ভেনেজুয়েলায় সেনা অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ তুলে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশটির তেল সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে সেই তেল বিক্রিও শুরু করে দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে ৫০ কোটি ডলারের তেল বিক্রিও হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
গত ৪ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সেনা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তাদের সরকারি বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন সেনাবাহিনী। বর্তমানে তারা উভয়েই নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন।
মার্কিন প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহের অভিযোগে আদালতে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়ার বিচার হবে।
মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের তিন দিন পর ৭ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল যুক্তরাষ্ট্রে আনার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি ওইদিন জানান, প্রথম চালান হিসেবে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল (এক ব্যারেল=১৫৯ লিটার) জ্বালানি তেল যুক্তরাষ্ট্রে আসছে ভেনেজুয়েলা থেকে।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই প্রথম চালানের তেল বিক্রি হয়েছে ৫০ কোটি ডলারে।
এদিকে গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে বিভিন্ন মার্কিন তেল কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকের পর তিনি ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাতে অচিরেই অন্তত ১০০ ডলারের বিনিয়োগ আসছে।
এই ঘোষণার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি প্রত্যাশা করছেন যে মার্কিন কোম্পানিগুলো যেন ভেনেজুয়েলার তেলখাতে বিনিয়োগ করে। তবে, অধিকাংশ কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা ট্রাম্পের সেই প্রত্যাশায় কার্যত পানি ঢেলে দিয়েছেন।
মার্কিন তেল কোম্পানি অ্যাক্সন মোবিলের শীর্ষ নির্বাহী ড্যারেন উডস এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বিনিয়োগ সম্ভব নয়। এটা বিনিময়ের অযোগ্য। কারণ, এখানে অনেক আইনগত এবং বাণিজ্যক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। একমাত্র তাহলেই আমরা বুঝতে পারব যে সেখানে বিনিয়োগের রিটার্ন হিসেবে আমরা কী পাবো।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে তেলসমৃদ্ধ দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ সংস্থা ইউএস অ্যানার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)-এর তথ্য অনুসারে, ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে মজুত আছে কমপক্ষে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। বিশ্বের খনিগুলোতে মোট যত তেল মজুত আছে, তার এক পঞ্চমাংশই আছে ভেনেজুয়েলায়।
তবে এত বড় মজুত থাকা সত্ত্বেও দেশটির দৈনিক তেলের উৎপাদন খুবই কম। প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করে ভেনেজুয়েলা। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতিদিন যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ আসে, তার মাত্র দশমিক ৮ শতাংশ আসে ভেনেজুয়েলা থেকে।
ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের গঠন ভারী ও ঘন। এই তেল উত্তোলন ও পরিশোধনের ক্ষেত্রে অন্যান্য তেলের তুলনায় বেশি যত্নশীল হতে হয়।
তবে এ ধরনের তেল পরিশোধনের মাধ্যমে উৎকৃষ্টমানের ডিজেল, অ্যাসফল্ট, কারখানায় ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানি, অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানিসহ আরও অনেক ধরনের জ্বলানিপণ্য তৈরি করা সম্ভব।
ডিএস./
























