কাঁঠালের কোয়া দিয়ে সাজানো সবুজ-সাদা পেস্ট্রি কেক। পাশে কাঁঠালের জালি কাবাব, পাকোড়া, নকশী পিঠা, চিপস, রুটি, কাঠি কাবাব, হালুয়া, সাসলিক ও বিভিন্ন ধরনের পিঠা। জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের স্টলে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন ঘিরে দর্শনার্থীদের ছিল ব্যাপক আগ্রহ।
রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বরে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শুরু হওয়া তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলায় দেশীয় ফলের পাশাপাশি ফলভিত্তিক নানান প্রক্রিয়াজাত পণ্য স্থান পেয়েছে। মেলা চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের স্টলে দেখা যায়, কাঁঠালের প্রায় ২০ ধরনের প্রক্রিয়াজাত পণ্য সাজানো রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- কাঁঠালের পিঠা, পুডিং, বিস্কুট, বড়া, কাপ কেক, পাটিসাপটা, আচার, কাটলেট এবং কাঁঠালের বিচির বারফি।
অধিদপ্তরের প্রতিনিধি আল আমিন সরকার জানান, উদ্যোক্তারা কাঁঠাল ও আমভিত্তিক এসব পণ্য তৈরি করে মেলায় এনেছেন। কাঁঠালের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে একটি কর্মসূচির আওতায় কাজ করা হয়েছে। এর ফলে কাঁঠালভিত্তিক পণ্য উৎপাদনকারী উদ্যোক্তার সংখ্যাও বেড়েছে।
স্টলে কথা হয় উদ্যোক্তা চুমকীর সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে জানান, গাজীপুরে তার এলাকায় প্রচুর কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। মৌসুমি ফল হওয়ায় সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি শুরু করেন। বর্তমানে সেসব পণ্য অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে কাঁঠালের কাশ্মীরি আচার, চিপস ও কাবাবের চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি।
মেলায় শুধু কাঁঠাল নয়, আম, তরমুজ, ডাবের পুডিংসহ বিভিন্ন ফলভিত্তিক খাদ্যপণ্যও প্রদর্শিত হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় ও অপ্রচলিত নানান ফলের সমারোহ দেখা গেছে বিভিন্ন স্টলে।
সকালে মেলা পরিদর্শন শেষে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশে ফল উৎপাদনে এক ধরনের বিপ্লব ঘটেছে। কাঁঠাল দিয়ে সিঙ্গারা, সমুসা, কাবাবসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি হচ্ছে, যেগুলোর পুষ্টিগুণও অনেক বেশি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের কাঁঠালভিত্তিক খাদ্যপণ্যের বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) স্টলে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন জাতের আম, আনারস, ড্রাগন ফল, সফেদাসহ নানান ফলের পসরা। এছাড়া গরান ফল, লতা ফল ও পশুর ফলের মতো অপ্রচলিত ফলও আকর্ষণ করেছে দর্শনার্থীদের।
অন্যদিকে ‘টেস্টি মাশরুম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্টলে মাশরুমের মিষ্টি এবং চার ধরনের ফ্লেভারের মাশরুম চিপস নিয়ে এসেছেন উদ্যোক্তা মেহেদি। তিনি বলেন, তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় এসব পণ্যে ক্রেতাদের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
দেওয়ান অ্যাগ্রো ফার্মের স্টলে ছিল ৯ ধরনের আমের পাশাপাশি কাঁঠাল, বেল ও ঢেউয়া। প্রতিষ্ঠানটির এক বিক্রয়কর্মী জানান, সব ফলই নরসিংদীর তাদের নিজস্ব খামারে উৎপাদিত।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, কাঁঠালের চেয়ে আমের উপস্থিতিই বেশি। ল্যাংড়া, আম্রপালি, নাগ ফজলি, বারি-৪, হাঁড়িভাঙা ও সূর্যপুরির মতো জনপ্রিয় দেশি জাতের পাশাপাশি থাই কাটিমন, পোকড়ি, হানিভিউ, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, মিয়াজাকি, আপেল ম্যাঙ্গো এবং কিং অব চাকাপাতসহ বিভিন্ন বিদেশি ও উন্নত জাতের আম প্রদর্শন করা হচ্ছে।
বিশাল স্টলগুলোতে সারিবদ্ধভাবে সাজানো ছিল নানান জাতের আম। আর পাশের বিএডিসি স্টলে বিদেশি খেজুর থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত দেশীয় ফলও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে।
মোহাম্মদপুর থেকে আসা আসলামুল হক জানান, তিনি প্রায় প্রতি বছরই এই মেলায় আসেন। এখানে বাজারের তুলনায় ভালো মানের ফল পাওয়া যায়।
ফলের পাশাপাশি মেলায় বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্যেরও আয়োজন রয়েছে। একাধিক স্টলে আম, জাম, আনারস ও লিচুসহ নানান ফলের জুস বিক্রি হচ্ছে। ৫০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এসব জুস। এছাড়া মাশরুমের কেক, নাড়ু, পিঠা, দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।
মেলায় মোট ৬৭টি স্টল অংশ নিয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও উদ্ভাবন তুলে ধরছে।
ডিএস./

























