হারে রেজিষ্ট্রেশন ব্যয় নির্ধারণ করার সুবিধা দেয়ার দাবি জানান।

এছাড়া নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য হ্রাস, ভ্যাট অফিসের হয়রানি বন্ধ, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আবাসন সুবিধা সহজলভ্য করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব করেন। সবার জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় বাজেট ২০২৪-২৫ পাশ করার আগে রিহ্যাব এর দাবি এবং প্রস্তাবনা সমূহ বিবেচনা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও এনবিআর চেয়ারম্যান এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বৈধ আয়ে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ করহারের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ কতটুকু নৈতিক হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘অপ্রদর্শিত অর্থ মূলধারার অর্থনীতিতে সরকারও চাচ্ছে, আমরাও চাচ্ছি। এই অর্থ যদি অর্থনীতিতে না নিয়ে আসেন। সেটা তো পাচার হয়ে বাইরে চলে যাবে, অর্থনীতিতে সংযুক্ত হবে না। তাহলে কার ক্ষতি হবে? এভাবে অনেক টাকাই পাচার হয়ে যাচ্ছে। বরং মন্দের ভালো, এবার বাজেটে সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ নৈতিক অবস্থান থেকে ঠিক না হলেও দীর্ঘমেয়াদে কর ও করদাতা বৃদ্ধিতে এটি সহায়ক হবে বলে মনে করেন ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘নৈতিকতার প্রশ্নে বলব, জিনিসটা হয়তো সঠিক নয়। একজনকে ১৫ শতাংশ দিচ্ছেন, আরেকজনকে ২৫-৩০ শতাংশ কর দিতে হচ্ছে। তবে একবার যখন করের আওতায় আনতে পারবেন, সে করজালের আওতায় এসে যাবে। পরবর্তীতে নিয়মিত কর দেবন। আর কালোটাকা সাদা করার সংখ্যাও কমে আসবে।’ রিহ্যাব সভাপতি বলেন, ‘যতই বলেন, এটাকে পছন্দ করি না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে, এই বিষয়টা আমাদের সমাজে আছে। এই টাকাটা তো ফেলে রাখা যায় না। আমার মনে হয়, এই সুযোগ লম্বা সময়ের জন্য দেওয়া উচিত। ৫ বছর করে দেওয়া উচিত। পরবর্তী বছরগুলোতে অন্য নাগরিক যেভাবে কর দেয়, সেভাবে দিয়ে এটাকে বৈধতা দেওয়া উচিত।’

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব এর ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন এম. এ.আউয়াল, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফাইন্যান্স) আবদুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট হাজী দেলোয়ার হোসেন এবং রিহ্যাব পরিচালক ও প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ লাবিব বিল্লাহ্, রিহ্যাব এর পরিচালকবৃন্দ ও রিহ্যাব প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/DS

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ফ্ল্যাট ক্রয়ে সিঙ্গেল ডিজিটে গৃহঋণের দাবি রিহ্যাবের

প্রকাশিত : ০৭:০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪

মধ্যবিত্তদের ফ্ল্যাট ক্রয় সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এক অংকের সুদের হারে গৃহঋণ প্রদানের দাবি জানান, রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এর প্রেসিডেন্ট মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

এছাড়া ফ্ল্যাট রেজিস্টেশন ব্যয় ৭ শতাংশ ও আবাসন ব্যবসায়ীদের আয়কর কমানো ও নির্মাণসামগ্রীর দাম কমানোর অনুরোধ জানানো হয়।রবিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় বাজেট ২০২৪-২০২৫ সম্পর্কিত রিহ্যাব এর সংবাদ সম্মেলনে এ সব দাবি জানানো হয়।  ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যদি ৫ বছরের পুরোনো ফ্ল্যাট ৪ শতাংশ হারে রেজিস্ট্রেশন ব্যয় সংক্রান্ত নিয়ম চালু করা হয়, তাহলে একদিকে যেমন স্বল্পবিত্তবানেরা ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন, তেমনি অনেক নাগরিকের কর্মসংস্থান হবে। সেকেন্ডারি বাজার গতিশলী হলে অর্থনীতিও গতিশীল হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়াকে বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন রিহ্যাব এর প্রেসিডেন্ট। এ সিদ্ধান্তের ফলে আবাসন খাতে বিনিয়োগ আসবে, সরকারের রাজস্ব বাড়বে। প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রাখায় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান রিহ্যাব নেতৃবৃন্দ।

অর্থনীতিতে আবাসন সেক্টরের বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশের গৃহায়ন শিল্প প্রতি বৎসর প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিকট হতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। রিহ্যাব সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্ল্যাট তৈরির মাধ্যমে আবাসনের মালিকানা সহজলভ্য করে মানুষের মনে আত্মনির্ভরতা সৃষ্টি করছে। এছাড়া সরকারের রাজস্ব আয়, কর্মসংস্থান, লিংকেজ শিল্প প্রসারের মাধ্যমে সমগ্র নির্মাণ খাত জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।

তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে এই আবাসন শিল্প নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার সম্মূখীন হয়েছে। অতিমাত্রায় কর আরোপ ও সরকারের নীতি সহায়তার অভাবে ক্রমে দেশের আবাসন খাত মারাত্মক সংকটে পতিত হয়েছে। কোভিড মহামারিকালীন পরিস্থিতিসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ডলার সংকট, নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এই শিল্পে নানা সংকট তৈরি করেছে ফলে ফ্ল্যাটের সরবরাহ কমে গেছে এবং ফ্ল্যাটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই খাতে পর্যাপ্ত আর্থিক ঋণ প্রবাহ না থাকা এবং পর্যাপ্ত নীতি সহায়তার অভাবে অনেকের বাসস্থানের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। নতুন করে যুক্ত হয়েছে ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি এবং বৃহৎ আবাসিক এলাকার প্রজ্ঞাপনকৃত ড্যাপ এ ফার-এর মান হ্রাস করার কারণে ভবনের উচ্চতা এবং আয়তন কমে যাওয়ায় এই সেক্টরে সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট লিখিত বক্তব্যে বলেন, সব নাগরিকের সামর্থ এক রকম নয় কিন্তু সবার স্বপ্ন একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই, শহরের নাগরিকদের স্বপ্ন একটা ফ্ল্যাট। চাহিদার কারণে অনেক ফ্ল্যাট মালিক পুরাতন ফ্ল্যাট বিক্রি করে নতুন ফ্ল্যাট কিনতে চায়, কেউ বা সেটা অন্য কোন খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। কিন্তু এই পুরাতন ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ব্যয় নতুন ফ্ল্যাটের সমান হওয়ায় অনেকের স্বপ্ন পুরণ হচ্ছে না। বাজেট চূড়ান্তভাবে পাশ করার আগে ৫ বছরের পুরানো ফ্ল্যাট ৪ শতাংশ হারে রেজিষ্ট্রেশন ব্যয় নির্ধারণ করার সুবিধা দেয়ার দাবি জানান।

এছাড়া নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য হ্রাস, ভ্যাট অফিসের হয়রানি বন্ধ, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আবাসন সুবিধা সহজলভ্য করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব করেন। সবার জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় বাজেট ২০২৪-২৫ পাশ করার আগে রিহ্যাব এর দাবি এবং প্রস্তাবনা সমূহ বিবেচনা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও এনবিআর চেয়ারম্যান এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বৈধ আয়ে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ করহারের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ কতটুকু নৈতিক হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘অপ্রদর্শিত অর্থ মূলধারার অর্থনীতিতে সরকারও চাচ্ছে, আমরাও চাচ্ছি। এই অর্থ যদি অর্থনীতিতে না নিয়ে আসেন। সেটা তো পাচার হয়ে বাইরে চলে যাবে, অর্থনীতিতে সংযুক্ত হবে না। তাহলে কার ক্ষতি হবে? এভাবে অনেক টাকাই পাচার হয়ে যাচ্ছে। বরং মন্দের ভালো, এবার বাজেটে সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ নৈতিক অবস্থান থেকে ঠিক না হলেও দীর্ঘমেয়াদে কর ও করদাতা বৃদ্ধিতে এটি সহায়ক হবে বলে মনে করেন ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘নৈতিকতার প্রশ্নে বলব, জিনিসটা হয়তো সঠিক নয়। একজনকে ১৫ শতাংশ দিচ্ছেন, আরেকজনকে ২৫-৩০ শতাংশ কর দিতে হচ্ছে। তবে একবার যখন করের আওতায় আনতে পারবেন, সে করজালের আওতায় এসে যাবে। পরবর্তীতে নিয়মিত কর দেবন। আর কালোটাকা সাদা করার সংখ্যাও কমে আসবে।’ রিহ্যাব সভাপতি বলেন, ‘যতই বলেন, এটাকে পছন্দ করি না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে, এই বিষয়টা আমাদের সমাজে আছে। এই টাকাটা তো ফেলে রাখা যায় না। আমার মনে হয়, এই সুযোগ লম্বা সময়ের জন্য দেওয়া উচিত। ৫ বছর করে দেওয়া উচিত। পরবর্তী বছরগুলোতে অন্য নাগরিক যেভাবে কর দেয়, সেভাবে দিয়ে এটাকে বৈধতা দেওয়া উচিত।’

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব এর ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন এম. এ.আউয়াল, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফাইন্যান্স) আবদুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট হাজী দেলোয়ার হোসেন এবং রিহ্যাব পরিচালক ও প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ লাবিব বিল্লাহ্, রিহ্যাব এর পরিচালকবৃন্দ ও রিহ্যাব প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/DS