ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও এতদিন গ্রেপ্তার হননি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাবেক সার্ভেয়ার মো. নুর চৌধুরী (৫২)। অবশেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া নুর চৌধুরী চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়।দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের ১ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ২৭৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এলএ শাখার সাবেক সার্ভেয়ার মো. নুর চৌধুরী মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গা মৌজায় ভুয়া মালিক সাজিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের ১ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ২৭৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি নুর চৌধুরীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করে দুদক। দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
পরে মামলাটির তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। ২০২৩ সালে আদালত দুদকের অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে সব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার আরও চারজন সার্ভেয়ার, দুজন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও একজন কানুনগো রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে নুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও তিনি আদালত ও পুলিশের কাছে এতদিন পলাতক ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের এলএ শাখায় দীর্ঘদিন যাবত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও তাহা আমলে নেওয়া হয় না এবং অভিযোক্তদের গুরুত্বপর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব দিয়ে সরকারী টাকা হরিলুট করা হচ্ছে । অদৃশ্য কারণে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে হয় না।
ডিএস./



















