১০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লা ঈদ বাজারে সন্ধ্যা হলে নামে লাখো মানুষের ঢল

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি, মাহে রমজানের শুরুতেই ঈদের বার্তা পৌঁছে যায় প্রতিটি ঘরে ঘরে। তাই বেশির ভাগ মানুষ রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঈদের কেনাকাটায় ব্যাস্ত সময় পার করে থাকেন। ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, তত বেশি জমে ওঠে কেনাকাটা।
প্রতিবারের মতো এবারও ঈদে জমজমাট কুমিল্লার বিভিন্ন শপিং মল ও ফুটপাত সহ বিপনি-বিতান গুলোতে। অনেকেই সারাদিন রোজা রেখে দিনের বেলায় ইচ্ছে করে না যে কেনাকাটা করার জন্য, তাই সন্ধ্যা হলেই প্রতিদিন নগরীর প্রতিটি শপিংমলে চোখে পড়ার মতো দেখা যায়  উপচে পড়া ভিড়।
সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতায় সরগরম থাকছে মার্কেগুলো। ফলে তাদের সামাল দিতেও কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের।
নগরীর অভিজাত বিপনি-বিতান সাত্তার খান কমপ্লেক্স, খন্দকার হক টাওয়ার,  কিউ আর টাওয়ার, প্লানেট এসআর, নিউমার্কেট, ময়নামতি গোল্ডেন টাওয়ার, আনন্দ সিটি সেন্টার, ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজাসহ সকল মলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, নতুন পোশাকে ঈদ উদযাপনে কেনাকাটা পুরোদমে জমে উঠেছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণে মুখর নগরীর বিপণিবিতানগুলো।
বিশেষ করে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে নারী ক্রেতার সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। পছন্দের পোশাক কিনতে ঘুরছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে। ভারত সীমান্তঘেঁষা এ জেলার ফ্যাশন-সচেতন তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক আর তরুণদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে কুমিল্লার বিখ্যাত খাদির পাঞ্জাবি। ক্রেতার চাপে ব্যবসায়ীদের দম ফেলার যেন সময় নেই। একই চিত্র দেখা গেছে সড়কের পাশের ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা ভিড় করছেন সেসব দোকানগুলোতে।
বিক্রেতারা বলছেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার দ্রুত ঈদের বাজার জমে উঠেছে। ১০ রমজান থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে বেচাকেনা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিক্রেতার চাপ থাকছে। তবে সকালের তুলনায় বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অনেক মানুষের সমাগম থাকে। দিন যত যাচ্ছে, ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে।
সাত্তার খান কমপ্লেক্স এর মাসুদ হাসান বলেন প্রতিবছরের মতো এ বছরও শুরু থেকে মোটামুটি কেনাকাটা শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এমন দৃশ্য থাকলে আশা করা যায় এ সিজনে ভালো করতে পারবো।
খন্দকার হক টাওয়ার এর ব্যবসায়ী আলমগীর বলেন, এবার জামদানি শাড়ি, পাকিস্তানি, ভারতীয়, নতুন ফারসি, রাজগুরু, বুটিকসহ বিভিন্ন ধরনের শাড়ির চাহিদা তুঙ্গে। এ ছাড়া তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান থ্রি-পিস, বুটিক থ্রি-পিস ও আফগান ড্রেস। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানি থ্রি-পিস। তার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় ড্রেসের নাম হিসেবে রয়েছে “হেনা”।
দীঘালগাও কাছার থেকে আসা শ্রাবণী ক্রেতা বলেন, সকালে এসেছি স্বামী, মা, বোনকে নিয়ে এবং পরিবারের জন্য ঈদের কেনা-কাটা করতে। কিন্তু মার্কেটে এসে দেখি আমার মত সাধারণ মানুষের অনেক ভীড়। মানুষের ভিড়ে অসহনীয় গরম। এর মধ্যে দোকানদাররা জামা-কাপড়ের দাম চাচ্ছেন অনেক বেশি। ঘণ্টাখানেক ঘুরেছি অতিরিক্ত দামের কারণে এখনো কোনো পোশাক কিনতে পারিনি। স্বল্প বাজেটের ক্রেতারা কি ভাবে তাদের পরিবারের জন্য কেনাকাটা করবে ভাবছি।
তানভীর হায়দার নামের আরেক ক্রেতা বলেন, বাচ্চাদের পোশাক উত্তাপ ছড়াচ্ছে। তিন হাজার  টাকার নিচে পছন্দ করার মতো কোনো পোশাক নেই। মার্কেটে এসে বাজেট মেলাতে পারছি না। পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কিনতে হলে ফুটপাতের দোকান ছাড়া বিকল্প উপায় নেই বলে মনে করি । তাই ফুটপাত থেকেই দেখছি এবং মার্কেট থেকে এখানে তুলনামূলক দাম অনেক কম।
মার্কেটের মতোই ফুটপাতেও জমজমাট বেচাকেনা চলছে জানিয়ে জানে আলম নামে ভাসমান এক বিক্রেতা বলেন, মার্কেটের জিনিস আর আমাদের জিনিসের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। বরং আমাদের দোকান ভাড়া লাগে না। তাই দাম অনেক কম। ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে এবং বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
ফুটপাতের আরেক ভাসমান ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন আমরা মার্কেটের তুলনায় স্বল্প খরচের মধ্যে ক্রেতাদের ভালো মানের পোষাক দেওয়ার চেষ্টা করি।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ঈদের বাজার নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গত রবিবার থেকে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় অপরাধ বেশি সংঘটিত হয়, সেসব এলাকায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর মার্কেট গুলোতে চুড়ি ছিনতাইয়ের মাত্রাটা কিছুটা কম।
ট্যাগ :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সিআইডি প্রধানের জরুরী ব্রিফিং

