বাংলা বছরের শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তি। পুরনো বছরের ক্লান্তি, গ্লানি ও জীর্ণতাকে বিদায় জানিয়ে বাঙালি দাঁড়িয়ে আছে নতুন বছরের দ্বারপ্রান্তে। চৈত্রের প্রখর রোদ, শুকনো পাতার মর্মর আর বিদায়ের বেদনার সঙ্গে মিশে আছে নতুনের আশাবাদ ও উদ্দীপনা।
গ্রামবাংলায় এদিন আরও প্রাণবন্ত। পুরনো হিসাব চুকিয়ে হালখাতা খোলার প্রস্তুতি, ঘরে ঘরে নিরামিষ রান্না, ১৪ শাকের পদ ও ছাতু খাওয়ার ঐতিহ্য—সবই নতুন সূচনার প্রতীক। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শিবপূজা ও ব্রত পালন করেন, আর পাহাড়ি জনগোষ্ঠী তিন দিনব্যাপী উৎসবে বরণ করে নেয় নববর্ষ।
নগরজীবনে রূপ বদলালেও গ্রামীণ ঐতিহ্য এখনো বহমান। মেলা, যাত্রাপালা, পুতুলনাচ, লোকসংগীত ও লোকজ আয়োজনে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
এবারও দেশজুড়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে লোকশিল্প প্রদর্শনী, ধামাইল নৃত্য, জারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠসহ নানা পরিবেশনা চলছে। যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’ মঞ্চায়িত হচ্ছে গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্য তুলে ধরতে।
চৈত্র সংক্রান্তি শুধু একটি তারিখের সমাপ্তি নয় এটি বাঙালির চিরন্তন ঐতিহ্য, যেখানে বিদায়ের বেদনা আর নতুনের আনন্দ একসঙ্গে বয়ে চলে।
ডিএস./






















