০১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

সীতাকুণ্ডে বর্ণিল আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

“নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বর্ণিল আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে এবং লোকজ ঐতিহ্যের বৈচিত্র্য আর সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উদযাপন করা হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পৌরসভা চত্বরে জাতীয় সঙ্গীত ও বৈশাখের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা শেষে পৌরসভা চত্বর থেকে একটি বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। বিভিন্ন সাজে সজ্জিত শোভাযাত্রাটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে এসে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের রঙিন প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে, বৈচিত্র্যময় মুখোশ, রঙিন মুকুট, টোপর, তালপাখা, টিয়া পাখি, টাট্টু ঘোড়ার প্রতিকৃতি এবং লোকজ ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এতে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবকে দেয় ভিন্নমাত্রা।

শোভাযাত্রাটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাঃ কমল কদর, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মোঃ জহুরুল আলম জহুর, সালামত উল্লাহ, সদস্য সচিব মোহাম্মদ মোরছালিন, পৌর বিএনপি নেতা বখতিয়ার উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে লাল-সাদা ও নানা রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন হাজারো মানুষ। শিশুদের কোলাহল, তরুণদের উচ্ছ্বাস আর প্রবীণদের আবেগ মিলিয়ে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।

এছাড়া দিনটি উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কাবাডি খেলা ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সব মিলিয়ে, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দের অপূর্ব সমন্বয়ে সীতাকুণ্ডে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন পেয়েছে এক অনন্য মাত্রা, যা বাঙালির শিকড় ও পরিচয়ের গৌরবকে আরও একবার উজ্জ্বল করে তুলেছে। বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করে উৎসবে মেতে ওঠে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।

ডিএস,.

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সিরাজগঞ্জে এলজিইডির সাড়ে ৩৪ কোটি টাকার ব্রীজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী

সীতাকুণ্ডে বর্ণিল আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

প্রকাশিত : ১১:১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

“নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বর্ণিল আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে এবং লোকজ ঐতিহ্যের বৈচিত্র্য আর সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উদযাপন করা হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পৌরসভা চত্বরে জাতীয় সঙ্গীত ও বৈশাখের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা শেষে পৌরসভা চত্বর থেকে একটি বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। বিভিন্ন সাজে সজ্জিত শোভাযাত্রাটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে এসে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের রঙিন প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে, বৈচিত্র্যময় মুখোশ, রঙিন মুকুট, টোপর, তালপাখা, টিয়া পাখি, টাট্টু ঘোড়ার প্রতিকৃতি এবং লোকজ ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এতে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবকে দেয় ভিন্নমাত্রা।

শোভাযাত্রাটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাঃ কমল কদর, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মোঃ জহুরুল আলম জহুর, সালামত উল্লাহ, সদস্য সচিব মোহাম্মদ মোরছালিন, পৌর বিএনপি নেতা বখতিয়ার উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে লাল-সাদা ও নানা রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন হাজারো মানুষ। শিশুদের কোলাহল, তরুণদের উচ্ছ্বাস আর প্রবীণদের আবেগ মিলিয়ে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।

এছাড়া দিনটি উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কাবাডি খেলা ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সব মিলিয়ে, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দের অপূর্ব সমন্বয়ে সীতাকুণ্ডে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন পেয়েছে এক অনন্য মাত্রা, যা বাঙালির শিকড় ও পরিচয়ের গৌরবকে আরও একবার উজ্জ্বল করে তুলেছে। বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করে উৎসবে মেতে ওঠে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।

ডিএস,.