রংপুর জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।ছিনতাইকারীদের আতঙ্কে পথচারী ও নগরবাসি।গত ৬ মাস ধরে আতঙ্কে কাটছে না সাধারন মানুষের।আবার গত দুই মাস থেকে ছিনতাই চুরি নগরীসহ জেলায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতসোমবার(২৪ ফেব্রয়ারী)রাতে রংপুর নগরীর চকবাজার সবুজবাগ এলাকায় অটোযাত্রীকে ছিনতাই করার সময় চান মিয়া এবং মাহিম নামে ২জন ছিনতাইকারীকে আটক করেছে তাজহাট মেট্রোপলিটন পুলিশ।তাদের কাছে ছিনতাইকৃত ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে লালবাগ এলাকায় ছিনতাই করার সময় গণধোলাইয়ের স্বীকার হয় দুইজন।পরে ওই দুইজন ছিনতাইকারীকে জনতা আটকের পর পুলিশের কাছে তুলে দেন।এর পর তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেট্রোপলিটন থানায় নিয়ে আসা হয়।
গত ৬ মাসে জেলা ও মহানগরীতে প্রায় ৩০টির উপর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।এর সাথে ছোট বড় চুরির ঘটনা প্রায় অর্ধশতাধিক হয়েছে।এ ঘটনায় জেলা ও মেট্রোপলিটনে মামলা করা হয়েছে ৮টি।এসব ঘটনায় মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ ১০জন ছিনতাইকারীকে।
তবে রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় গত ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে একটি।নগরীর মাহিগঞ্জ এলাকায় তৌহিদুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতি করা হয়েছে।এ ঘটনায় মাহিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বাড়ির মালিক।মামলার আসামি একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিকে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গত ৬ মাসে ছিনতাই চক্রের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তথ্য প্ওাযা গেছে।নগরবাসি বলছেন এমন পরিস্থিতির স্বীকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।গত কয়েক দিনে নগরীতে কয়েকজন ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে।পাশাপাশি ছুরিকাঘাতে গুরুত্বর আহতের ঘটনা ঘটেছে।এ ঘটনায় পথচারী,শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় মুন্সিপাড়ার নাসির হোসেন বলেন পরিবার নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে।বাসাবাড়ি থেকে বের হলেই ভয় নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে নগরীতে।ছিনতাইয়ের কবলে কখন পরতে হয়।এ নিয়ে রংপুরবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলসহ ছিনতাই রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন।
তথ্য বলছে,ছিনত্ইায়ের টানিং পয়েন্ট-রংপুর মহানগরীর লালবাগ থেকে মডার্ন মোড় সড়ক,সাতমাথা হয়ে মডার্ন সড়ক, দর্শনা- টার্মিনাল সড়ক, মডার্ন থেকে দমদমা,শাপলা চত্বর থেকে স্টেশন তাজহাট সড়ক,জাহাজ কোম্পানি থেকে সাতমাথা,মাহিগঞ্জ সড়ক,জুম্মাপাড়া,কুকরুল সড়ক,হারাগাছ সড়কসহ নগরীর স্টেশন,কামাল কাছনা,রংপুর সরকারি কলেজ এলাকা,লালবাগ কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন অলি-গলির সড়কগুলোতে ছিনতাই বেড়ে গেছে।
ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটেছে-রংপুর নগরীর লালবাগ থেকে মডার্ন মোড় ও দর্শনা-মেডিকেল মোড় সড়কে।
নগরীর গুড়াতিপাড়ার শাহজান আলী বলেন,গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সীমিত উপস্থিতির সুযোগে এমন পরিচিতি সৃষ্টি হয়েছে।গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকজন ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে।পাশাপাশি ছিনতাইকারীর হাতে ছুরিকাঘাতে আহত হন সাধারন মানুষ।
এর আগে নগরীর কলেজিয়েট স্কুলের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন এক ব্যবসায়ী।তার কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় কয়েকজন।এর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যান ছিনতাইকারীরা।
এ আগে শাহিন,মাইক্রেবাস চালক সাগর মিয়া ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছে।একই পরিচিতি নগরীসহ জেলার বিভিন্ন সড়কে।নগরীতে ছিনতাই থামছে না।এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, লালবাগ থেকে মডার্ন সড়কে বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে পুলিশের টহল থাকায় কিছুটা ছিনতাই বন্ধ ছিল।আ্ওয়ামী সরকার পতনের পর নতুন করে ছিনতাই বেড়ে যায়।প্রশাসনের টহল না থাকার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ওই সড়কে চলাচলকারী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কারমাইকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।স্থানীয় ছাত্রাবাসগুলোতে বসবাসরত শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা আতঙ্কে।
নগরবাসী ও পথচারীদের অভিযোগ,গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতির কারণে ছিনতাইয়ের সাথে চুরি বেড়েছে।অনেকেই ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন।দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের প্রয়োজন।এজন্য রংপুরের প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে নগরীসহ বিভিন্ন সড়কে টহল জোরদার করার দাবি করেন।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো:মজিদ আলী জানান,মহানগরীতে কয়েকটি ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে।এসব ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।ছিনতাই ও চুরির ঘটনার সাথে জড়িতদের বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য পুলিশ কাজ করছে বলে জানান।
বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস//