কুমিল্লা ঈদ বাজারে সন্ধ্যা হলে নামে লাখো মানুষের ঢল

প্রকাশিত : ০৮:৩৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি, মাহে রমজানের শুরুতেই ঈদের বার্তা পৌঁছে যায় প্রতিটি ঘরে ঘরে। তাই বেশির ভাগ মানুষ রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঈদের কেনাকাটায় ব্যাস্ত সময় পার করে থাকেন। ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, তত বেশি জমে ওঠে কেনাকাটা।
প্রতিবারের মতো এবারও ঈদে জমজমাট কুমিল্লার বিভিন্ন শপিং মল ও ফুটপাত সহ বিপনি-বিতান গুলোতে। অনেকেই সারাদিন রোজা রেখে দিনের বেলায় ইচ্ছে করে না যে কেনাকাটা করার জন্য, তাই সন্ধ্যা হলেই প্রতিদিন নগরীর প্রতিটি শপিংমলে চোখে পড়ার মতো দেখা যায়  উপচে পড়া ভিড়।
সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতায় সরগরম থাকছে মার্কেগুলো। ফলে তাদের সামাল দিতেও কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের।
নগরীর অভিজাত বিপনি-বিতান সাত্তার খান কমপ্লেক্স, খন্দকার হক টাওয়ার,  কিউ আর টাওয়ার, প্লানেট এসআর, নিউমার্কেট, ময়নামতি গোল্ডেন টাওয়ার, আনন্দ সিটি সেন্টার, ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজাসহ সকল মলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, নতুন পোশাকে ঈদ উদযাপনে কেনাকাটা পুরোদমে জমে উঠেছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণে মুখর নগরীর বিপণিবিতানগুলো।
বিশেষ করে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে নারী ক্রেতার সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। পছন্দের পোশাক কিনতে ঘুরছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে। ভারত সীমান্তঘেঁষা এ জেলার ফ্যাশন-সচেতন তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক আর তরুণদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে কুমিল্লার বিখ্যাত খাদির পাঞ্জাবি। ক্রেতার চাপে ব্যবসায়ীদের দম ফেলার যেন সময় নেই। একই চিত্র দেখা গেছে সড়কের পাশের ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা ভিড় করছেন সেসব দোকানগুলোতে।
বিক্রেতারা বলছেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার দ্রুত ঈদের বাজার জমে উঠেছে। ১০ রমজান থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে বেচাকেনা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিক্রেতার চাপ থাকছে। তবে সকালের তুলনায় বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অনেক মানুষের সমাগম থাকে। দিন যত যাচ্ছে, ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে।
সাত্তার খান কমপ্লেক্স এর মাসুদ হাসান বলেন প্রতিবছরের মতো এ বছরও শুরু থেকে মোটামুটি কেনাকাটা শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এমন দৃশ্য থাকলে আশা করা যায় এ সিজনে ভালো করতে পারবো।
খন্দকার হক টাওয়ার এর ব্যবসায়ী আলমগীর বলেন, এবার জামদানি শাড়ি, পাকিস্তানি, ভারতীয়, নতুন ফারসি, রাজগুরু, বুটিকসহ বিভিন্ন ধরনের শাড়ির চাহিদা তুঙ্গে। এ ছাড়া তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান থ্রি-পিস, বুটিক থ্রি-পিস ও আফগান ড্রেস। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানি থ্রি-পিস। তার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় ড্রেসের নাম হিসেবে রয়েছে “হেনা”।
দীঘালগাও কাছার থেকে আসা শ্রাবণী ক্রেতা বলেন, সকালে এসেছি স্বামী, মা, বোনকে নিয়ে এবং পরিবারের জন্য ঈদের কেনা-কাটা করতে। কিন্তু মার্কেটে এসে দেখি আমার মত সাধারণ মানুষের অনেক ভীড়। মানুষের ভিড়ে অসহনীয় গরম। এর মধ্যে দোকানদাররা জামা-কাপড়ের দাম চাচ্ছেন অনেক বেশি। ঘণ্টাখানেক ঘুরেছি অতিরিক্ত দামের কারণে এখনো কোনো পোশাক কিনতে পারিনি। স্বল্প বাজেটের ক্রেতারা কি ভাবে তাদের পরিবারের জন্য কেনাকাটা করবে ভাবছি।
তানভীর হায়দার নামের আরেক ক্রেতা বলেন, বাচ্চাদের পোশাক উত্তাপ ছড়াচ্ছে। তিন হাজার  টাকার নিচে পছন্দ করার মতো কোনো পোশাক নেই। মার্কেটে এসে বাজেট মেলাতে পারছি না। পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কিনতে হলে ফুটপাতের দোকান ছাড়া বিকল্প উপায় নেই বলে মনে করি । তাই ফুটপাত থেকেই দেখছি এবং মার্কেট থেকে এখানে তুলনামূলক দাম অনেক কম।
মার্কেটের মতোই ফুটপাতেও জমজমাট বেচাকেনা চলছে জানিয়ে জানে আলম নামে ভাসমান এক বিক্রেতা বলেন, মার্কেটের জিনিস আর আমাদের জিনিসের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। বরং আমাদের দোকান ভাড়া লাগে না। তাই দাম অনেক কম। ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে এবং বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
ফুটপাতের আরেক ভাসমান ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন আমরা মার্কেটের তুলনায় স্বল্প খরচের মধ্যে ক্রেতাদের ভালো মানের পোষাক দেওয়ার চেষ্টা করি।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ঈদের বাজার নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গত রবিবার থেকে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় অপরাধ বেশি সংঘটিত হয়, সেসব এলাকায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর মার্কেট গুলোতে চুড়ি ছিনতাইয়ের মাত্রাটা কিছুটা কম।