০৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫

পাবনায় ঈদেও নিরবিচ্ছিন্ন সেবায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ১১ টি নরমাল ডেলিভারি

মা ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে ব্রিটিশ আমলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে প্রতিষ্ঠা করা হয় পাবনা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ঈদুল ফিতরের ছুটির মাঝেও এ চিকিৎসা কেন্দ্রে ১১ টি নরমাল ডেলিভারি সহ অন্তত অর্ধশত মা ও শিশুকে দেয়া হয়েছে চিকিৎসা সেবা। জনবল ও অবকাঠামোগত নানা সংকট উপেক্ষা করে এমন নিরবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা দেয়ায় প্রশংসা কুড়াচ্ছেন চিকিৎসা কেন্দ্রটি।

চিকিৎসা কেন্দ্র সূত্র জানায়, গত ২৮ মার্চ থেকে ঈদ ও সাধারণ সহ মোট ৯ দিনের ছুটির এসময়ে কেন্দ্রে ১১ জন প্রসূতিকে শুধু নরমাল ডেলিভারিই করানো হয়েছে। এছাড়া ১১ জনকে প্রসবোত্তর ও ৮ জনকে গর্ভবতী সেবা দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সাধারণ রোগী ও শিশু সহ অন্তত ২০ জনকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে চিকিৎসা কেন্দ্রটি। এর বাইরে রক্ত ও ইউরিন সহ কয়েকটি মেডিকেল টেস্ট করানো হয়েছে। দেয়া হয়েছে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ। ঈদের ছুটিকালীন সময়ে এসব জরুরী সেবা কার্যক্রমে তদারকি করেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. এ.বি.এম শরিফুল হক, সহকারী পরিচালক (ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশান) ডা. নাজমুস সাকিব ও মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশান) ডা. মো. আব্দুল বাতেন। এদিকে দীর্ঘ এ ছুটির মাঝেও এমন নিরবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা পেয়ে খুশি সেবাভোগীরা।

এব্যাপারে প্রসূতি সেবা নিতে আসা শারমিন ও কাঞ্চন খাতুন সহ কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনেরা জানান, ঈদ বা কোনো উৎসব এলেই অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। কারণ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে এসময় ডাক্তার পাওয়া কঠিন। প্রসূতি রোগীদের চিন্তা আরো বেশি। কারণ এসব সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার বা সংশ্লিষ্টদের না পাওয়া গেলে মোটা অংকের টাকায় বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হয়। সেখানে সবার আগে জানানো হয়- সিজার করতে হবে। কিন্তু এখানে এলে নরমাল ডেলিভারির সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। ঈদের এই ছুটিতে ডেলিভারি সহ অন্যান্য সেবা মিলছে এটি সবার জন্য স্বস্তির বিষয়।

চিকিৎসা কেন্দ্রটির পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রাশিদা বেগম বলেন, ঈদ- আনন্দ সবই করতে হবে। আবার সবাইকে ভালোও থাকতে হবে। সবাই যদি সব ভুলে আনন্দ উপভোগে ছুটি কাটাই তাহলে সমস্যায় আক্রান্তরা কিভাবে বাঁচবেন? এসব বিষয় মাথায় রেখে আমরা দিনে রাতে যার যখন যেভাবে ডিউটি ছিলো পালন করেছি। ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা দেবার চেষ্টা করেছি।

এব্যাপারে পাবনা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. উর্মি সাহা বলেন, অত্যন্ত পুরনো একটি হাসপাতাল এটি। অল্প জনবলের এ হাসপাতালে দুএকজন ছুটি কাটাতে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়। এর মাঝেও তিন শিফটে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, মিডওয়াইফ, নার্স, দাই নার্স ও আয়া দিয়ে রোস্টার করে এবারের ঈদে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। আমাদের হাসপাতালটির নরমাল ডেলিভারিতে সুনাম রয়েছে। বিনামূল্যে সিজারও করা হয়। ঈদের ছুটিতেও এ সেবা ২৪ ঘন্টা চালু ছিলো।

ডিএস..

