প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সীতাকুণ্ডের মানুষকে ভালোবাসতেন এবং এই জনপদের মাটিতে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন।
গতকাল বুধবার (৫ই আগস্ট) উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসলাম চৌধুরী বলেন, ২০১২ সালে তার নেতৃত্বে সীতাকুণ্ডে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্রভাবে সারা দেশ অচল হয়ে পড়েছিল। এরপর তাকে গুমের চেষ্টা করা হয় এবং ২০১৬ সালে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘ নয় বছর কারাবন্দি রাখা হয়।
তিনি আরও বলেন, কারাগারে থেকেও আন্দোলনে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছিলেন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় বিএনপি, ছাত্রদল ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের জনগণের সঙ্গে মিশে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা পাঠিয়েছিলেন। ৫ই আগস্ট চট্টগ্রাম কারাগারের বাইরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সময় কারা কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা এবং বাইরে সংঘর্ষ বন্ধে বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আন্দোলনের সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ৫ আগস্ট কারাগার থেকে বের হননি; পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মুক্তি পান। মুক্তির পর সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রামের মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আজীবন জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের অবদানের প্রশংসা করে আসলাম চৌধুরী বলেন, তাদের ত্যাগকে কখনো খাটো করা যাবে না। একই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের অবদানও কম ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে তিনি আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের বিপক্ষে নয়। সীতাকুণ্ডের উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বরাদ্দ আনা হয়েছে, যার কার্যক্রম আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে। এছাড়া প্রতিবছর দুইজন জুলাই যোদ্ধা বা তাদের পরিবারের সন্তান এবং সীতাকুণ্ডের আরও দুইজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে ইউরোপে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিজয়ী প্রার্থী আসলাম চৌধুরী বলেছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীতাকুণ্ডের মানুষ আমাকে চট্টগ্রামের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত করেছেন। তাই কোনো ষড়যন্ত্র এ চট্টলার মানুষের বিজয় ছিনিয়ে নিতে পারবে না।
সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হন। দুপুর ১২টার দিকে আসলাম চৌধুরী সমাবেশে পৌঁছালে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সমাবেশ শেষে তার নেতৃত্বে একটি বিজয় র্যালি পৌরসভার সামনে থেকে শুরু হয়ে উত্তর বাজার পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে। পথে সড়কের দুই পাশে ও ভবনের ওপর থেকে সাধারণ মানুষ তাকে অভিবাদন জানান। র্যালিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশ ও র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সদস্য সচিব মোঃ মুরছালিন, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর, ছালামত উল্ল্যাহ, যুগ্ম- সদস্য সচিব ফজলুল করিম চৌধুরী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব সালেহ আহম্মদ ছলু, বদরুল ইসলাম বদরু, শাহাবুদ্দিন রাজু, দিদারুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী, ইউসুফ নিজামী, মুজাহের উদ্দিন আশরাফ, বখতিয়ার উদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান হিরু, কাজী এনামুল বারী, এড. আইনুল কামাল, আলাউদ্দিন মাসুম, ইসমাঈল হোসেন, অহিদুল ইসলাম চৌধুরী শরিফ, ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, কামরুল ইসলাম বাবলু, জিয়া উদ্দিনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।



















