ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কৃষকেরা। বন্যার পানিতে আমনের বীজতলা ও বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন উদ্যমে চাষাবাদে নেমেছেন তারা। কেউ আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত, আবার কেউ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জমিতে সবজি চাষ শুরু করেছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা জমি প্রস্তুত, আমনের চারা রোপণ ও সবজি আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলোতে পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত চাষাবাদ শুরু করেছেন তারা। অনেক কৃষক আগাম সবজি আবাদ করে বন্যার ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মাসে বন্যার পানিতে অনেকের আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। একই সঙ্গে সবজি ও অন্যান্য ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। ফলে নতুন করে বীজতলা তৈরি ও চাষাবাদে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে তাদের। এরপরও ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় মাঠে নেমেছেন কৃষকেরা।
কৃষক আবদুল করিম বলেন, “বন্যার পানিতে আমাদের বীজতলা ও সবজির অনেক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর আবার নতুন করে জমি তৈরি করেছি। এখন আমনের চারা রোপণের পাশাপাশি সবজি চাষ করছি। আশা করছি, এবার ভালো ফলন হলে বন্যার ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারব।”
আরেক কৃষক মো. ফজল করিম বলেন, “বন্যার কারণে অনেক টাকা ক্ষতি হয়েছে। বসে থাকলে তো আর ক্ষতি পোষানো যাবে না। তাই পানি নামার পরপরই জমিতে কাজ শুরু করেছি। আমনের পাশাপাশি দ্রুত ফলন পাওয়া যায় এমন সবজি চাষ করছি। ফসল ভালো হলে সংসারের খরচ চালানো এবং আগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।”
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়ার সব ইউনিয়নেই আমন ধানের চাষ হয়। বন্যার কারণে এবার প্রায় ৬০ হেক্টর আমন বীজতলা নষ্ট হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ টাকা। এতে তিন হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আইয়ুব আলী বলেন সাম্প্রতিক বন্যায় যাদের ফসল নষ্ট হয়েছে তারা নতুন করে চাষাবাদ করছেন, কেউ সবজি চাষে ব্যস্ত আবার কেউ কেউ আমন ধানের চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আমাদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি
ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় কৃষকরা সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন।
সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, “বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকেরা নতুন করে বীজতলা তৈরি শুরু করেন। বর্তমানে সাতকানিয়ায় প্রায় ৯৬৭ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে আমনের চাষাবাদ গত বছরের মতোই হবে বলে আশা করছি। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন গত বছরের তুলনায় বাড়তে পারে।”
তিনি আরও জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও কৃষকেরা দ্রুত আমন ও সবজি চাষে ফিরে এসেছেন। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে উপজেলা কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।
কৃষকেরা বলছেন, বন্যার ক্ষতি বড় হলেও চাষাবাদই তাদের প্রধান অবলম্বন। তাই ক্ষতির কথা ভুলে নতুন করে ফসল ফলানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা। আমন ধান ও সবজির ভালো ফলন হলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন তাদের।
সাতকানিয়ার মাঠজুড়ে তাই এখন একদিকে আমন ধানের চারা রোপণের ব্যস্ততা, অন্যদিকে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সবজি চাষের তোড়জোড়। দুর্যোগের ক্ষত মুছে নতুন ফসলের আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন কৃষকেরা।
ডিএস./



















