০৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৫১ লাখ টাকার পণ্য আটক, জব্দ ১,৮০২ কার্টন সিগারেট

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট ও আইফোনের চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ সময় দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের তিন যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৭৮২ কার্টন সিগারেট ও ১৩টি আইফোন উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে বিমানবন্দরের ব্যাগেজ বেল্ট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেটের চালান আটক করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস এরাইভাল হলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কাস্টমস সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের BG-148 ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তিন যাত্রীর লাগেজ থেকে ৭৮২ কার্টন বিদেশি সিগারেট এবং ১৩টি আইফোন উদ্ধার করা হয়।

আটক তিন যাত্রীর মধ্যে রয়েছেন ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মঈনুল আবদিন, আব্দুল মান্নান এবং ফেনী সদর উপজেলার নুরুল আলম রিয়াদ।

অভিযানে একই সময়ে ব্যাগেজ বেল্ট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন বিদেশি সিগারেটের একটি বড় চালান পাওয়া যায়। যাত্রীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ৭৮২ কার্টন এবং পরিত্যক্ত ১ হাজার ২০ কার্টনসহ মোট ১ হাজার ৮০২ কার্টন সিগারেট আটক করা হয়েছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হিসাবে আটক সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৬ লাখ ৪ হাজার টাকা। পাশাপাশি উদ্ধার করা ১৩টি আইফোনের আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে আটক সিগারেট ও আইফোনের আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫১ লাখ ৪ হাজার টাকা।

কাস্টমস সূত্র আরও জানায়, আটক পণ্যগুলো Detention Memorandum (DM) মূল্যে জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্য পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হবে।

এদিকে, আটক তিন যাত্রীকে বিমানবন্দরের কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স ও কাস্টমস শাখার পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমদানি নিষিদ্ধ বা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি ও সন্দেহজনক চালানের ওপর বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং অবৈধ পণ্যের প্রবেশ বন্ধে বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থা, কাস্টমস, কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে যাতে কোনো ব্যক্তি অবৈধ বা আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য দেশে প্রবেশ করাতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডিএস.

ট্যাগ :

চলতি বছরেই মধ্যেই পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৫১ লাখ টাকার পণ্য আটক, জব্দ ১,৮০২ কার্টন সিগারেট

প্রকাশিত : ০৩:২২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট ও আইফোনের চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ সময় দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের তিন যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৭৮২ কার্টন সিগারেট ও ১৩টি আইফোন উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে বিমানবন্দরের ব্যাগেজ বেল্ট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেটের চালান আটক করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস এরাইভাল হলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কাস্টমস সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের BG-148 ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তিন যাত্রীর লাগেজ থেকে ৭৮২ কার্টন বিদেশি সিগারেট এবং ১৩টি আইফোন উদ্ধার করা হয়।

আটক তিন যাত্রীর মধ্যে রয়েছেন ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মঈনুল আবদিন, আব্দুল মান্নান এবং ফেনী সদর উপজেলার নুরুল আলম রিয়াদ।

অভিযানে একই সময়ে ব্যাগেজ বেল্ট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন বিদেশি সিগারেটের একটি বড় চালান পাওয়া যায়। যাত্রীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ৭৮২ কার্টন এবং পরিত্যক্ত ১ হাজার ২০ কার্টনসহ মোট ১ হাজার ৮০২ কার্টন সিগারেট আটক করা হয়েছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হিসাবে আটক সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৬ লাখ ৪ হাজার টাকা। পাশাপাশি উদ্ধার করা ১৩টি আইফোনের আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে আটক সিগারেট ও আইফোনের আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫১ লাখ ৪ হাজার টাকা।

কাস্টমস সূত্র আরও জানায়, আটক পণ্যগুলো Detention Memorandum (DM) মূল্যে জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্য পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হবে।

এদিকে, আটক তিন যাত্রীকে বিমানবন্দরের কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স ও কাস্টমস শাখার পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমদানি নিষিদ্ধ বা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি ও সন্দেহজনক চালানের ওপর বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং অবৈধ পণ্যের প্রবেশ বন্ধে বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থা, কাস্টমস, কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে যাতে কোনো ব্যক্তি অবৈধ বা আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য দেশে প্রবেশ করাতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডিএস.