১১:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সীতাকুণ্ডে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।

শনিবার একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করে মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনছুর, মহরম আলীসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।

উপজেলা প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদনের সাথে সাথে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ফ্যাসিবাদমুক্ত সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়াও দিনটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় পতেকা অর্ধনমিত রাখা, শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে প্রভাতফেরী শেষে সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম ও বীরমুক্তিযোদ্ধাসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ। এ সময় বক্তারা বলেন, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও ভাষা আন্দোলনের জন্য যারা জীবন দিয়ে শহীদ হয়েছেন তাদের ঋণ কোনদিন শোধ হবার না। আজ তাদের জন্য আমরা আমাদের মাতৃভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পেয়েছি। ৫২ সালের ভাষা সৈনিকগণ যে আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার শপথ করেছিলেন তার বাস্তবায়ন করেছিলেন একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হলে সেই একই শপথ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

পরিশেষে বক্তারা ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এদিকে শহীদ মিনার চত্বরে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডাঃ কমল কদর এর সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মোরছালিনের সঞ্চালনায় দিবসটি উপলক্ষে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপি।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন শুধু বাঙালির ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গের এমন বিরল নজির বিশ্বে খুব কমই দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা এসেছে। ভাষা শহীদদের আত্মদান আমাদের জাতীয় জীবনের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে চিরকাল। নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মত দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ভালোবাসার মাধ্যমে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

অনুষ্ঠানজুড়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দেশাত্মবোধক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহীদ মিনার চত্বর। মহান একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় স্বকীয়তা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সীতাকুণ্ডে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

প্রকাশিত : ১০:৩০:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।

শনিবার একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করে মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনছুর, মহরম আলীসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।

উপজেলা প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদনের সাথে সাথে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ফ্যাসিবাদমুক্ত সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়াও দিনটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় পতেকা অর্ধনমিত রাখা, শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে প্রভাতফেরী শেষে সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম ও বীরমুক্তিযোদ্ধাসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ। এ সময় বক্তারা বলেন, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও ভাষা আন্দোলনের জন্য যারা জীবন দিয়ে শহীদ হয়েছেন তাদের ঋণ কোনদিন শোধ হবার না। আজ তাদের জন্য আমরা আমাদের মাতৃভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পেয়েছি। ৫২ সালের ভাষা সৈনিকগণ যে আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার শপথ করেছিলেন তার বাস্তবায়ন করেছিলেন একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হলে সেই একই শপথ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

পরিশেষে বক্তারা ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এদিকে শহীদ মিনার চত্বরে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডাঃ কমল কদর এর সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মোরছালিনের সঞ্চালনায় দিবসটি উপলক্ষে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপি।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন শুধু বাঙালির ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গের এমন বিরল নজির বিশ্বে খুব কমই দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা এসেছে। ভাষা শহীদদের আত্মদান আমাদের জাতীয় জীবনের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে চিরকাল। নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মত দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ভালোবাসার মাধ্যমে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

অনুষ্ঠানজুড়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দেশাত্মবোধক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহীদ মিনার চত্বর। মহান একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় স্বকীয়তা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

ডিএস./