০৫:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বাম্পার ফলনের আনন্দে বিষাদের ছায়া: গজারিয়ায় বৃষ্টি ও পানিতে ধান কাটায় দিশেহারা কৃষক

কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশে কৃষিই মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে ইরি ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে বিআর-২৮, বিআর-২৯ ও বিআর-৫০ জাতের ধানের আবাদ ও উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

তবে ভালো ফলনের এই আনন্দে ভাটা পড়েছে প্রকৃতির বিরূপ আচরণে। হঠাৎ টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান কাটতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। একদিকে জমিতে পানি জমে থাকা, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট সব মিলিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।

উপজেলার ভাটেরচর এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর, মোশাররফ ও হানিফ জানান, এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি ও পানির কারণে ধান কাটতে পারছি না। আবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন একজন শ্রমিকের মজুরি ছিল নির্দিষ্ট, এখন তা অনেক বেড়ে গেছে। তবুও শ্রমিক সংকট কাটছে না। অনেক কৃষক নিজের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজের গতি খুবই ধীর।এদিকে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে ফলনের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে টানা বৃষ্টিতে ধান অঙ্কুরিত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা কৃষকের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে ইরি ধানের চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সেচ ব্যবস্থার কারণে ফলন ভালো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে সমস্যায় পড়ছেন।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের আগেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলে দ্রুত কেটে ফেলতে। কিন্তু হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকেই তা করতে পারেননি। সামনে আরও কয়েকদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

সব মিলিয়ে বাম্পার ফলনের পরও প্রকৃতির বৈরী আচরণে গজারিয়ার কৃষকদের মাঝে এখন আনন্দের বদলে দুশ্চিন্তাই বেশি বিরাজ করছে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বাম্পার ফলনের আনন্দে বিষাদের ছায়া: গজারিয়ায় বৃষ্টি ও পানিতে ধান কাটায় দিশেহারা কৃষক

প্রকাশিত : ০৫:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশে কৃষিই মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে ইরি ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে বিআর-২৮, বিআর-২৯ ও বিআর-৫০ জাতের ধানের আবাদ ও উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

তবে ভালো ফলনের এই আনন্দে ভাটা পড়েছে প্রকৃতির বিরূপ আচরণে। হঠাৎ টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান কাটতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। একদিকে জমিতে পানি জমে থাকা, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট সব মিলিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।

উপজেলার ভাটেরচর এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর, মোশাররফ ও হানিফ জানান, এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি ও পানির কারণে ধান কাটতে পারছি না। আবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন একজন শ্রমিকের মজুরি ছিল নির্দিষ্ট, এখন তা অনেক বেড়ে গেছে। তবুও শ্রমিক সংকট কাটছে না। অনেক কৃষক নিজের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজের গতি খুবই ধীর।এদিকে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে ফলনের একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে টানা বৃষ্টিতে ধান অঙ্কুরিত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা কৃষকের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে ইরি ধানের চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সেচ ব্যবস্থার কারণে ফলন ভালো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে সমস্যায় পড়ছেন।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের আগেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলে দ্রুত কেটে ফেলতে। কিন্তু হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকেই তা করতে পারেননি। সামনে আরও কয়েকদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

সব মিলিয়ে বাম্পার ফলনের পরও প্রকৃতির বৈরী আচরণে গজারিয়ার কৃষকদের মাঝে এখন আনন্দের বদলে দুশ্চিন্তাই বেশি বিরাজ করছে।

ডিএস./