সিরাজগঞ্জে ৬শ ৩৮কোটি ব্যয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাঁটা ওয়াবধায় বালুভরাট ও বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
তথ্য বলছে, ২০২২ সালে বাঁধ নির্মাণ ও বালু ভরাট কাজ শেষ করা হলেও জায়গা দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় ৬শ ৩৮ কোটি টাকার প্রকল্পে অবৈধ বসতি গড়ছে।আর কয়েক মাস ধরেই এই বসতি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্য বলছে, বসতি গড়তে অপরিহার্য বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রতিটি অবৈধ স্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে নেসকো। ফলে দখল হয়ে যাচ্ছে সদ্য প্রস্তাবিত ইপিজেডের জায়গা।
প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারী আব্দুস সামাদ জানান, এখানে অনেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ড, রেলওয়ের জায়গায় বসবাস করছে।
সরকারি জায়গা কিভাবে বিদ্যুৎ দিচ্ছেন, এ বিষয়ে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পর্দ্দার জানান, আমরা কোনো কিছুই দেখি না, ছবি আর জাতীয় পরিচয় পত্র হলেই যেকোনো জায়গায় বিদ্যুৎ দিয়ে থাকি। এবিষয়ে নীতিমালায় কিছু ধরা নেই।
দখল বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, আমরা যমুনা নদী হতে পুনরুদ্ধারকৃত ভূমির উন্নয়ন এবং বাঁধ নির্মাণ করি। এখানে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। আমরা প্রকল্পটি জেলা প্রশাসক কর্তৃপক্ষে বুঝিয়ে দিয়েছি। কিছুদিন আগে গিয়ে দেখি প্রকল্প এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, ৬শ ৩৮কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প এলাকায় স্থাপনা কিভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে, এছাড়া সেখানে কিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে নেসকো বিষয়টি দেখার জন্য সদর ইউএনওকে নির্দেশ দিয়েছি।
এর আগে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১লা জানুয়ারি ৫শ ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি শুরু হয়। কয়েক দফা প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ৬শ ৩৮কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালে কাজটি শেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পটি সরকারের সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নের বাস্তবায়ন করা হয়। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক অফিস থেকে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জ ক্রসবার ৩ ও ক্রসবার ৪ এ এই ইপিজেড ( রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) গড়ে তোলা হবে । শুরুতে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং যমুনা সেতুর পশ্চিম গাইড বাঁধ রক্ষাই ছিল, এ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। সিরাজগঞ্জ লঞ্চঘাট এবং শহরের বিয়ারা ঘাট, ঘোনাপাড়া ও সয়দাবাদ এলাকার কৃষি জমি, ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা যমুনা নদীর ভাঙ্গন হতে রক্ষা করা । নদীর গভীরতম স্রোতধারা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা । নদী ভাঙ্গন রক্ষার মাধ্যমে অত্র এলাকার জনসাধারণের অর্থ-সামাজিক অবস্থান উন্নয়ন । নদীতীর রক্ষার মাধ্যমে পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য বজায় রাখা । পুনঃ উদ্ধার কৃত জমি ড্রেজিং কৃত মাটির মাধ্যমে ভরাট করা হয়।
ডিএস./



















