০৫:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬

আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে জোরপূর্বক আটক করার ঘটনার পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন মানার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন না। খবর আলজাজিরার।

ট্রাম্প জানান, তার কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করবে কেবল তার ‘নিজস্ব নৈতিকতা’। আন্তর্জাতিক আইন মানা না মানার বিষয়টি তার সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করে। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই আমার। আমি মানুষের ক্ষতি করতে চাই না।’

গত শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির রাজধানী কারাকাস ও বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। অভিযানের একপর্যায়ে মার্কিন সেনারা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেয়। সমালোচকদের মতে, এ পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

হামলার পর ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে এবং দেশটির বিপুল তেলসম্পদ কাজে লাগাবে। যদিও হোয়াইট হাউস বলছে, তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সহযোগিতা করবে, তবে একই সঙ্গে জানানো হয় যে ওয়াশিংটন দেশটির নীতিনির্ধারণে প্রভাব খাটাবে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন নির্দেশনা না মানলে দ্বিতীয় দফা সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।

ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি ট্রাম্প কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধেও সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন। এর আগে জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধে যুক্ত হয়ে দেশটির তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশও দেন তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। জাতিসংঘের বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক মার্গারেট স্যাটারথওয়েট সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং বিশ্বকে আবার ‘সাম্রাজ্যবাদের যুগে’ ফিরিয়ে নিতে পারে। তার মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোও আগ্রাসী পথে হাঁটতে উৎসাহিত হবে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন পবিপ্রবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর

আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

প্রকাশিত : ১০:৩৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে জোরপূর্বক আটক করার ঘটনার পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন মানার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন না। খবর আলজাজিরার।

ট্রাম্প জানান, তার কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করবে কেবল তার ‘নিজস্ব নৈতিকতা’। আন্তর্জাতিক আইন মানা না মানার বিষয়টি তার সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করে। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই আমার। আমি মানুষের ক্ষতি করতে চাই না।’

গত শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির রাজধানী কারাকাস ও বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। অভিযানের একপর্যায়ে মার্কিন সেনারা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেয়। সমালোচকদের মতে, এ পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

হামলার পর ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে এবং দেশটির বিপুল তেলসম্পদ কাজে লাগাবে। যদিও হোয়াইট হাউস বলছে, তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সহযোগিতা করবে, তবে একই সঙ্গে জানানো হয় যে ওয়াশিংটন দেশটির নীতিনির্ধারণে প্রভাব খাটাবে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন নির্দেশনা না মানলে দ্বিতীয় দফা সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।

ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি ট্রাম্প কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধেও সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন। এর আগে জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধে যুক্ত হয়ে দেশটির তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশও দেন তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। জাতিসংঘের বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক মার্গারেট স্যাটারথওয়েট সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং বিশ্বকে আবার ‘সাম্রাজ্যবাদের যুগে’ ফিরিয়ে নিতে পারে। তার মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোও আগ্রাসী পথে হাঁটতে উৎসাহিত হবে।

ডিএস./