০৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

রংপুরে হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান (অপসারিত)নুর আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রায় ২১ মাস আত্মগোপনে থাকার পর মঙ্গলবার (৫ মে) ভোরে রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জ থানাধীন নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রংপুর মহানগর পুলিশের মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নুর আলমের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে, যেগুলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছিল। এসব মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়,২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় নুর আলমের বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় সংঘর্ষ, হামলা এবং প্রাণঘাতী আক্রমণের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল।মামলাগুলো দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে থাকেন।

মঙ্গলবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাহিগঞ্জ থানার একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ওসি মাইদুল ইসলাম বলেন, “নুর আলমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা চলমান রয়েছে। তাকে আইনের আওতায় আনতে দীর্ঘদিন ধরে অভিযান চালানো হচ্ছিল। অবশেষে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।মামলার অগ্রগতির জন্য আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এ গ্রেপ্তারকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করছেন। তবে পুলিশ বলছে, এটি সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ এবং মামলার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর নুর আলমের গ্রেপ্তার এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।স্থানীয়রা বলছেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হলে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে এবং এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে,সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আরও দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে সহিংসতা প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখতে পারে।

দীর্ঘ ২১ মাস আত্মগোপনে থাকার পর নুর আলমের গ্রেপ্তার রংপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।এখন নজর থাকবে আদালতের কার্যক্রম ও মামলার অগ্রগতির দিকে।

ডিএস./

ট্যাগ :

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু

রংপুরে হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

প্রকাশিত : ০৫:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান (অপসারিত)নুর আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রায় ২১ মাস আত্মগোপনে থাকার পর মঙ্গলবার (৫ মে) ভোরে রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জ থানাধীন নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রংপুর মহানগর পুলিশের মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নুর আলমের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে, যেগুলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছিল। এসব মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়,২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় নুর আলমের বিরুদ্ধে মামলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় সংঘর্ষ, হামলা এবং প্রাণঘাতী আক্রমণের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল।মামলাগুলো দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে থাকেন।

মঙ্গলবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাহিগঞ্জ থানার একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ওসি মাইদুল ইসলাম বলেন, “নুর আলমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা চলমান রয়েছে। তাকে আইনের আওতায় আনতে দীর্ঘদিন ধরে অভিযান চালানো হচ্ছিল। অবশেষে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।”

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।মামলার অগ্রগতির জন্য আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এ গ্রেপ্তারকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করছেন। তবে পুলিশ বলছে, এটি সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ এবং মামলার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর নুর আলমের গ্রেপ্তার এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।স্থানীয়রা বলছেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হলে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে এবং এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে,সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আরও দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে সহিংসতা প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখতে পারে।

দীর্ঘ ২১ মাস আত্মগোপনে থাকার পর নুর আলমের গ্রেপ্তার রংপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।এখন নজর থাকবে আদালতের কার্যক্রম ও মামলার অগ্রগতির দিকে।

ডিএস./