০৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বিজ্ঞান মেলা

উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিজ্ঞান মেলা-২০২৬’। গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে তাদের বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করে।

“জ্ঞান বিজ্ঞানে করবো জয়, সেরা হবো বিশ্বময়”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলায় শিক্ষার্থীদের তৈরি নানা ধরনের ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল প্রকল্প দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে পুরো মেলা প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উপসচিব (সমন্বয়) মোহাম্মদ আজিজুল মওলা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন আকতার।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আজিজুল মওলা বলেন, বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের একটি বিষয় নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন বিষয় নিয়ে গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞান মেলায় শিক্ষার্থীরা দুর্যোগ মোকাবিলা, সৌরশক্তির ব্যবহার, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণসহ সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কীভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়, তার ধারণা তুলে ধরে।

মেলায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রকল্প সম্পর্কে আগত অতিথি, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের বিস্তারিত ধারণা দেয়। বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যপ্রণালী, ব্যবহারিক উপযোগিতা এবং ভবিষ্যতে এগুলো আরও উন্নত করার সম্ভাবনাও তারা তুলে ধরে। শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনা উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।

আয়োজকরা জানান, পাঠ্যবইয়ে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, গবেষণামুখী মানসিকতা এবং উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়।

শিক্ষকরা বলেন, শিশু-কিশোরদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে বিজ্ঞান মেলার মতো আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি হাতে-কলমে বিভিন্ন প্রকল্প তৈরির সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানকে আরও সহজ ও বাস্তবভাবে উপলব্ধি করতে পারে।

বিজ্ঞান মেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিদর্শন করে অতিথি ও দর্শনার্থীরা তাদের উৎসাহিত করেন। দিনব্যাপী এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রমজানে ১১ পণ্যের এলসি খোলা সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বিজ্ঞান মেলা

প্রকাশিত : ০৪:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিজ্ঞান মেলা-২০২৬’। গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে তাদের বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করে।

“জ্ঞান বিজ্ঞানে করবো জয়, সেরা হবো বিশ্বময়”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলায় শিক্ষার্থীদের তৈরি নানা ধরনের ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল প্রকল্প দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে পুরো মেলা প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উপসচিব (সমন্বয়) মোহাম্মদ আজিজুল মওলা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন আকতার।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আজিজুল মওলা বলেন, বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের একটি বিষয় নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন বিষয় নিয়ে গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞান মেলায় শিক্ষার্থীরা দুর্যোগ মোকাবিলা, সৌরশক্তির ব্যবহার, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণসহ সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কীভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়, তার ধারণা তুলে ধরে।

মেলায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রকল্প সম্পর্কে আগত অতিথি, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের বিস্তারিত ধারণা দেয়। বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যপ্রণালী, ব্যবহারিক উপযোগিতা এবং ভবিষ্যতে এগুলো আরও উন্নত করার সম্ভাবনাও তারা তুলে ধরে। শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনা উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।

আয়োজকরা জানান, পাঠ্যবইয়ে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, গবেষণামুখী মানসিকতা এবং উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়।

শিক্ষকরা বলেন, শিশু-কিশোরদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে বিজ্ঞান মেলার মতো আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি হাতে-কলমে বিভিন্ন প্রকল্প তৈরির সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানকে আরও সহজ ও বাস্তবভাবে উপলব্ধি করতে পারে।

বিজ্ঞান মেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিদর্শন করে অতিথি ও দর্শনার্থীরা তাদের উৎসাহিত করেন। দিনব্যাপী এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএস./