০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪
বাংলাদেশ চেয়েছিল ৭০০ কোটি

বেইজিং ৫০০ কোটি ডলার ঋণ দিতে আগ্রহী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঢাকা-বেইজিং কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হবে আগামী বছর। দুই দেশের সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনের এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরে আগামীকাল সোমবার চীন যাচ্ছেন।

পাঁচ বছর পর বেইজিং সফরে গিয়ে দুই দেশের ‘অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায়’ নিতে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এ সময় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দুই সরকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চীনের আরও বেশি যুক্ততার মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো গত শুক্রবার প্রথম আলোকে জানিয়েছে, এই সফরে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার থাকবে বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে। সে ক্ষেত্রে চীনা মুদ্রায় ঋণ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগের মতো বিষয়গুলোতে চীনের অংশীদারত্ব গুরুত্ব পাবে। বেইজিং নিজেদের মুদ্রায় বাংলাদেশকে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ দিতে আগ্রহী। যদিও বাংলাদেশ চেয়েছিল ৭০০ কোটি ডলার।

কূটনৈতিক সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে দুই দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয়ের সুরাহা হতে পারে। সফরটি দ্বিপক্ষীয় হলেও সমসাময়িক বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে এতে ভূরাজনীতি ও ভূ-অর্থনৈতিক নানা আলোচনা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।

পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, সফরের নানা বিষয় নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় অর্থনৈতিক সহযোগিতার নানা বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি সই হচ্ছে না। বিভিন্ন বিষয়ে সই হবে মূলত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও সমজাতীয় দলিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরের তৃতীয় দিন অর্থাৎ বুধবার বেইজিংয়ের গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। এরপর দুই নেতার উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারকসহ নানা বিষয়ে প্রায় ২০টি দলিল সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি সই হচ্ছে না। বিভিন্ন বিষয়ে সই হবে মূলত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও সমজাতীয় দলিল। শুক্রবার পর্যন্ত দুই দেশ নতুন ও নবায়ন মিলিয়ে অন্তত ১৫ এমওইউ সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করেছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতিমালা, ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগে সহায়তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা, স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা, চীন-বাংলাদেশ ষষ্ঠ মৈত্রী সেতুর সংস্কার, চীন-বাংলাদেশ ষষ্ঠ মৈত্রী সেতু নির্মাণ, ব্রহ্মপুত্রে পানিপ্রবাহের আগাম তথ্য সরবরাহ, আওয়ামী লীগ ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে সহযোগিতা, দুই দেশের দুটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা, আম রপ্তানি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা, সম্প্রচার কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা ইত্যাদি।

বাংলাদেশ চেয়েছিল ৭০০ কোটি

বেইজিং ৫০০ কোটি ডলার ঋণ দিতে আগ্রহী

প্রকাশিত : ১১:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪

ঢাকা-বেইজিং কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হবে আগামী বছর। দুই দেশের সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনের এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরে আগামীকাল সোমবার চীন যাচ্ছেন।

পাঁচ বছর পর বেইজিং সফরে গিয়ে দুই দেশের ‘অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায়’ নিতে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এ সময় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দুই সরকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চীনের আরও বেশি যুক্ততার মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো গত শুক্রবার প্রথম আলোকে জানিয়েছে, এই সফরে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার থাকবে বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে। সে ক্ষেত্রে চীনা মুদ্রায় ঋণ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগের মতো বিষয়গুলোতে চীনের অংশীদারত্ব গুরুত্ব পাবে। বেইজিং নিজেদের মুদ্রায় বাংলাদেশকে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ দিতে আগ্রহী। যদিও বাংলাদেশ চেয়েছিল ৭০০ কোটি ডলার।

কূটনৈতিক সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে দুই দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয়ের সুরাহা হতে পারে। সফরটি দ্বিপক্ষীয় হলেও সমসাময়িক বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে এতে ভূরাজনীতি ও ভূ-অর্থনৈতিক নানা আলোচনা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।

পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, সফরের নানা বিষয় নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় অর্থনৈতিক সহযোগিতার নানা বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি সই হচ্ছে না। বিভিন্ন বিষয়ে সই হবে মূলত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও সমজাতীয় দলিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরের তৃতীয় দিন অর্থাৎ বুধবার বেইজিংয়ের গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। এরপর দুই নেতার উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারকসহ নানা বিষয়ে প্রায় ২০টি দলিল সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি সই হচ্ছে না। বিভিন্ন বিষয়ে সই হবে মূলত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও সমজাতীয় দলিল। শুক্রবার পর্যন্ত দুই দেশ নতুন ও নবায়ন মিলিয়ে অন্তত ১৫ এমওইউ সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করেছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতিমালা, ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগে সহায়তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা, স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা, চীন-বাংলাদেশ ষষ্ঠ মৈত্রী সেতুর সংস্কার, চীন-বাংলাদেশ ষষ্ঠ মৈত্রী সেতু নির্মাণ, ব্রহ্মপুত্রে পানিপ্রবাহের আগাম তথ্য সরবরাহ, আওয়ামী লীগ ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে সহযোগিতা, দুই দেশের দুটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা, আম রপ্তানি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা, সম্প্রচার কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা ইত্যাদি।