চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সাগর উপকূলে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে নামে প্রশাসন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৯টি ড্রেজারের ম্যানেজার ও চালকসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় জেলেরা আরও একটি ড্রেজারের ৪ কর্মচারীকে আটক করে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করলে মোট আটক সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ জনে।
তিনটি স্পিডবোটযোগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে টানা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় কুমিরা সমুদ্র উপকূল থেকে সন্দ্বীপ চ্যানেল হয়ে সৈয়দপুর এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত জলসীমায় তল্লাশি চালানো হয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অনুযায়ী সীতাকুণ্ড সমুদ্র উপকূলের নির্দিষ্ট পাঁচটি স্পট থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু আটক ব্যক্তিরা অনুমোদিত এলাকার বাইরে সমুদ্রের বিস্তৃত অংশজুড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল।
বন্দর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, আটকৃতদের ১৩ জনকে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে এম আর ট্রেডার্স ও কনস্ট্রা এইড লিমিটেড নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে ড্রেজারগুলো টেনে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো জব্দ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে দুপুরে সাগরে চলমান অভিযান থেকে পালানোর সময় আটক চারজন ড্রেজার শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এই অঞ্চলের জেলেরা সাগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও জালের ক্ষতিপূরণের দাবিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ ও নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
ডিএস



















