ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের আওতাধীন কেপিআই ভুক্ত এলাকায় অবস্থিত ডিএমপির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানা।
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর নতুন রুপে ফিরছে ডিএমপির প্রতিটি থানার সার্বিক কার্যক্রম। তার মধ্য বাদ যায়নি ডিএমপি গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই ভুক্ত থানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানা।
গত ২০ এপ্রিল ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. আমীর খসরু স্বাক্ষরিত এক আদেশে ডিএমপি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানার দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার’কে।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা একসময় যা ‘চ্যালেঞ্জপূর্ণ ক্রাইম জোন’ হিসেবে পরিচিত ছিল সেখানে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার মানউন্নয়নে খুব অল্প সময়ে এক অবিশ্বাস্য সাফল্য এনেছেন বিমানবন্দর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার।তাঁর পরিশ্রম নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ফলে কেবল এলাকার অপরাধ চিত্রই পাল্টে যায়নি, বরং বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
ওসি হিসেবে কামরুল হাসান তালুকদারের নির্দেশে থানা এলাকায় অপরাধ দমন, জটিল মামলার রহস্য উদঘাটন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কামরুল হাসানের পদক্ষেপে পাল্টে গেল বিমানবন্দর থানা এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে বর্তমান সময়ে থানাধীন এলাকায় চুরি ছিনতাইকারীদের দাপট কমে গেছে। অপরাধী যেহোক গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিমানবন্দর থানার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশনে আওতাধীন এলাকা । অপরাধ দমনে সিভিল এভিয়েশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ছিনতাই প্রবণ এলাকা কাওলা কবরস্থান এলাকায় দেয়াল স্থাপন এবং এফডিইই এক্সপ্রেসওয়ের সাথে সমন্বয় করে পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (Key Point Installation) এলাকায় নাশকতা ও অন্তর্ঘাতমূলক কার্যকলাপ রোধে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের মিছিল ও সভা সমাবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।হকার ও ইজিবাইক উৎপাত বন্ধ করে ১নং সেক্টর এলাকায় হকার উচ্ছেদ করে জনসাধারণের চলাচলের পথ সুগম করা এবং অবৈধ অটোরিকশা উৎপাত কেপিআই এলাকাতে বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন।
সুধু তাই নয় কেপিআই ভুক্ত এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ ও ভিক্ষাবৃত্তি নিরসনে থানা এলাকার বিভিন্ন হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ রোধ করেছেন তিনি।একইসঙ্গে কেপিআই এলাকা থেকে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে নিরসন করার চেষ্টা ও চালিয়ে যাচ্ছেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা হতে বিদেশগামী যাত্রীদের সাথে প্রতারণাকারী চক্রের বেশ কয়েকজন কে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনেছেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ফিল্ম স্টাইলে এয়ারপোর্ট থানাধীন এলাকা প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের ফিলিং স্টেশনে ডাকাতি করে ১ কোটি ২১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা লুটের ঘটনায় দিনরাত না ঘুমিয়ে র্যাব-ডিবি পুলিশের সাথে সমন্বয় করে ৭২ ঘন্টার মধ্য নগদ টাকা অস্ত্র ও লুন্ঠিত ১২ লাখ টাকাসহ ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত ৫ জনকে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেপ্তার করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) (ডিবি)। এছাড়া বিমানবন্দর থানা পুলিশের সহায়তায় উক্ত ডাকাতির মাস্টার মাইন্ড ডাকাত সর্দার জলিল কে ৫০ লাখ টাকা সহ গ্রেফতার করেছে র্যাব। ডাকাতির ঘটনায় লুন্ঠিত মোট ৬২ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাত ভাই তাসীন আক্তার হক ফিলিং স্টেশনটির স্বত্বাধিকারী। তার মা প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন। ক্লুলেস ডাকাতি মামলার আসামিদের দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন ওসি কামরুল হাসান তালুকদার ।
সুধু তাই নয় বিমানবন্দর থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে থানাধীন এলাকায় সকল রকম অপরাধ অনিয়ম চাঁদাবাজ ও মাদককারবারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। থানাধীন এলাকায় রাতের অন্ধকারে সিভিল পোশাকে সশরীরে টহল দিয়ে উক্ত এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের খোঁজখবর নেন ওসি কামরুল হাসান তালুকদার।
ওসি কামরুল হাসান তালুকদারের আলোচিত ও প্রশংসিত কাজের মধ্য আরেকটি হলো গত ৬ জুলাই বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে পড়ে থাকা সুবিধাবঞ্চিত ৪০ থেকে ৪৫ জন পথশিশুদের পূনর্বাসনের জন্য থানায় নিয়ে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও দেশ জুড়ে প্রশংসায় ভাসলেন।
ডিএমপির কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের নির্দেশনায় ও উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার(ডিসি) তারেক বেগ এর তত্ত্বাবধানে বিমানবন্দর থানাকে ঢেলে সাজাতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন ওসি কামরুল ইসলাম তালুকদার।
তার সততা ও বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তা এবং মেধার বিকাশে তার দায়িত্বরত গুরুত্বপূন্য বিমানবন্দর থানার আওতাধীন এলাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রাঙ্গণ,রাজধানীর সবচেয়ে বিলাসবহুল মার্কেট ক্রাউন প্লাজা,কাওলা, আশকোনা, এবং কুর্মিটোলা এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ,চোর-ডাকাতের উৎপাত ও দখলবাজ,চাঁদাবাজদের হাত থেকে বিমানবন্দর এলাকার নিরীহ মানুষদের মুক্ত করেছেন।
এছাড়াও ক্রাউন প্লাজা কর্তৃকপক্ষের সাথে সমন্বয় করে ক্রাউন প্লাজায় সিসিটিভি সবসময় পর্যবেক্ষণে করবে থানার এক পুলিশ সদস্য। তাছাড়া এয়ারপোর্ট গোলচত্বরের এলাকা সবচেয়ে হাই রেঞ্জের ক্যামরা বসানোর কাজ চলো ।যেই ক্যামরায় চোর ছিনতাইকারী থানাধীন যে এলাকায় ছিনতাই করবে এয়ারপোর্ট পুলিশ সদস্য মাইকিং করে বলে দিবে ঐ এলাকায় ছিনতাইকারী ডুকেছে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে এই ধরনের জনগুরুত্বপূর্ণ কাজের ও উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তার চোখে ধনী-গরিব,রিক্সা চালক সব শ্রেণিপেশার মানুষ সমান। তিনি একজন সৎ ও অন্যায়ের কাছে আপোষহীন পুলিশ অফিসার।
এ বিষয়ে ওসি কামরুল হাসান তালুকদার জুয়েলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বর্তমান সরকার গণমানুষের বন্ধু,সরকার আমাদের পাঠিয়েছেন মানুষের মুখেহাসি ফোটাতে, মানুষের সাথে মিলেমিশে তাদের সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করে নিতে। আমরা মানুষের অতন্ত্র প্রহরী, আমাদের কাজ হচ্ছে দেশকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চাদাঁবাজ, ইভটিজার মুক্ত করে মানুষের মাঝে শান্তি ফিরিয়ে আনা।সর্বস্তরের জনগন যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেরা আইন মেনে চলা এবং অন্যকে আইন-মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা।
ডিএস./





















