ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রে বিভিন্ন গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে অন্তত দেড় কোটি টাকা আত্নসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।
এজেন্টে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে এই টাকাগুলো তুলে আত্নসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ ঘটনাটি জানাজানির পর থেকে গ্রাহকররা রোববার সন্ধ্যা থেকে ব্যাংকটির কার্যালয় গিয়ে কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। তবে ব্যাংকের ক্যাশিয়ার প্রাথমিকভাবে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা আত্নসাতের কথা স্বীকার করেছেন।
গ্রাহকরা বলছেন, এখন পর্যন্ত দেড় কোটি টাকা আত্নসাতের কথা শোনা যাচ্ছে। তবে সব গ্রাহকের হিসাবে খোঁজ নিলে টাকা আত্নসাতের পরিমাণ আরও বাড়বে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে আক্কেলপুর পৌরশহরের উপজেলা পরিষদের সামনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রটি খোলা হয়। প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে প্রায় দুই হাজার একাউন্ট রয়েছে। ব্যাংকটিতে ব্যবস্থাপক ও ক্যাশিয়ারসহ তিনজন কর্মকর্তা রয়েছেন। টাকা আত্নসাতের দায়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানা শুরু থেকে ব্যাংকটিতে ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত রয়েছেন। আক্কেলপুর দারুল কোরআন মাদ্রাসার হিসাব থেকে ৩৯ টাকা উধাও হওয়ার পর এজেন্ট ব্যাংকে টাকা আত্নসাতের ঘটনাটি ধরা পড়ে।
ভুক্তভোগী একটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ের দুজন গ্রাহকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে যে পরিমাণ টাকা জমা থাকার কথা সেটি নেই। ব্যাংকটির অন্য শাখায় গিয়ে তাঁরা ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। এরপর তাঁরা গতকাল রবিবার বিকেলে এসে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ও ক্যাশিয়ারের সঙ্গে কথা বলেন। ব্যাংকটির ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা তাঁদের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করার কথা স্বীকার করেন।
তখন তাঁরা ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) মনজুরুল আলমকে ঘটনাটি জানান।
দারুল কোরআন মাদ্রাসার মহতামিম মুফতি ফিরোজ আহমদ জাগো নিউজকে বলেন, তাঁদের মাদ্রাসার অ্যাকাউন্টে ৩৯ লাখ টাকা ছিল। গত বৃহস্পতিবার তাঁরা ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। দীর্ঘদিন ধরে মুঠোফোনে ব্যাংক থেকে টাকা জমা ও উত্তোলনের কোন ম্যাসেজ আসত না। ব্যাংক থেকে তাঁদের ভূয়া হিসাব বিবরণী দেওয়া হচ্ছিলো।
সে সময় সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা গতকাল রবিবার ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড বাংলাদেশ জয়পুরহাট শাখায় যান। সেখানে গিয়ে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিবরণী নেন। ওই হিসাব বিবরণীতে মাত্র ১৭ হাজার ২৯৯ রয়েছে। তাঁরা হিসাব বিবরণী নিয়ে এজেন্টে ব্যাংকে আসেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ও ক্যাশিয়ারের সঙ্গে কথা বলেন। তখন ক্যাশিয়ার আমাদের প্রতিষ্ঠানসহ অন্য ব্যক্তিদের হিসাব থেকে কৌশলে টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করেন।
আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক আব্দুল মোমিন বলেন, আমাদের হিসাব থেকে তিন লাখ টাকা আত্নসাৎ করা হয়েছে। ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা এই টাকা আত্নসাৎ করেছেন। তিনি টাকা আত্নসাতের কথা স্বীকারও করেছেন।
এজেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপক রিওয়ানা ফারজানা বলেন, ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা এভাবে টাকা আত্নসাৎ করেছেন তা আগে জানতাম না। আজকে কয়েক জন গ্রাহকের এসে খোঁজ নেওয়ার পর ঘটনাটি জানতে পেরেছি।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, এই ঘটনাই রাতে একটি মামলা হয়, তারপর সেই ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মাসুদ রানাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ওসি বলেন, আত্মসাৎকারী মাসুদ রানা স্বীকার করেছেন তিনি ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে আত্মসাৎ করেছেন।
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুরুল আলম বলেন, আমি প্রথমে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা আত্নসাতের কথা শুনেছি। এখন কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে শুনতে পাচ্ছি। ইতিমধ্যে এঘটনায় মামলা হয়েছে এবং সেই আত্মসৎকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ডিএস




