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেশ সংস্কারের আগে উপদেষ্টা পরিষদের সংস্কার জরুরি: রাশেদ খান

পাবনায় ঈদেও নিরবিচ্ছিন্ন সেবায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ১১ টি নরমাল ডেলিভারি

প্রকাশিত : ১২:০৮:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

মা ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে ব্রিটিশ আমলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে প্রতিষ্ঠা করা হয় পাবনা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ঈদুল ফিতরের ছুটির মাঝেও এ চিকিৎসা কেন্দ্রে ১১ টি নরমাল ডেলিভারি সহ অন্তত অর্ধশত মা ও শিশুকে দেয়া হয়েছে চিকিৎসা সেবা। জনবল ও অবকাঠামোগত নানা সংকট উপেক্ষা করে এমন নিরবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা দেয়ায় প্রশংসা কুড়াচ্ছেন চিকিৎসা কেন্দ্রটি।

চিকিৎসা কেন্দ্র সূত্র জানায়, গত ২৮ মার্চ থেকে ঈদ ও সাধারণ সহ মোট ৯ দিনের ছুটির এসময়ে কেন্দ্রে ১১ জন প্রসূতিকে শুধু নরমাল ডেলিভারিই করানো হয়েছে। এছাড়া ১১ জনকে প্রসবোত্তর ও ৮ জনকে গর্ভবতী সেবা দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সাধারণ রোগী ও শিশু সহ অন্তত ২০ জনকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে চিকিৎসা কেন্দ্রটি। এর বাইরে রক্ত ও ইউরিন সহ কয়েকটি মেডিকেল টেস্ট করানো হয়েছে। দেয়া হয়েছে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ। ঈদের ছুটিকালীন সময়ে এসব জরুরী সেবা কার্যক্রমে তদারকি করেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. এ.বি.এম শরিফুল হক, সহকারী পরিচালক (ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশান) ডা. নাজমুস সাকিব ও মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশান) ডা. মো. আব্দুল বাতেন। এদিকে দীর্ঘ এ ছুটির মাঝেও এমন নিরবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা পেয়ে খুশি সেবাভোগীরা।

এব্যাপারে প্রসূতি সেবা নিতে আসা শারমিন ও কাঞ্চন খাতুন সহ কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনেরা জানান, ঈদ বা কোনো উৎসব এলেই অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। কারণ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে এসময় ডাক্তার পাওয়া কঠিন। প্রসূতি রোগীদের চিন্তা আরো বেশি। কারণ এসব সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার বা সংশ্লিষ্টদের না পাওয়া গেলে মোটা অংকের টাকায় বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হয়। সেখানে সবার আগে জানানো হয়- সিজার করতে হবে। কিন্তু এখানে এলে নরমাল ডেলিভারির সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। ঈদের এই ছুটিতে ডেলিভারি সহ অন্যান্য সেবা মিলছে এটি সবার জন্য স্বস্তির বিষয়।

চিকিৎসা কেন্দ্রটির পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রাশিদা বেগম বলেন, ঈদ- আনন্দ সবই করতে হবে। আবার সবাইকে ভালোও থাকতে হবে। সবাই যদি সব ভুলে আনন্দ উপভোগে ছুটি কাটাই তাহলে সমস্যায় আক্রান্তরা কিভাবে বাঁচবেন? এসব বিষয় মাথায় রেখে আমরা দিনে রাতে যার যখন যেভাবে ডিউটি ছিলো পালন করেছি। ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা দেবার চেষ্টা করেছি।

এব্যাপারে পাবনা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. উর্মি সাহা বলেন, অত্যন্ত পুরনো একটি হাসপাতাল এটি। অল্প জনবলের এ হাসপাতালে দুএকজন ছুটি কাটাতে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়। এর মাঝেও তিন শিফটে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, মিডওয়াইফ, নার্স, দাই নার্স ও আয়া দিয়ে রোস্টার করে এবারের ঈদে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। আমাদের হাসপাতালটির নরমাল ডেলিভারিতে সুনাম রয়েছে। বিনামূল্যে সিজারও করা হয়। ঈদের ছুটিতেও এ সেবা ২৪ ঘন্টা চালু ছিলো।

ডিএস..