সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরনে শিশুসহ অনেকেই দগ্ধ হচ্ছে। সর্বশেষ কুমিল্লাতে গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরণে স্বামী স্ত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের শিশু সন্তানটি জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারিতে ভর্তি রয়েছে। তারপরও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন সিএনসি স্টেশনে কাভার্ড ভ্যান ভর্তি সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ করছে। এতে যে কোন সময় বড় ধরনে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন মহাসড়কের চালক ও যাত্রীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাজীপুর, কালিয়াকৈর ও গোড়াই এলাকার গার্মেন্টেস্সহ বিভিন্ন কোম্পানী থেকে কাভার্ড ভ্যান ভর্তি করে সিলিন্ডার নিয়ে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নিয়ে যায়। অতিঝুঁকি জানা সত্বেও ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের নিটল সিএনজি ও টাঙ্গাইল সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড থেকে প্রতিনিয়ত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে গ্যাস অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এভাবে ঝুঁকি নিয়ে গ্যাস দেয়ার কোন নিয়ম নেই।
সরেজমিন নিটল সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, কালিয়াকৈর থেকে আসা একটি কাডার্ভ ভ্যানে সিএনজি গ্যাস দেয়া হচ্ছে। অপেক্ষার জন্য রয়েছে আরও চারটি কাভার্ডভ্যান। তবে এই সিএনজি স্টেশনে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ছোট সিএনজি চালিত অটো রিকশায় গ্যাস দিতে দেখা যায়নি।
নিটল সিএনজি স্টেশনের এক অপারেটর মো. উজ্জল বলেন, ভাই আমরা এই পাম্পে চাকরি করি। বিস্তারিত জানার থাকলে ম্যানেজারের কাছে যেতে পারেন।
নাম প্রকাশ না করার নিটল সিএনজি স্টেশনের এক অপারেটর বলেন, কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে অর্ধশতাধিক সিলিন্ডার থাকে। প্রতিটি গাড়িতে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার গ্যাস যায়। তবে গ্যাস সিলিন্ডারের পরীক্ষা করা হয় কিনা, তা আমার জানা নেই। তবে এভাবে গ্যাস পরিবহন করা ঝুঁকিপূর্ণ।
অপর এক অপারেটর বলেন, আমাদের এই পাম্পে সিএনজি চালিত অটো রিকশা, ট্রাক, বাসসহ অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে কাভার্ডভ্যান ভর্তি সিলিন্ডার বেশি নিয়ে আসে। গাজীপুর, কালিয়াকৈর ও গোড়াই থেকে বেশি গাড়ি আসে। ওই দিকের পাম্প থেকে হয়তো গ্যাস দেয় না। যে কারনে সবাই এদিকে আসে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কাভার্ড ভ্যানের চালক বলেন, আমরা কোম্পানীর চাকরি করি। আমাদের যেখানে যেতে বলে, আমি সেখানে যাই। সিলিন্ডার গুলো পরীক্ষা করা হয় কিনা বলতে পারবো না।
নিটল সিএনজি স্টেশনের ইনচার্জ আদিল ইবনে আশরাফ বলেন, কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস দেয়ার নিয়ম আছে কিনা সুনির্দিষ্ট করে কিছুই বলতে পারবো না। তবে সিলিন্ডার ভর্তি কাভার্ড ভ্যান গুলো একটিও টাঙ্গাইলের না। প্রতিটি কাভার্ড ভ্যানে ৫০ হাজার টাকার গ্যাস যায়। এ গুলো বহন করা ঝুঁকি কিনা, সেটি কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।
টাঙ্গাইল সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম বলেন, এই গ্যাস গুলো আমাদের কোম্পানীর নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে পাঠানো হয়।
টাঙ্গাইলের তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক মো. জুয়েল রানা বলেন, এ বিষয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই।
গাজীপুর তিতাস গ্যাসের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কাভার্ড ভ্যান ভর্তি সিলিন্ডারে গ্যাস দেয়ার কোন নিয়ম নেই।
ডিএস



















