০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ক্যাপ্টেন আসিফের সাহসিকতায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল ‘গ্যাস হারমোনি’

চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী চ্যানেলে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে রক্ষা পেয়েছে এলপিজি গ্যাস বহনকারী জাহাজ ‘গ্যাস হারমোনি’। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) নৌ বিভাগের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, অসীম সাহসিকতা ও পেশাদার দক্ষতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

চবক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে কর্ণফুলী চ্যানেলের ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল (ইউটিটিএল) জেটিতে বার্থিং করার সময় ১৫৯.৯ মিটার দৈর্ঘ্যের এলপিজি গ্যাসবাহী জাহাজ ‘গ্যাস হারমোনি’-তে হঠাৎ জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই সময় জাহাজটিতে প্রায় ৫১৫ মেট্রিক টন প্রোপেন এবং ৪ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন বিউটেনসহ মোট প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টনের বেশি দাহ্য গ্যাস বহন করা হচ্ছিল।

হঠাৎ মারাত্মক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ফলে নিকটবর্তী কাফকো অ্যামোনিয়া জেটিতে আঘাত হানার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমন অবস্থায় জাহাজটি জেটিতে আঘাত করলে বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ডসহ ব্যাপক জানমাল ক্ষতি এবং কর্ণফুলী চ্যানেলের অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ সংকটময় মুহূর্তে জাহাজে দায়িত্ব পালনরত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ অত্যন্ত দৃঢ় মনোবল, উপস্থিত বুদ্ধি ও পেশাদার দক্ষতার পরিচয় দেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজের নোঙর ফেলার সিদ্ধান্ত নেন এবং টাগবোটের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে জাহাজের গতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

চবক সূত্র জানায়, ক্যাপ্টেন আসিফের সময়োচিত সিদ্ধান্ত ও নিখুঁত পরিচালনায় জাহাজটির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে জেটি কাঠামো থেকে আনুমানিক ১.২ মিটার দূরত্বে জাহাজটিকে নিরাপদভাবে থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। অন্যথায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা অনিবার্য ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভিটিএমএস (ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) এর মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। দ্রুততম সময়ে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে শেষ পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

চবক কর্তৃপক্ষ জানায়, এই ঘটনায় কোনো ধরনের প্রাণহানি বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়নি। বরং ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ফলে চট্টগ্রাম বন্দর এবং দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট জাহাজ ‘গ্যাস হারমোনি’-এর ক্যাপ্টেন ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে একটি প্রশংসাপত্র প্রদান করেন।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের দক্ষতা, সাহস ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাই চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপদ নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার অন্যতম প্রধান শক্তি।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে তেমন উন্নতি হয়নি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দাবি প্রার্থীদের

ক্যাপ্টেন আসিফের সাহসিকতায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল ‘গ্যাস হারমোনি’

প্রকাশিত : ০২:৫৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী চ্যানেলে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে রক্ষা পেয়েছে এলপিজি গ্যাস বহনকারী জাহাজ ‘গ্যাস হারমোনি’। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) নৌ বিভাগের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, অসীম সাহসিকতা ও পেশাদার দক্ষতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

চবক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে কর্ণফুলী চ্যানেলের ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনাল (ইউটিটিএল) জেটিতে বার্থিং করার সময় ১৫৯.৯ মিটার দৈর্ঘ্যের এলপিজি গ্যাসবাহী জাহাজ ‘গ্যাস হারমোনি’-তে হঠাৎ জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই সময় জাহাজটিতে প্রায় ৫১৫ মেট্রিক টন প্রোপেন এবং ৪ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন বিউটেনসহ মোট প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টনের বেশি দাহ্য গ্যাস বহন করা হচ্ছিল।

হঠাৎ মারাত্মক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ফলে নিকটবর্তী কাফকো অ্যামোনিয়া জেটিতে আঘাত হানার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমন অবস্থায় জাহাজটি জেটিতে আঘাত করলে বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ডসহ ব্যাপক জানমাল ক্ষতি এবং কর্ণফুলী চ্যানেলের অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ সংকটময় মুহূর্তে জাহাজে দায়িত্ব পালনরত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ অত্যন্ত দৃঢ় মনোবল, উপস্থিত বুদ্ধি ও পেশাদার দক্ষতার পরিচয় দেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজের নোঙর ফেলার সিদ্ধান্ত নেন এবং টাগবোটের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে জাহাজের গতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

চবক সূত্র জানায়, ক্যাপ্টেন আসিফের সময়োচিত সিদ্ধান্ত ও নিখুঁত পরিচালনায় জাহাজটির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে জেটি কাঠামো থেকে আনুমানিক ১.২ মিটার দূরত্বে জাহাজটিকে নিরাপদভাবে থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। অন্যথায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা অনিবার্য ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভিটিএমএস (ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) এর মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। দ্রুততম সময়ে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে শেষ পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

চবক কর্তৃপক্ষ জানায়, এই ঘটনায় কোনো ধরনের প্রাণহানি বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়নি। বরং ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ফলে চট্টগ্রাম বন্দর এবং দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট জাহাজ ‘গ্যাস হারমোনি’-এর ক্যাপ্টেন ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদের সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে একটি প্রশংসাপত্র প্রদান করেন।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের দক্ষতা, সাহস ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাই চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপদ নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার অন্যতম প্রধান শক্তি।

ডিএস./