ঐতিহ্যবাহী নীলফামারী সরকারী কলেজ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শিক্ষার পরিসর,তার চেয়ে ও দ্রুত বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি সেভাবে। কলেজের অধ্যক্ষই স্বীকার করলেন শিক্ষক সংকট ও আবাসন, যানবাহন, একাডেমিক ভবন সংকটের কথা। নীলফামারী সরকারী কলেজে নেই একাডেমিক ভবন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস সংকটের কারণে এবং বিভিন্ন বিভাগে সৃষ্ট পদ অনুযায়ী শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। এছাড়াও ছাত্রাবাস না থাকায় নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থ সংকটে মধ্যে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বর্তমানে প্রায় ১৮হাজার শিক্ষার্থী এ কলেজে অধ্যায়ন করছে। এর মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫ হাজার এবং প্রাইভেট শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৩ হাজার। কলেজটি ১৯৫৮ সালের ১৬ মে ২.৭৮ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তিতে ১৯৭৯ সালের ৭ মে কলেজটি সরকারীকরণ করা হয়। শিক্ষা প্রসারে বর্তমানে কলেজটি ২৩.১৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। ১৪ টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু থাকলেও মাস্টার্স বিষয়ে ১২টি কোস চালু রয়েছে। প্রানী বিদ্যা ও পদার্থ দুটি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু না থাকায় এ দুটি বিষয়ে দুর্ভোগ বেড়েছে শিক্ষার্থীদের।
কলেজ সুত্র জানায়, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ মিলে ৮৩ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৬৬ জন শিক্ষক। চাহিদা অনুযায়ী ২৩ পদে শিক্ষক সংকট থাকায় ব্যহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এরমধ্যে সংযুক্ত শিক্ষক রয়েছে ৬ জন। শিক্ষক সংকট রয়েছে ইংরেজী বিভাগে ৪ জন, অর্থনীতি বিভাগে ৩ জন, ব্যবস্থাপনা বিভাগে ৩ জন, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে ৩ জন, বাংলা বিভাগে ২ জন, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে ২ জন, পদার্থ বিজ্ঞান ২ জন ইতিহাস বিভাগে ১ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ১ জন, প্রাণী বিদ্যা বিভাগে ১ জন ও গণিত বিভাগে ১ জনসহ ২৩ টি পদ শুন্য রয়েছে।
এছাড়া রয়েছে ছাত্রাবাস ও ছাত্রী নিবাস সংকট।কলেজের একটি ছাত্রাবাস রয়েছে সেটিরও বেহাল অবস্থা। যে কোন সময় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও অনেক শিক্ষার্থী বাড়তি অর্থ ব্যয় করে বাইরের বিভিন্ন ছাত্রাবাসে থাকছেন। এতে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। অপরদিকে কলেজে দুটি ছাত্রী নিবাস থাকলেও যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল তার মধ্যে একটি সংস্কার করা জরুরী হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীর অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলার প্রায় ৫ টি উপজেলা থেকে অনেক শিক্ষার্থী এই কলেজে লেখা পড়া করেছে। অনেকে দুরদুরান্ত থেকে প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত করে। এতে শিক্ষার্থীদের অর্থ এবং সময় অপচয় হয়। কলেজ বাসের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।
নীলফামারী সরকারী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সারাবান তহুরা বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী শ্রেনীকক্ষ ও আসন না থাকায় অনেক সময় আমাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অন্যদিকে একাডেমিক ভবন না থাকায় শ্রেনী কক্ষের অভাবে যথাসময়ে পাঠদান করাতে পারছেন না শিক্ষকরা।ফলে সময় পরিবর্তন করে তা পুরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
নীলফামারী সরকারী কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক মো. পায়েলুজ্জামান রক্সি বলেন, আমরা চাই শিক্ষার্থীদের সুবির্ধাথে কলেজ ছাত্র সংসদ চালু করা হোক। তাহলে শিক্ষার্থীদের দাবী আদায়ে ভুমিকা রাখতে পারবে। কলেজে ছাত্রাবাস সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা বাইরের বিভিন্ন ছাত্রাবাসে থাকছেন এতে তারা অনেক সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন। এছাড়াও কলেজে দুটি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালুর দাবী জানিয়ে বলেন, আমরা নীলফামারী সরকারী কলেজের সমস্যা গুলো জেলা বিএনপির অভিভাবক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন ভাইয়ের কাছে তুলে ধরবো।
নীলফামারী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ এ. কে. এম. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে কলেজটি সুনাম অর্জন করে আসছে। বর্তমানে ২৩ টি পদে শিক্ষক সংকট রয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক কম রয়েছে। পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাসও নেই। দুটি ছাত্রী নিবাস থাকলেও একটির অবস্থা করুন। ছাত্রাবাসটি জরুরী বর্তমানে যেটি রয়েছে সেটি অনেক পুরাতন বিল্ডিং যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। দুরদুড়ান্ত থেকে এই কলেজে অনেক শিক্ষার্থী আসে তাদের পরিহনের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত খরচ কমে আসবে। শিক্ষক ও ছাত্রাবাস সংকট, একাডেমিক ভবন যাতায়াত ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ডিএস./



















